ছোট থেকেই সে ভ্রমনপ্রেমী হওয়া সত্বেও তার ছেলেবেলা কেটেছে ঘরের কোণে। স্কুল জীবন টা তার আর বাকি পাঁচ টা বন্ধুদের মত কাটেনি। তেমন ভাবে মিশতে-ও পারতো না সে বন্ধুদের সঙ্গে। অবশ্য বন্ধু বলতে ছিল হাতে গোনা কজন। দাদা পরে বিলেতে কিন্তু প্রেরণার পায়ে পড়ানো হয়েছিল আভিজাত্যের বেরি। তাই বদ্ধ ঘরেই সাজাতে হয়েছিল তার নিজস্ব পৃথিবী। ভাবতে ভাবতে কখন যে বিকেল গড়িয়েছে খেয়াল ছিল না প্রেরণার। ফোন টা সুইচ অন করে নিশাকে কল করলো ও। নিশা তুই কল করেছিলি;বল রে। কি আর বলবো ! এতবার কল করেছিলাম তুই ফোন বন্ধ করে রেখে ছিলিস। যাই হোক বল প্রেরণা তুই বাড়িতে কথা বলেছিলিস? তোকে আমি আগেই বলেছিলাম যে আমার পক্ষে যাওয়া সম্ভব নয় তাও তোর কথা অনুযায়ী আমি বাড়িতে বলেছিলাম। সে যাই হোক তোরা যাচ্ছিস যা ঘুরে আয় আর একটা কথা যদি পারিস আমাকে কিছু ফটো সেন্ড করিস।ok? Ok..বলে নিশা ফোন টা কেটে দিল।

নিশা রাগ করেছে বুঝতে কোনো অসুবিধে হয় নি ওর। রাগ করাটাই স্বাভাবিক। যাই হোক নিচে গিয়ে প্রেরণা দেখে যে বাবা নেই কাজে গেছে আর মা বোধ হয় সীমা কাকীর বাড়ি গেছে। ফাঁকা সময় মা গিয়ে কিছুটা সময় কাটায় ঐখানে। মিতা কাকী বলে – কিরে কখন থেকে তোকে ডাকছিলাম উপরেই ছিলি; শরীর খারাপ নাকি? না তেমন কিছু না প্রেরণা বলে। তুমি খেতে দাও; মিতা কাকী অনেক বছর ধরেই ওদের বাড়ি কাজ করে। খাওয়া সেরে আবার ওপরে যায় প্রেরণা। রাহুল অনেক গুলো sms করেছে।কিরে তুই কি sure যাবি না? একটার পর একটা sms স্ক্রীন -এর ওপরে ভেসে আসে। মোবাইল টা সরিয়া বই টা নিয়ে একটু বসে ও। সামনেই ফাইনাল ইয়ায় এর এক্সাম। বরাবরই পড়াশুনায় ভালো ছাত্রী ছিল প্রেরণা। Geography Hons. এর তৃত্রীয় বর্ষের ছাত্রী। Geography সাবজেক্ট টা সিলেকশন এর কারণ খানিক টা পছন্দ আর খানিক টা অজুহাত । হ্যাঁ; অজুহাত। বেড়ানোর অজুহাত। Geo-Techtonics and Geomorphology paper টা একটু বেশি পছন্দ ছিল ওর। সে বইতে অঙ্কিত ভূমিরূপ গুলোই জীবন্ত কল্পনা করে নিত। সে যখন দ্বিতীয় বর্ষের পা রাখলো তখন আর প্রেরণা কে পায় কে! সে হাতে পেলো তার এতদিনের অপেক্ষার ফল Tourism Geography বইটি।

এটি পেয়ে যেনো তার স্বপ্নের আয়তন আরো খানিক টা পরিধি লাভ করেছিল। তখন ও আশা ছিল যে ও তার চেনা গণ্ডি পেরোতে পারবে; কিন্তু সে আর হলো কই? রাত গড়িয়ে সকাল হলো কিন্তু;সে সকালের অর্থ পায় না সে। এই ভাবেই বেশ কটা দিন কেটে গেল । ওদিকে নিশা,রাহুল ওরা অনেক ফটো পাঠায় ,ও দেখে আর দুচোখ বেয়ে অশ্রুধারা ঝরে পড়ে ওর।পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড় টা দেখার বড্ড ইচ্ছে ছিল ওর;দুধের স্বাদ ঘোলে মিটিয়ে ফটোগুলো শুধু দেখে আর দুফোঁটা অশ্রু জল মোবাইল এর ওপর ঝরে পরে । হটাৎ একদিন অন্তরার কল এলো। অন্তরা হলো প্রেরণার ছোটবেলার খুব ভালো বন্ধু। খুব একটা যোগাযোগ নেই তাও একে-ওপরের প্রয়োজনে সর্বদাই পাশে থাকে ওরা। বল রে অন্তরা। আজকে অনেক দিন পর কল করলি। অন্তরা- সন! খুব জরুরি দরকার আছে রে। তুই কি আজ আমার সঙ্গে একটু দেখা করতে পারবি রে? urgent… প্রেরণা – কিন্তু…. অন্তরা- কোনো কিন্তু না আজকেই আমার সঙ্গে তুই একটু দেখা কর pls।

খুব একটা বাড়ি থেকে বেরোনো হয়ে ওঠে না ;বেরোতে দেওয়া হয় না বললে ভুল হবে না। যাই হোক তাড়াতাড়ি ফিরতে পারবে জেনে কাউকে কিছু না জানিয়ে বেরিয়ে পরে ও। অন্তরার বাড়িতে গিয়ে কলিং বেল টা বাজাতেই অন্তরা বেরিয়ে আসে। অন্তরা- আয় রে ভেতরে আয়। প্রেরণা- নারে ; অন্তরা বেশি সময় নেই যা বলার তাড়াতাড়ি বল তুই। অন্তরা- উফফ! আরে বাবা; তুই আয় না ! ! ঘরে ঢুকতেই একি দেখছে সে? কি এসব!! সুবিশাল হল ঘরটি আধুনিক ধরনের মোমবাতি, নানা রঙের বেলুন দিয়ে অত্যন্ত সুন্দর করে ডেকোরেট করা । ও সে কি অসম্ভব সুন্দর ভাবে সজ্জিত করা। কিন্তু এসব কি বলতেই অন্তরা বলে আজকে আমার birthday বাট তোকে আগে বললে তুই আসতিস না । তাই এইসব করা ;বলেই হি হি করে হেসে উঠলো অন্তরা। প্রেরণা- তোর কি মাথা টা গেছে আমাদের বাড়ির পরিবেশ তোর অজানা তা তো নয়। আমি কিছু বলে আসিনি কি করছিস বলতো তুই অন্তরা। উফফ!! তুই একটু বেশী টেনশন করিস সবেতে প্রেরণা; আমি কল করে বলে দেব কাকী কে বলে ওর হাতটা টেনে হল রুম তার ভিতরে নিয়ে যায়……..

3rd Part Coming Soon….                                                      

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here