বর্তমান বাংলা রাজনীতি তথা ভারতীয় রাজনীতিতে একটা কথা খুব শোনা যায়, ‘ভক্ত’।

সাধারণত বিজেপির কিছু গোঁয়ার অনুগামী, যারা বিজেপি সরকারের সবেতেই ভালো দেখতে পান, যারা কেন্দ্রের সব নীতিকেই বাহ বাহ করেন, যারা ঠিক ভুল বিচার না করে বিরোধীদের মুন্ডুপাত করেন ও দলের সুনাম করেন, সাধারণত তাদেরই ভক্ত বলে। রান্নার গ্যাসের দাম বাড়ায় বা পেট্রোলের দাম বাড়ায় সাধারণ মধ্যবিত্ত মানুষ যখন হাহুতাশ করছে, এই ভক্তরা নিজের পকেট থেকে টাকা বার করেও কেন্দ্রের সুনাম করছেন । সাথে এমন কিছু লজিক জুড়ছেন , যাতে মনে হয় দাম বৃদ্ধি না জিডিপি বৃদ্ধি পেল। এরা গোরকক্ষ কমিটির হতে মানুষ মরলেও তার সাপোর্টে,  কৃষকদের উপর অত্যাচার হলেও তার সাপোর্টে, আবার পাকিস্তানে সার্জিকাল স্ট্রাইক হলেও তার সাপোর্টে।  মোদীবাবুর সুনাম , আর তার প্রতি এক তরফা ভালোবাসায় মজে আছে এদের জীবন। কিন্তু শুধু কি বিজেপির সাপোর্টারাই ভক্ত? বাকিরা? উঠতে বসতে “মমতা দি আর একবার গাইছে বাড়ির বাইরে, আর এস এস সি না হওয়ার জন্য তৃণমূল সরকারের দোষ দেখতে পায় না। এদের কে শিক্ষক নিয়োগের দুর্নীতির বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে হয় সুকৌশলে এড়িয়ে যায়, নাহয়  প্রশ্নকর্তাকে বিজেপি বলে দাগিয়ে দেয়। পুলিশের হাতে শেষ ১০ বছরে যত রাজনৈতিক খুন হয়েছে তার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে এড়িয়ে যায়।

সংবাদ মাধ্যমে ভোটের ছাপ্পা মারার ভিডিও দেখলে এরা সেটাকে সাজানো ঘটনা বলে থাকে। পার্ক স্ট্রিট বা কামদুনি সবেতেই এরা দিদির সুরে সুর মেলায়। এদের সাথে বিজেপির ভক্তদের একটাই অমিল। এরা শুধু গুরুকে শুধু একটি প্রয়োজনীয় গৃহপালিত পশুই  মনে করে। নাহলে এরা কোনো অংশে বিজেপি ভক্তের থেকে কম না। এর পর আসি তথাকথিত শিক্ষিত দল সিপিএম বা বামফ্রন্ট নিয়ে। এদের অনুগামীরা শিক্ষিত তার প্রধান কারন এস এফ আই। কিছু বিখ্যাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এস এফ আই এর দৌলতে কিছু শিক্ষিত মুখ বেরিয়ে এসেছে। কিন্তু এরা শিক্ষিত হয়েও এক তরফা সাপোর্টে কোন কমতি রাখে না।

সিপিএম এর সাপোর্টার দের ৩৪ বছরের ছাপ্পা, মরিচ ঝাঁপি, বিজন সেতু, নেতাই, নন্দীগ্রাম নিয়ে জিজ্ঞাসা করলে এরা এমন কিছু যুক্তি দেবে, আপনি তৎক্ষণাৎ তর্ক সেরে গুগল করতে বাধ্য হবেন। তা সে আপনি পরে যে কোন তথ্য পাবেন না , সেটা জানা কথা। এরা দলে আব্বাস সিদ্দিকীর মত অতি ডান লোককে নেওয়ার পিছনে এমন কিছু যুক্তি দেবে যা , বিজেপি ভক্তদের তেলের দাম বাড়ার যুক্তিকেও হার মানাবে। আর কিছু বলতে না পারলে এরা আবেগ বলে চালিয়ে দেয়। যেন অন্য কোন দলের সমর্থকদের, তাদের দলের প্রতি কোন আবেগ নেই।

এদের কেরালার রাজনৈতিক খুন নিয়ে জিজ্ঞাসা করলেই , আপনাকে কেরালার শিক্ষার হার দেখিয়ে দেবে। এরা তুলনামূলক ভাবে একটু ,  তাই অন্য দলের ভক্তদের এরা সহজেই কুপোকাত করে দেয়। আর যেহেতু এরা বেশিরভগটাই ২০১১ এর পর রাজনীতি বুঝেছে, এরা ৩৪ বছরের শাসন চোখে দেখে নি, শুধু কলেজের দাদাদের মুখে লেলিন শুনেই ঝাপিয়েছে। এরাও ভক্তদের থেকে কম কিছু না, কারন তর্কে পিছিয়ে পরলেই এরা আবেগ না হয় , লাল সেলাম বলে ভিড় ঠেলে এড়িয়ে যায়। তবে বলা বাহুল্য এই দলেরই এমন সমর্থক সবচেয়ে বেশি, যারা প্রয়োজনে দলের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে ভয় পায় না।

রজত সাহা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here