‘শেষ বেলায় সিনেমার গল্পটা প্রথম থেকেই খুব পছন্দ হয়েছিল। গল্পটা যেমন মজাদার শুটিংটাও আমরা ততটাই উপভোগ করেছি।’ “শেষ বেলায়” সিনেমার শুটিং ডায়েরির পাতা ওল্টালেন নায়ক অরুনাভ। অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিলেন মর্মকুটির পেজের সাথে। সেই গল্পের কিছু অংশ থাকলো আপনাদের জন্য আলাপচারিতায়।

ওয়ান লাভ মিডিয়ার সাথে আপনার প্রথম শর্ট ফিল্ম “শেষ বেলায়” খুব তাড়াতাড়ি মুক্তি পেতে চলেছে, ওয়ান লাভ মিডিয়ার সাথে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?

অরুনাভ –

ওয়ান লাভ মিডিয়ার সাথে কাজের ইচ্ছে অনেক দিন থেকেই ছিল। তার পেছনে একটা কারনও আছে, আমার প্রথম ওয়েব সিরিজ “সেই যে হলুদ পাখি” আর রজতদার একটা ওয়েব সিরিজ কাকতালীয়ভাবে একই দিনে মুক্তি পেয়েছিল। এই ঘটনার থেকেই একসাথে কাজ করার ইচ্ছে আরো দৃঢ় হয়। রজতদারও ইচ্ছে ছিল আমাকে কাস্ট করলে একটা ভালো গল্পে করবে, ফাইনালি এই গল্পটা এ একসাথে কাজ করার সুযোগ হলো।

পরিচালক হিসেবে রজত সাহার সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন ?

অরুনাভ –

আমি যখন অভিনয় করি তখন আমি শুধুই অভিনেতা, পরিচালক আমায় লাফাতে বললে আমি লাফাবো, দাড়াতে বললে দাড়িয়ে থাকবো। অভিনয়ের সময় আমি অভিনয়তেই ফোকাস করতে বেশি পছন্দ করি। এই সিনেমার ক্ষেত্রে আমি চরিত্রটাকে ঠিক যেভাবে ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছিলাম রজতদাও ঠিক তেমনটাি চেয়েছিল, তাই ভাবনার মিল থাকায় একসাথে কাজ করতেও খুব ভালো লেগেছে।

“শেষ বেলায়” সিনেমাটি বেছে নেওয়ার কারন কি?

অরুনাভ –

এর আগে আমি যা যা কাজ করেছি সবই নয় থ্রিলার নয় ফ্যামিলি ড্রামা। কিন্তু রোম্যান্টিক ছবি সেভাবে করা হয়েনি। তাই ওয়ান লাভ মিডিয়ার মতো জায়গায় যখন সুযোগ পেলাম রাজি হয়ে গেলাম। আমরা তো সবাই  জানি ওয়ান লাভ মিডিয়া রোম্যান্টিক ছবির জন্যই  বিখ্যাত, এর আগেও “টেক কেয়ার” এর মতন অনেক সুন্দর সুন্দর শর্ট ফিল্ম ওরা বানিয়েছে। আর সবারই তো স্বপ্ন থাকে রোম্যান্টিক সিনেমার হিরো হওয়ার। তাছাড়া গল্পটা আমার খুব ভালো লেগেছিল। রোম্যান্টিকতার পাশাপাশি একটা বিষন্নতা যেমন আছে, তার সাথে কৌতুক রসও আছে।

অর্পিতের চরিত্রের কোন দিকটা আপনাকে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করেছিল?

অরুনাভ –

আলাদা করে কোনো বিশেষ দিক বলব না, বলা ভালো গোটা চরিত্রটাই আমার খুব পছন্দের। সিনেমার প্রথম অংশে মনে হয়ে কমেডি ফিল্ম, কিন্তু পরবর্তী অংশেই রোম্যান্টিকতার ছোঁয়ায় গল্পের একটা মোর বদল হয়ে, আর এই গোটা সুইচ টাই হচ্ছে এই অর্পিত চরিত্রটার জন্য।

দীর্ঘ সাত মাসের লকডাউনে শিল্পী হিসেবে কি কি প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়েছে? সবরকম সুরক্ষাবিধি মেনে নিউ নরম্যালের সাথে খাপ খাইয়ে শুটিং করতে কি আগের মতোই স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন?  

অরুনাভ –

টেকনিক্যাল সমস্যা কিছু ছিল, তবে আমার মতে একজন শিল্পীর কাছে এই লকডাউনের সময়টা একটা সুযোগ ছিল মেন্টালি গ্রো করার৷ কারণ একজন শিল্পী কাজ করার সময় যতনা গ্রো করে তারচেয়ে অনেক বেশি গ্রো করে যখন সে ভাবে। আর এই ছ-সাত টা মাস একজন শিল্পীর কাছে ভাবার জন্য, সাইকোলজিক্যালি গ্রো করার জন্য একটা সুবর্ণ সুযোগ ছিল। আমি নিজে এই লকডাউন সময়কালে আমার খুব কাছের মানুষকে হারিয়েছি, এই যে দুঃখ, বিষন্নতা এগুলো আমাকে অনেক বিষয় কে নতুন ভাবে ভাবতে শিখিয়েছে। আমার মতে সমস্যা মানুষকে নতুন করে গড়তে সাহায্য করে।

সত্যি বলতে অসুবিধে খুব একটা হচ্ছে না। যেটুকু সুরক্ষাবিধি মেনে চলতে হচ্ছে, সেটা তো নিজেদের স্বার্থেই মেনে চলতে হবে। বাস্তব কে তো আমরা অস্বীকার করতে পারি না। পরিস্থিতি কে তো মেনে নিতেই হবে, তার মধ্যেই কাজ করে যেতে হবে। আমি নিউ নরম্যালে যথেষ্ট স্বচ্ছন্দ।

লকডাউনের কারনে ক্যাকিয়ারে কোনো গ্যাপ পরেছে কি?

অরুনাভ –

না, আমার ক্যারিয়ারে তেমন গ্যাপ পরেনি।  আমি অল্পবিস্তর কাজ করেই গেছি। ইনফ্যাক্ট ২০২০ তেও আমার দুটো রিলিজড প্রজেক্ট আছে।

কো-স্টার হিসেবে লহরীর সাথে কাজ করে কেমন লাগলো? 

অরুনাভ –

খুব ভালো লেগেছে।  লহরী খুব ভালো একজন অভিনেত্রী। আমার সাথে পরিচয় আগে থেকেই ছিল, তবে একসাথে কাজ করা হয়ে ওঠেনি।  এই প্রজেক্টটায় আমরা খুব মজা করে কাজ করেছি।

আপনি তো নিজেও “প্রজাপতি” বলে একটা শর্ট ফিল্ম পরিচালনা করেছেন, পরবর্তীকালে কি পরিচালনার দিকে যাওয়ার ইচ্ছে আছে, নাকি অভিনয়তেই থাকবেন? 

অরুনাভ –

না, আমি অভিনয়ের দিকেই থাকব৷ আমি সারা জীবন অভিনয় করে যেতে চাই। পরিচালনা আমি শখে করেছিলাম। আসলে আমি থিয়েটার পরিচালনা করি প্রায় ২০১৬ থেকে।, সেই থেকেই এই ইন্ডাস্টিজে আসা৷ পরে যদি কখনো মনে হয়ে দর্শকদের কোনো গল্প বলার দরকার আছে, তখন সিনেমা বানাব আবার।  তবে আমি যদি কিছু বানাই তার একটা সামাজিক প্রেক্ষাপট,একটা অন্তর্নিহিত মানে থাকবে।

বাস্তবে যদি অর্পিতের পরিস্থিতিতে পরতে হতো তাহলে কি করতেন? 

অরুনাভ –

এইরে!! আমি তো কোনোদিন সেভাবে প্রেমই করিনি, এই পরিস্থিতিতে পরার সম্ভবনাই নেই। তবু যদি কোনো কারনে এই পরিস্থিতিতে পরতে হতো, তাহলে “শেষ বেলায়” সিনেমাটাই হতো না। কারণ আমি যেতামই না এক্স এর বিয়েতে ছবি তুলতে। 

কেমন কাটলো নিউ নরম্যাল পূজো এবং দিওয়ালি?

অরুনাভ –

বিশেষ কিছু না।  আগেই বলেছি পূজার ঠিক আগেই আমি আমার একজন কাছের মানুষ কে হারিয়েছি, তাই পূজোয় তেমন কোনো প্ল্যান ছিল না। বাড়িতে বন্ধুদের সাথে আড্ডা মেরে কেটে গেছে। আর দিওয়ালি কেটেছে কাজের মধ্যেই। অ্যাকটিং ওয়াকশপ,ফিটনেস ট্রেনিং এসবের মধ্যে দিয়েই কেটে গেছে। 

আগামী ১৮ই নভেম্বর মুক্তি পেতে চলছে রজত সাহা পরিচালিত,ওয়ান লাভ মিডিয়ার শর্ট ফিল্ম  “শেষ বেলায়”।  দেখতে ভুলবেন না যেন। রইল ছবির পোস্টার। 

Interview By ঈশানী ধর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here