হেডলাইন দেখে আঁতকে উঠবেন না , আমি  সুস্থ মস্তিষ্কেই কথাটা বললাম। আর বলার কারন ‘ওয়ান লাভ মিডিয়ার ‘ নতুন শর্টফিল্ম, শেষ বেলায়। চন্দ্রা, যে বিয়ের পিঁড়িতে বসবে আর কিছুক্ষণের মধ্যে, হঠাৎ নতুন জীবনের কথা ভেবে নার্ভাস হয়ে পড়ে। আর তখন সে ডাকে তার প্রাক্তন প্রেমিক  অর্পিতকে , যে আবার সেই বিয়ের ফোটোগ্রাফার। এর পর কি হতে পারে? গতে বাঁধা গল্পের মতন একদমই না। না এখানে অর্পিত আর চন্দ্রার পুরনো প্রেম জেগে ওঠে, না এখানে একে ওপরের প্রতি মন কষাকষি হয়। এখানে হঠাৎ ফুটে ওঠে সেই বন্ধুত্ব, যা হয়ত ভালোবাসা আর অভিমানে চাপা পড়ে গেছিল। আর সেখানেই এই গল্পের সার্থকতা। হাসি মজা দিয়ে গল্পের শুরু হলেও , আবেগ ও খারাপ লাগা এক ইঞ্চি জায়গা নিয়ে রয়ে গেছে গল্পের ভিতরে। আর সেখানেই গল্পের শেষে দর্শক অজান্তেই হেসে ওঠে।  সাড়ে এগারো মিনিটের এই গল্পে আপনি একবারও স্কিপ করার কথা ভাববেন না। চন্দ্রা ও অর্পিত এর চরিত্রে অভিনয় করেছেন লহরী চক্রবর্তী অরুণাভ দে। লহরী এর আগে টেক কেয়ার নামে একটি ভাইরাল শর্ট ফিল্ম এ অভিনয় করেছিলেন।

অনেকদিন পর পর্দায় তাকে বেশ লাগল। শুরুতে অভিনয়ে একটু হঠকারিতা ফুটে উঠলেও, পরে তিনি বেশ চরিত্রে ঢুকে যান। আর অরুণাভ হল এই গল্পের সবচেয়ে বড় সম্পদ। কমিক টাইমিং থেকে ইমোশনাল দৃশ্য, সবেতেই তিনি যথাযথ অভিনয় করেছেন। ওয়ান লাভ মিডিয়াকে ধন্যবাদ , এইরকম একজন যুবা অভিনেতাকে সামনে আনার জন্য। এ ছাড়াও অভিনয় করেছেন অভিজ্ঞান চ্যাটার্জী দেবর্ষি । ছবিটির ক্যামেরা করেছেন সায়ন চন্দ। কয়েকটা দৃশ্যে অহেতুক কম্পন ছাড়া , ওনার কাজ ছাপ ছেড়ে গেছে। সম্পাদনা ও রং চড়িয়েছেন পরিচালক রজত সাহা নিজেই।

তবে সবচেয়ে বড় সাপোর্ট এই ছবির জন্য, আবহ সঙ্গীত। শ্রীমান – সুনীতের আবহ সঙ্গীত মণ ছুঁয়ে যায়। সব মিলিয়ে যে বিশেষ ভালোলাগা ছেড়ে যায় ছবিটি, সেটা এর আগে টিভিফ এর ভিডিওগুলি তে আমরা পেয়েছি। আশা করি এই পরিচালক – অভিনেতা জুটি সেই ভালোলাগা আমাদের আরো উপহার দেবে। ছবিটি ওয়ান লাভ মিডিয়ার ইউটিউব চ্যানেলে বিনামূল্যে দেখা যাচ্ছে।

Review By – স্বর্ণালী ঘোষ

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here