চাকরির জন্য বিরোতি নিয়েছিলেন অভিনয় জগৎ থেকে, আবার ওয়ান লাভ মিডিয়ার হাত ধরে কাম ব্যক করলেন “শেষ বেলায়” শর্ট ফিল্মের নায়িকা লহরী। কেমন ছিল এতদিন পর ক্যামেরার সামনে আসার অভিজ্ঞতা? মর্মকুটির পেজের সাথে আলাপচারিতার মধ্য দিয়ে গল্পের ঝুলি খুললেন লহরী।

নমস্কার লহরী। অনেকদিন পর আপনার সাথে ইন্টারভিউ করছি। শেষবার হয়তো “টেক কেয়ার” এর সময়। তারপর আজ “শেষ বেলায়”,  মাঝে এতটা গ্যাপ এর কারন কি? 

লহরী –

হ্যাঁ, সত্যিই অনেকদিন পর। “টেক কেয়ার” এর পর আমি আরও দুটো কাজ করেছিলাম, কিন্তু তারপর জীবনটা খানিকটা বদলে গেল। গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে আমি একটা চাকরি পাই। ওই জগৎটা, ওই জীবনটা আমার কাছে খুব নতুন ছিল। ওই নতুন জীবনযাত্রায় নিজেকে অভ্যস্ত করতে বেশ খানিকটা সময় লেগে গেলো। কিন্তু এই লকডাউনে বেশ খানিকটা সময় পেলাম ভাবার জন্য,শেষ অব্দি সিদ্ধান্ত নিলাম আবার অভিনয় করার। আর তার পরই এই “শেষ বেলায়”।

হঠাৎ “ শেষ বেলায় “ বেছে নেওয়ার কারন কি, কামব্যাকের জন্য? 

লহরী –

গল্পটা রজত যখন আমায় শোনায় আমার খুব মজা লেগেছিল। চরিত্রটার সাথে নিজের বেশ মিল খুঁজে পেয়েছিলাম,  তাই মনে হল আই সুড ডু ইট।

শুনেছি পরিচালক ও ওয়ান লাভ মিডিয়ার অন্যতম কর্ণধার রজত সাহার সাথে কোনো একটা ঝগড়া বিবাদের জন্য আপনি নাকি “টেক কেয়ার” এর পর আর কোনো কাজ ওয়ান লাভ মিডিয়ার সাথে করেননি,  এটাকি সত্যি?

লহরী –

“টেক কেয়ার” এর পর রজত নিজে ওয়ান লাভ মিডিয়ার জন্য কোনো শর্ট ফিল্ম বানায়নি। “পাতা ঝরার দিনে” করার আগেও আমার সাথে ওর কথা হয়েছিল, কিন্তু তখন আমি ফ্লাইটস নিয়ে খুব ব্যাস্ত। সত্যি বলতে তখনও ভাবিনি যে আবার অভিনয় ফিরতে পারব।

আর ঝগড়া!! হা হা, রজত আবার ঝগড়া করতে পারে নাকি? আর আমি তো একদমই ঝগড়ুটে নই।

শেষ বেলায়” সিনেমায় তো চন্দ্রার বিয়ে নিয়ে এত হইচই। এই চন্দ্রার চরিত্র টার সম্পর্কে কিছু বলুন।

লহরী –

চন্দ্রা খুব প্র্যাকটিকাল, সোজাসাপটা একটা চরিত্র। আর সেই জন্যই নিজের সাথে মেলাতে পেরেছি চরিত্র টাকে।

অরুণাভ দে বেশ পরিচিত মুখ ওয়েব জগতে। কেমন লাগলো কাজ করে ওনার সাথে? 

লহরী –

অরুণাভর সাথে কাজ যখন শুনলাম আমার ভালোই লেগেছিল। ভাবলাম এখন ও বেশ পপুলার ওয়েব জগতে, তাই ওর সাথে কাজ করার সুবাদে আমারও একটু প্রমোশন হয়ে যাবে আরকি, জোকস অ্যাপার্ট।  অরুণাভ খুব স্বতঃস্ফূর্ত একজন অভিনেতা। ওর সাথে খুব স্বচ্ছন্দে কাজ করা যায়। এতদিন পর ক্যামেরার সামনে আসতে একটু ভয়েও লাগছিল, কিন্তু সেক্ষত্রেও অরুণাভর যথেষ্ট সাহায্য পেয়েছি।

এতদিন পর ক্যামেরার সামনে এলেন, ব্যাপারটা কি সহজভাবে শুরু হলো আবার?

লহরী –

এতদিন পর ক্যামেরার সামনে এলেও, পরিচালক যখন রজত তখন আমার কিছুটা সুবিধা তো ছিলোই। ও আমাকে কয়েকটা ওয়াকশপ করিয়েছিল, আর তাছাড়া শুটিং এর আগে আমি প্রায় রোজ ওকে ফোন করে স্ক্রিপ্ট প্র্যাকটিস করতাম। তাই খুব একটা কঠিন হয়েনি। আর বাকি কেমন হয়েছে সেটা তো দর্শক বলবেন।

নিজে কবে বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন?

লহরী –

এই তো, ভেনু, মেনু সব সেট, শুধু বর টা পেলেই… এনি সাজেশন? 

পরিচালক রজত সাহার সাথে সম্পর্কটা কি? কানাঘুষো তো অনেক কিছু শোনা যায়।

লহরী –

রজত আমার খুব ভালো বন্ধু। বেস্ট ফ্রেন্ড বললেও কম বলা হয় আরকি। এখন তো আমাদের বন্ধুত্বটা এমন পর্যায়ে যে ও যাতে বিয়ের পিঁড়িতে তাড়াতাড়ি বসতে পারে তার ব্যাবস্থাও আমিই করছি।

অংশু না অরুণাভ,  কো-স্টার হিসেবে কে ভালো? 

লহরী –

এই রে!! দুজনেই তো আমার এক্স (অন স্ক্রীন অবশ্যই), এক্স দের মধ্যে তুলনা করা কি ঠিক বলুন? দুজনকেই তো আমার কোনো না কোনো দিন পছন্দ ছিল।

নিউ নরম্যাল পূজো, দিওয়ালির পর ক্রিসমাস। কি প্ল্যান?

লহরী –

পূজোতে এবার ছুটি পাওয়ায় বেশ মজা করতে পেরেছি। তবে দিওয়ালি কাজের মধ্যেই কেটে গেছে। এবার দেখি ক্রিসমাসে “বর” পাই কি না। 

আগামী ১৮ তারিখ দেখতে ভুলবেন না মিষ্টি মধুর প্রেম ও বিয়োগের গল্প, রজত সাহা পরিচালিত ওয়ান লাভ মিডিয়ার শর্ট ফিল্ম “শেষ বেলায়”।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here