“ভোট পূর্ণিমার নিশি নির্মল আকাশ , জোর কদমে বহিতেছে ভোটের বাতাস।“

আর বাতাসে ভাসছে নানান রং। কোথাও রক্তাভ লাল আকাশ , তো কোথাও আবার ঘাসফুল , পদ্মফুলের ছড়াছড়ি। কেউ বলছে খেলা হবে, কেউ বলছে লড়াই হবে। আবার কেউ প্রতিশ্রুতির বন্যায় ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে জনতা কে। বক্তব্য কিন্তু সবারই এক , বিগত কয়েক দশক যাবত জমিয়ে রাখা ঝুড়ি ঝুড়ি উন্নয়ন এবারে থলি থেকে বের করে ছড়িয়ে দেবে মানুষের মধ্যে। কিন্তু মানুষ কি আদেও সেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি কুড়িয়ে সমস্ত আশা ঢেলে দেবে ব্যালট বাক্সে? কি ভাবছে মানুষ?

ইতিমধ্যে বাংলায় পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব মেদিনীপুর , বাঁকুড়া ও ঝাড়গ্রামে প্রথম দফার নির্বাচন সমপন্ন হয়েছে গত ২৭শে মার্চ । আগামী একমাস ধরে চলবে বাংলায় ভোট পর্ব। সবথেকে বড় গণতান্ত্রিক উৎসবে দেশের জন্য সঠিক চিহ্ন  নির্বাচনের যুদ্ধে অনেকেই ঝোকেন “নোটা” (NOTA) র দিকে। কিন্তু নোটা (NOTA) বা None of the above বিকল্প চিহ্ন আপনার গ্ণতান্ত্রীক অধিকার প্রতিষ্ঠার ভীতে ঠিক কটা ইঁট পোতে?  ব্যালট বাক্সে সিদ্ধান্ত রাখার আগে তা জেনে নেওয়া যাক।

নোটা (None of the above , NOTA ) কী?

“উপরের কোনওটি নয়” বিকল্প যা ভোটারকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বী সমস্ত প্রার্থীকে প্রত্যাখান করার  অধিকার দেয়।

যদি কোনও ভোটার ইভিএম-মেশিনে নোটা বিকল্পটি বেছে নেন তার মানে  ভোটার কোনও দলের  পক্ষে ভোট দেওয়া পছন্দ করেন নি।

পি ইউ সি এল (PUCL) বনাম ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়া (Union of India)  জাজমেন্ট ২০১৩-এ সুপ্রিম কোর্ট  প্রত্যক্ষ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে নোটা ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন । এই বিকল্পটির মাধ্যমে লোকসভা এবং সংশ্লিষ্ট রাজ্য সমাবেশগুলিতে  ভোটার নাগরিক নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা কোনও প্রার্থীকে ভোট না দেওয়া বেছে নিতে পারেন। যদিও এই ভোটের কোনও নির্বাচনী মূল্য থাকে না। নোটা বিকল্পটি প্রথম  চারটি রাজ্যে (ছত্তিশগড়, মিজোরাম, রাজস্থান এবং মধ্য প্রদেশ) এবং দিল্লির কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে অনুষ্ঠিত ২০১৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ব্যবহৃত হয়েছিল । পরবর্তীকালে নোটা ভারতীয় ভোটারদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।

নোটার সুবিধে


এই বিকল্প ভারতের সকল নাগরিককে কোনও প্রার্থীর পক্ষে ভোট না দেওয়ার  সুযোগ করে  দেয়। মানুষকে সম্পূর্ণরূপে তার গণতান্ত্রীক স্বাধীনতা (Freedom of democracy) ভোগ করার অধিকার দেয়।

এটি ভোটদানের শতাংশ বৃদ্ধি করে কারণ যে লোকেরা কাউকে ভোট দিতে চায় না তারাও ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারে।

একটি বিকল্প পদ্ধতি থাকায় , যোগ্যতম পার্থী নির্বাচনের পথ সুগম হয়।

নোটার অসুবিধে

ভোটারদের দ্বারা অপব্যবহার করা যেতে পারে যারা সহজেই কট্টরপন্থা দ্বারা চালিত হয় এবং তাদের কাছে উপলব্ধ বিকল্পগুলি সাবধানতার সাথে দেখেন না – কম পরিচিত তবে যোগ্য প্রার্থীদের উপেক্ষা করা যেতে পারে, এবং নোটার  কোনও নির্বাচনী মূল্য না থাকায় অনাকাঙ্ক্ষিত প্রার্থীরা ক্ষমতায় আসতে পারেন।

নোটার নির্বাচনী মূল্য অনুপস্থিতিতে পরিচ্ছন্ন রাজনীতি এবং অবিচ্ছেদ্য প্রার্থীদের দিকে প্রক্রিয়াটি ধীর গতিতেএগোবে।

যদি নোটার চেয়ে কম ভোট প্রাপ্ত প্রার্থীদের পুনরায় নির্বাচন করার এবং প্রত্যাখ্যান করার ক্ষমতা দেওয়া হয় তবে এই প্রক্রিয়াটি আরও দ্রুত হবে এবং তাত্ক্ষণিক বা কমপক্ষে দ্রুত ফলাফলগুলি পছন্দ করা লোকদের পক্ষে এটি আরও আবেদনময়ী হবে।

রাজনৈতিক দলগুলি বিশেষত ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলগুলির বিরুদ্ধে অপব্যবহার করতে পারে – বিরোধী দল ভোটারদের নোটায় ভোট   দেওয়ার  জন্য ক্ষমতাসীন দল সম্পর্কে প্রচুর নেতিবাচক মতামত তৈরি করতে পারে, বিশেষত বিরোধী দলগুলি যদি পর্যাপ্ত বিশ্বাসযোগ্যতার অভাব থাকে।

নির্বাচনী মূল্য না থাকা সত্বেও এই বিকল্প ব্যাবস্থা কেন ?

নোটার উদ্দেশ্য হ’ল নির্বাচনকে আরও গণতান্ত্রিক – অবাধ ও সুষ্ঠু করা। প্রতিদ্বন্দ্বী বা রাজনৈতিক দলগুলি বিরোধী হিসাবে সমান নেতিবাচক বলে মনে হয় , এইসব ক্ষেত্রে যেকোনো একটি দলকে  নির্বাচন করা কঠিন। নোটা জনগণকে এমন পরিস্থিতিতে তাদের ভোট দেওয়ার অনুমতি দেয়।

নোটার মাধ্যমে, ভোটাররা রাজনৈতিক দলগুলিকে তাদের প্রার্থী পরিবর্তন করতে বাধ্য করতে পারে।

নোটার বিরুপ প্রতিক্রিয়া


একটি গণতন্ত্র সবাইকে নির্দ্বিধায় নির্বাচন – প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ দেয়। ভোটারদের ভোট দেওয়ার সময় তাদের অবশ্যই পর্যাপ্ত পছন্দ থাকতে হবে তা নিশ্চিত করার জন্য এটি।

কাউকে অবশ্যই কিছু মানদণ্ড পূরণ করতে হবে এবং কিছু জনসমক্ষে ঘোষণা করতে হবে – এর পরে সে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পুরোপুরি অধিকারী। নোটায় ভোট দেওয়ার অর্থ  দলগুলিকে তাদের প্রার্থী পরিবর্তন করার দাবি করা, এর ফলে  প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রতিটি ব্যক্তির অধিকারকে ব্যাহত করে।

নোটার সাহায্যে, ভোটার সহজেই  একটি আদর্শ বা রাজনৈতিক দল বাছাইয়ের কাজ থেকে পালাতে পারেন। এটি কেবল অলসতা নয়, তার প্রতিবন্ধকতা। একটি  দল পছন্দ না করা একটি দল পছন্দ করার চেয়ে সর্বদা সহজ।

এছাড়াও,  জনগণ নিজের পক্ষে দাঁড়াতে এবং নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার – তাদের নিজস্ব স্বর উত্থাপনের ইচ্ছায়  বাধা দেয়। এটি গণতন্ত্রের চেতনাটিকে অধঃপতিত করে – অন্যকে পরিবর্তনের পরিবর্তে পরিবর্তনের প্রত্যাশার মাধ্যমে।

অতএব, এবার নির্বাচনে উপেক্ষার পরিবর্তে উদযাপন হোক বিচার বুদ্ধির। নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে দেশের জন্য সঠিকটা বেছে

লেখা-ঈশানী ধর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here