কলকাতার এক উচ্চবিত্ত পরিবারের মেয়ে হল প্রেরণা।ছোটবেলা থেকেই একটা স্বপ্ন দেখে বড় হয়েছে,সে নিজের চোখে পৃথিবী দেখবে।দেখবে পাহাড়ি ঝর্না,সমুদ্রের কুলে পরে থাকা ঝিনুকে লুকিয়ে থাকা মুক্ত।দেখবে ঘন জঙ্গল থেকে শুরু করে মরুভূমি। সময় বয়ে যায় কিন্তু ওসব কিছুই দেখা হয়ে ওঠেনি তার।ভ্রমণ তো দূরের কথা কলেজ এর গণ্ডির বাইরে কোথাও যাওয়ার অনুমতি নেই ওর । আজকে সকাল থেকেই মন টা বড়ো খারাপ করছে।পিউ ,নিশা , রাহুল সবাই যেতে পারে ঘুরতে ।পুরুলিয়া যাবে ওরা ।প্ল্যান অনেকদিনের পুরনো ।সময় সুযোগ বুঝে এখনই বেরিয়া পড়বে ওরা।ভাবতে ভাবতে ফোন আসে নিশার। বল রে…. প্রেরণা আমি একবার বলে দেখি না কাকুকে।হাতে এখনও দু দুটো দিন আছে,ওরা যদি মানে.. প্লিজ রে দেখ আর কথা বলিস না এ বিষয়ে।আমি তোদের মত কপাল দিয়ে জন্মাই় নিরে।কষ্ট হয় রে বড্ড কিন্তু নিজের মন কে এখন বুঝিয়ে

নিয়েছি। নাছোড়বান্দা নিশা; কোনো কথা শোনে না।তোকে যেতেই হবে।তুই কাকুকে একটু বুঝিয়ে বল না।আমরা তো দিন পাঁচেক এর মধ্যেই ফিরে আসবো রে।খুবই যাওয়ার ইচ্ছে প্রেরণার।তাই নিশাকে বলেই ফেললো সে বাড়িতে কথা বলে জানাবে। ফোন টা রেখে নিচে যায় সে। মা.. ও মা চা করেছ? কি বলি এত দেরি করে নামলে যে চা তো পুরো ঠান্ডা হলে গেলো। তুই স্নান সেরে নে আমি টিফিন করে আনি,তুই খেয়ে তো আবার কলেজ যাবি। খানিকটা ইতস্তত করতে করতে প্রেরণা বলে মা কথা ছিল তোমার সঙ্গে। কথা কি কথা?? ওড়নার কোণের দিকটা আঙ্গুলে পাকিয়া ঘোরাতে ঘোরাতে বলে নিশা,পিউ ওরা সবাই একটু আউটিং এ যাবে পুরুলিয়া ।দিন পাঁচেক এর ব্যাপার গো মা।তুমি তো জানো বল আমি ছোটবেলা থেকেই কি বিভৎস ঘুরতে যেতে চাই।দম বন্ধ হয় যায় আমার এই একঘেয়ামি লাইফ এ। তোকে আগেই বলে দি শোন! দেখ তোর বাবাকে নতুন করে চেনাতে হবে না নিশ্চই উনিশ বছর পর । কথা গুলো শুনতেই ওর চোখগুলো অশ্রুপূর্ণ হয়ে ওঠে। তাও একবার মা যদি…. উনি আমার কোন কথা শোনেন বলতো! চুপ করে যায় সে।কিছুক্ষন সবকিছুই নিস্তব্ধ।ওপরে নিজ ঘরে গিয়ে বিছনায় শুয়ে পড়ে ও। আজকে আর কলেজে যেতে ইচ্ছে করছে না ওর। শুয়ে শুয়ে ভাবে আমার ঘুরতে যাওয়ার ইচ্ছে কোনো দিন ও পুরণ হবে না।কেউ আমায় বোঝেনা।মনের খবর কেউ রাখেনা। যদি কোনোভাবে দুচোখ ভরে পাহাড় দেখতে পারতাম , দেখতে পারতাম পাহাড়ি আঁকাবাঁকা রাস্তাগুলো।সরুসরু ঝর্না গুলো কিভাবে পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে আসে।যদি একটু স্পর্শ করতে পারতাম সেই ঝর্নার ঠান্ডা জল; মানলাম পুরুলিয়া তে সেই সবকিছু নেই ; কিন্তু ছোট ছোট টিলা লাল মাটি দেখতে পারতাম তাই বা কম কি আমার মত মেয়েদের জন্য! ফোন টা আবার বেজে ওঠে ।নিশা খালি ফোন করছে । কি করে বোঝাবো ওকে? ফোন টা সুইচ অফ করে বিছানার পাশের টেবিলে রেখে দিলাম। ঘরের দক্ষিণ দিকের জানালা খুলতেই দেখা যায় মস্ত একটা কৃষ্ণচুড়া গাছ।কত সুখ দুঃখের সাথী ও।ওই গাছটার একটা একটা করে ফুল ঝরে গাছের নিচে লাল একটা চাদর বিছিয়ে দিয়াছে।সেই খানে আবার মাঝে মধ্যেই একটা নীলকন্ঠ পাখি আসে।আজ আবার ও এসেছে। ও যেন একরত্তি মেয়েটার সুখদুঃখের সাথী।মৃদুমন্দ হাওয়া যেনো আজকে অন্য রকমই বইছে।সব মিলিয়ে প্রকৃতি যেনো নিজের আনন্দে মাতাল হয়েছে।আজকে খুব ইচ্ছে করছে প্রকৃতির আনন্দে গা ভাসাতে।কিন্তু খুব চেষ্টা করেও মন কে শান্ত করতে পারছে না প্রেরণা। উথাল-পাথাল কিছু স্মৃতি আজকে যে বড্ড কষ্ট দিচ্ছে ওকে..

2nd Part Coming soon….

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here