পরজীবী পর্যালোচন

0
544

লকডাউন- লাকি অথবা আনলাকি। প্রথম দল অর্থাৎ লকডাউনের লাভ ভোগ করতে পেরেছে খুব কম সংখ্যক মানুষই। বাকি বিপুল সংখ্যক বিপদগ্রস্ত মানুষের প্রতিনিধি শ্যামল, তার স্ত্রী মিঠু এবং একটি ভাগ্যহীন নাবালক। এদের নিয়েই তৈরি হয়েছে পরিচালক রজত সাহার নতুন স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবি “পরজীবী”।

আকস্মিক লকডাউনের ফলে পরিযায়ী শ্রমিক শ্যামল আটকা পড়েছিল নিজের বাড়ি থেকে বহু দূরে। পায়ে হেঁটে কোলকাতায় পৌঁছলেও বাকি পথের জন্য প্রয়োজন যানবাহনের। কিন্তু সেই সুবিধাটুকু পাওয়ার মতো অর্থ ছিল না তার কাছে। এই পরিস্থিতিতে যে সমস্ত ঘটনার মুখোমুখি হতে হয় শ্যামল এবং তার সহযাত্রীদের, কীভাবে তারা ফেরে নিজের ঠিকানায় তা জানতে গেলে দেখতে হবে সম্পূর্ণ ছবিটি।

 

পরিচালক রজত সাহার পূর্ববর্তী ছবিগুলোর মতোই এই ছবিতেও তিনি ডিটেইলিংয়ের দিকে নজর দিতে চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু বলা বাহুল্য এক্ষেত্রে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তাঁর দৃষ্টির অগোচরে থেকে গেছে। প্রথম দৃশ্যে শুধুই শ্যামলের ছোটো ভাইপোকে মাস্ক পরানোর কথা বলা হলেও বাকি প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে তার প্রয়োজনীয়তা কেন দেখানো হয়নি, তা বোঝা গেল না। নাপিতের ঠিকমতো মাথা মালিশ না করা, চা করার সরঞ্জাম অনুপস্থিতির মতো প্রয়োজনীয় দিক যেমন বাদ গেছে, তেমন এসে পড়েছে লরি ড্রাইভারের গালাগাল দেওয়ার মতো অপ্রয়োজনীয় সংযোজন।

 

অভিনয়ের ক্ষেত্রে রূপ দে শহুরে ছাপ মুছে ফেলতে আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। তবে অভিব্যক্তি প্রকাশের জন্য তাঁকে আরও অনুশীলন করতে হবে। সংলাপ বলার সময় বেশ কিছু জায়গায় সমস্যা হয়েছে নায়ক পৃথ্বীরাজের। শুধুমাত্র ফিরোজ শাহ নজর কাড়লেন ভিলেনের চরিত্রে। এই চরিত্রে কাজ করার সিদ্ধান্ত তাঁকে অনেক দূর নিয়ে যাবে।

 

আবহ সঙ্গীতের কারিগরদ্বয় এ ছবির জন্য বাহবা পেতেই পারেন। ক্যামেরাম্যান যথাযথ, তবে পরিচালকের নির্দেশের বাইরে গিয়ে দৃশ্যগ্রহণ করার দক্ষতা তাঁকে দেখাতেই হবে।

 

ত্রুটি- বিচ্যুতি যে কোনও কাজেরই অঙ্গ। সুযোগ রয়েছে পরবর্তীতে শুধরে নেওয়ার। সব মিলিয়ে “পরজীবী” পরিচালক রজত সাহার “বেস্ট ওয়ান ” না হলেও বাস্তবের অলক্ষিত বেশ কিছু ঘটনা স্পর্শ করতে দেখাই যেতে পারে ছবিটি।

-ঘরোয়া কবি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here