প্রথম দেখা

0
1377

উত্তর কলকাতা বলতে আমি বুঝি শ্যামবাজারের নেতাজী মুর্তি,হাতিবাগানের দরদাম করে জিনিস কেনা আর যা কলকাতার ঐতিহ্য ট্রাম। ডিপো থেকে ট্রাম বেরোনো দেখতে আমার বেশ লাগে। আমি তখন সদ্য ফাস্ট ইয়ার। ভাগ্যক্রমে বাগবাজারের এক নামী কলেজে পড়ার সুযোগ পেয়েছি। তখনই আলাপ হয় হঠাৎ সোশ্যাল মিডিয়ায় তমঘ্নর সাথে। প্রথম প্রথম দাদা বলে সম্বোধন করতাম।তমঘ্ন তখন প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির পি.জির ছাত্র।



দুজনেই রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্র-ছাত্রী হবার কারণে বন্ধুত্বটা বেশ জমেছিল।আস্তে আস্তে খুব ভালো বন্ধু হয়ে উঠলাম আমরা তারপর সেখান থেকে প্রেম।প্রথম দেখা করার কথা উঠতে ও বলেছিল ইন্ডিয়ান কফি হাউজের কথা। আমি রাজি না হওয়ায় ও আমার দিকে প্রশ্ন ছুঁড়ে বলেছিল,”তাহলে তুমিই বলো কোথায় দেখা করবে?” আমি বললাম,”হাতিবাগান।” ও খানিকটা অবাকই হয়েছিল আমার কথা শুনে।আমি বললাম,”দেখো খুব আনন্দ হবে।ফুচকা ,পাপড়িচাট খাবো কত আনন্দ হবে বলো তো।সেই মতো সেজেগুজে দেখা করতে গেলাম আমার লেখার ডায়েরিটা ব্যাগে নিয়ে নিলাম।

পৌঁছে দেখি হাতে ওর জুঁই ফুল আমার যে কি অনুভূতি হচ্ছিল বলে বোঝাতে পারবো না। বললাম,”এত কষ্ট করে যখন এনেছো তুমিই পড়িয়ে দাও খোঁপায়”। সেই মতো ও পরিয়ে দিল আমায়।ব‌্যাগ থেকে কী একটা বের করতে গিয়ে আমার লেখার ডায়েরিটা রাস্তায় পড়ে যাওয়ায় আমায় নিচু হতে হবে বলে তমঘ্ন তুলে দিয়ে প্রশ্ন করে,”এটা কিসের ডায়েরি গো?” আমি বললাম,”আমার যত আজগুবি কথা সব লেখা আছে এটায়। তুমি শুনবে?” ও বললো,”কেন শুনবো না? তুমি কি অপূর্ব লেখো আর এ তো তোমার সব মনের কথা।” আমি পড়তে শুরু করলাম।




বাতাসে চুলটা যতবার মুখে পড়ছিল ও ঠিক করে দিচ্ছিলো। আমার ডায়েরির লেখাগুলো শুনে ও বললো,”আর কত মুগ্ধ করবে আমায়?”আমি হেসে উঠলাম।তারপর ফুচকা,পাপড়িচাট খেয়ে দুজন দুজনের গন্তব্যস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। এই ছিল তমঘ্ন আর আমার প্রথম দেখা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here