রাতে এমন ঘটনার পরে প্রেরণার শরীরে আর কোনো জোর পাচ্ছে না। কিন্তু ওর মনের মধ্যে যেনো এখন একটাই কথা বার-বার সারা ফেলছে যে ব্যাস অনেক হয়েছে আর না ,, এই নরপিশাচের অত্যাচার অনেক সহ্য করেছি । আর সবথেকে বড়ো অপরাধী-ও আমি। আমি সুযোগ দিয়েছি ওকে দিনের পর দিন। তাই রাতে যা হয়েছে সেটা আমার প্রাপ্য ছিল।প্রেরণার মনের মধ্যে একটা প্রশ্ন বারবার ঘুরপাক খাচ্ছিল যে এতদিন কার বা কাদের জন্য এত কিছু সহ্য করেছে? তার বাবা-মা তাইতো; হ্যাঁ তার বাবা-মার জন্যই তার এত কিছু সহ্য করা। কিন্তু এই যে সমাজ এ কেমন তরো বাবা-মা যে মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার পরে একটা খোঁজ নেওয়ার প্রয়োজন মনে করেনি যে সে কেমন আছে; কাদের জন্য এত দিন সেই মুখ বুজে সহ্য করছে সবটা?

কাদের জন্য সে তার স্বপ্ন গুলোকে দুমড়ে-মুচড়ে একাকার করেছিল? তা কি আদৌ প্রেরণার জীবনের কোনো গুরুত্বপূর্ণ অংশ? কোনো উত্তর পায় না সে। রাগে- ক্ষোভে যেন ওর আজকে নিজেকে শেষ করে দিতে ইচ্ছা করছে। যে এতদিন শুধুমাত্র বাবা-মায়ের কথা ভেবে মুখ বুজে জানোয়ারের সঙ্গে সংসার করেছে। কিন্তু ব্যাস আর না ;মনে মনে ঠিক করে নিল যে আজকেই সে বাড়ি ছেড়ে চলে যাবে।

কিন্তু যাওয়ার আগে সে মনে মনে প্রতীজ্ঞা করল সে জীবনে কিছু একটা করে দেখাবে, সে কখনই আর পরনির্ভরশীল হয়ে থাকবে না। তখন ভোর প্রায় হয়ে এসেছে, প্রেরণা নিজের কিছু কাপড় একটা ব‍‍্যাগে পুরে বেরিয়ে পরে রাস্তায়,, সব পিছুটান কাটিয়ে।কিন্তু কি অদ্ভুত ব‍্যাপার সুকুমারের বিশেষ কোনো হেল দোল নেই, এখনো সে যে নেশায় চুর হয়ে আছে। বাড়ি থেকে বেড়োনোর আগে প্রেরণা একবারও ভাবেনি যে সে কোথায় যাবে। একবার ভাবলোনা যে তারও তো একটা নিজের বাড়ি আছে কিন্তু পরক্ষণেই তার মনে পরলো যে ওটা যে তার বাবার বাড়ি।

যে বাবা তাকে বাড়ি থেকে তারাবে বলে তারাতারি বিয়ে দিয়ে দিল সেখানে সে কিকরেই বা যাবে আর সেখানে গেলেও যে তার ঠাঁই হবেনা সে সম্বন্ধে তার কোনো সন্ধেয় ছিল না। তাই সে ভাবলো সে আর কথাও ফিরবেনা, এখন থেকে সে শুধু এগোবে। ঠিক করল এই শহর ছেড়ে সে চলে যাবে, অন‍্য কোথাও গিয়ে সে নিজের একটা পরিচয় তৈরি করবে যা হয়ত তার অনেকদিন আগেই করা উচিত ছিল…

আজকে প্রায় তিনটে বছর কেটে গেছে। প্রেরণা এখন স্বাবলম্বী; ও এখন একটা গ্রামীণ এনজিওর সঙ্গে যুক্ত আছে। গ্রামের মায়েদের-বোনেদের কাছে প্রেরনা খুব ভালোবাসার পাত্রী। নিজের যোগ্যতায় ও সবার মনে অনেক টা জায়গা করে নিয়েছে,, যোগ্যতা বলতে এখানে কেবল ডিগ্রী নয় ওর ভালো ব্যবহার এবং কোমল হৃদয় জন্য। মেয়েটির মধ্যে অদ্ভুত একটা মায়া কাজ করে যেটা সবাই বুঝতে পারে না কিন্তু আছে অদ্ভুত একটা ক্ষমতা । ও নিজের সুমধুর কথার জাদুতে যেনো মৃত-প্রায় শরীরেও জীবন দিতে পারে।
NGO বলতে গ্রামীণ একটা সংস্থায় কাজ করে; যেখানে ও মহিলাদের বিভিন্ন হাতের কাজ শেখায়।
আজকের প্রেরণা আর তিনটে বছর আগের প্রেরণার মধ্যে যেনো আকাশ-পাতাল একটা ফারাক। ফারাকটা খুব তরতাজা , উজ্জ্বল, জলের মতো স্বচ্ছ।

যেই প্রেরণার চোখে ঘুম ছিল না ; যেই প্রেরণার মনে সবসময় একটা ভয় কাজ করতো যে এই হয়ত অপমানিত হতে হবে ; যেই প্রেরণকে তার নিজের স্বামীর কাছে নির্যাতিত হতে হয়েছে দিনের পর দিন;আজকের দিনে দাঁড়িয়ে এটা কি সেই প্রেরণা?নাকি সম্পূর্ণ অন্য একটা মানুষ যে প্রতিবাদ করতে জানে!যার চোখে রয়েছে কত স্বপ্ন, যার কোথায় রয়েছে জাদু ,ভালোবাসার মানুষ গুলোর জন্য তার হৃদয় যেমন কোমল,তেমনই ঘৃণ্য মানুষ গুলোর জন্য ওর চোখ থেকে ঠিকরে পরে আগুন যেই আগুন সব জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
সঞ্চিতা এসে প্রেওনা কে বললো- দিদি তাড়াতাড়ি একটু ভিতরে এসো।
প্রেরণা বললো আসছি বোন।

সঞ্চিতা হলো প্রেরণার এসিস্ট্যান্ট। কিন্তু এসিস্ট্যান্ট কম বোন বেশি কারণ সঞ্চিতা প্রেরণা ছাড়া কিচ্ছু বোঝে না। উফফ সে কি ভীষণ ভালোবাসা ওর প্রতি ..
হবে নাই বা কেন?প্রেরণা যে সঞ্চিতাকে এক নতুন জীবন দিয়েছিল! এক রাতে যখন সঞ্চিতার দেহটা ক্ষতবিক্ষত – রক্তাক্ত হয়ে রাস্তায় ঝোঁপের পাশে পড়ে ছিল প্রেরণাই তাকে উদ্ধার করে পাশের হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছিল। কোনোক্রমে সে বেঁচে গেলেও আমাদের তথাকথিত ভদ্রসমাজের কাছে যে এসব মেয়ে কলঙ্কিত, তাই শুধু শারীরিক নয় মানসিক দিকেও বিদ্ধস্ত সঞ্চিতা নিজেকে শেষ করে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু প্রেরণা্র সংস্পর্শ তাকে এতটাই মুগ্ধ করেছিল যে সে নতুন করে আবার বাঁচার আদর্শ খুঁজে পেয়েছিল।

আজও সঞ্চিতা,আর ওর মতো আরও মেয়েরা প্রেরণার আদর্শে আদর্শিত হয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারেছে।
প্রেরণা ঘরের ভেতর ঢুকতেই সঞ্চিতা বলল দিদি আজ আমাদের মেয়েরা অনেকটাই কাজ এগিয়ে ফেলেছে। আমরা সময়ের আগেই আমাদের কাজ কোম্পানিতে পাঠিয়ে দিতে পারব। আমরা আরও বড়ো বড়ো অর্ডার নিতে প্রস্তুত। সমস্ত মেয়ে, বউরা সঞ্চিতার কথায় সহমত প্রকাশ করে বলে ওঠে; হ‍্যাঁ,দিদি আমারা পারবো। প্রেরণা মুচকি হেঁসে বলে, বিকেল গড়িয়ে সন্ধে হতে চলেছে এবার সবাই বাড়ি যাও, সবাই কাল সময় মতো চলে এসো, আমি কাল থাকবো না অফিসের কাজে একটু কলকাতায় যেতে হবে, ফিরতে আমার দুদিন সময় লাগতে পারে। এই বলে প্রেরণা অগোছালো হয়ে পড়ে থাকা শিল্পের কাঁচামাল গুলো গোছাতে শুরু করে। সবাই ইতিমধ্যে রওনা দিয়েছে বাড়ির দিকে। প্রেরণা হঠাৎ সঞ্চিতাকে বলে ওঠে আচ্ছা আমি যখন থাকবো না তখন তুমি একা আমাদের কম্পানির কাজ সামলাতে পারবেনা? সঞ্চিতা কিছু বুঝে উঠতে পারে না। কেন এমন বলছো এই প্রশ্নটাও করে উঠতে পারেনি, তাই বলে, তুমি পাশে থাকলে আমরা সব সামলাতে পারবো। আচ্ছা সঞ্চিতা তুমি কোয়ার্টারে ফেরো আমি একটু পরে যাচ্ছি।

সব কাজ গুছানো হতেই প্রেরণা গ্রামের পাশে বয়ে চলা সরু ফিতের মতো একটা নদীর পাড়ে বসে। সন্ধে গড়িয়েছে, পূর্ণিমা রাতের চাঁদের আলো প্রেরণার সারা শরীরে এসে মিশেছে। মৃদুমন্দ হওয়া তার শরীরকে শিহরিত করে তুলছে, কি যেন বলতে চাইছে কানে কানে।
যে একাকিত্ব থেকে সে পালিয়ে বেঁচেছিল সেই একাকিত্বের আঁধারে সে আবারও হারিয়ে যাবে,বারবার তার মনে হতে থাকে। একজন খুব কাছের মানুষের অনুপস্থিতি আবারও প্রেরণাকে একাকিত্বের দিকে ঠেলে দিচ্ছে…

নদীর তীরে বসে অতীতের কথা চিন্তা করতে করতে প্রেরণার দ-ুচোখের পাতা এক হয়ে আসে। ও চোখ দুটো বুঝতেই সামনে ভেসে উঠলো একটা পুরুষ; যার শ্যামলা গায়ের রং, বেজায় লম্বা বলিষ্ঠ শরীর, ঘনকালো কুকরানো চুল । আন্তরিক । আন্তরিক চ্যাটার্জী । বছর চল্লিশের একজন ভদ্রলোক।

ইনি হলেন এমন একটা মানুষ যার কাছে ওর জীবনের সব হিসাব গুলিয়ে গিয়ে আবার নতুন সমীকরণ খুঁজে নেয় ।
চোখ দুটিকে আরো দৃঢ় করে বুজে থাকে প্রেরণা।
তার চোখের সামনে নিজের অতীতের প্রতিবিম্ব প্রতিফলিত হতে দেখে।
সমস্ত শরীরে অসহ্য যন্ত্রণা নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছে এক অসহায় নারী। হয়তো শরীর টাকে কোনো রকম একটু এলিয়া দিতে ইচ্ছে করছিল ওর কিন্তু উপায় কই!


হ্যা! আজ থেকে তিন বছর আগের ঘটনা। রাত থেকে পেটে কিছু পড়েনি ওর ; ফুটে একটা দোকান থেকে চা কিনে আর টোস্ট কিনে খায় প্রেরণা। কিন্তু সর্বনাশ টাকা কই? সে যে টাকা নিয়ে বেরোতেই ভুলে গেছে। টাকা নেই বলতেই চা-ওলার চিৎকারে কিছু লোক জড়ো হয় আসে পাশে। লজ্জায় ওর মাথা নিচু হয়ে যেতেই পাশ থেকে একটি কণ্ঠ সোনা গেলো ; মার্জিত পুরুষালী কণ্ঠ-‘ দাদা কত টাকা হয়েছে?’
টাকা শোধ করতেই ওনার দিকে ঘুরে তাকায় ।

প্রেরনা- ‘ ধন্যবাদ !’
” আমাকে ধন্যবাদ জানানোর দরকার নেই ,রাস্তা তে কাউকে problem -এ দেখলে সাহায্য করাটা আমার দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে।”
মৃদু হাঁসে প্রেরণা।
” আমার নাম আন্তরিক চ্যাটার্জী। আমি বড়ই সাধারন একজন মানুষ। মানুষকে যদি সাহায্য করতে পারি তাতে আমি আনন্দ খুঁজে পাই ।”
আপনাকে অনেক ক্লান্ত দেখাচ্ছে, রাত থেকে কিছু খান নি বুঝি?
প্রেরণা- মুখ নিচু করে থাকে।
আপনি যাবেন কোথায়?
প্রেরণা-কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলে জানিনা।
আন্তরিক :মানে…আপনাকে দেখে তো কোনো গৃহস্ত বাড়ির বৌ বলে মনে হচ্ছে… আপনি একা একা যাচ্ছেন কোথায়?আপনার কোনো আত্মীয়ের বাড়ি বুঝি?
না…মাথা নীচু করে প্রেরণা বলে
আন্তরিক :তবে?
প্রেরণা: জানিনা। আমার কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই।
আন্তরিক:আমাকে পুরো বিষয়টা একটু খুলে বলুন তো দেখি আপনাকে যদি কোনো সাহায্য করতে পারি…
প্রেরণা:আমি সেসব কথা বলতে পারবো না।
আন্তরিক :আপনাকে এভাবে মাঝ রাস্তায় একা ফেলে যাই কি করে বলুন তো।আপনি আমার সাথে চলুন।
কোথায়…?
আপাতত আমার বাড়িতে, আন্তরিক বলে।
প্রেরণা সেদিন আন্তরিকদার প্রস্তাব অস্বীকার করতে পারেনি। অবশ‍্য এ ছাড়া প্রেরণার কাছে কোনো রাস্তাই খোলা ছিল না।

আন্তরিকদার বাড়ি; যা বলতে গেলে ফাঁকাই পড়ে থাকে। আসলে, ইনি ভিষন ব‍্যস্ত একজন মানুষ। ইনি শুধু এদেশে নয় বিদেশেও বহু NGO চালান এছাড়া একজন সফল বিসনেস ম‍্যান-ও বটে। তাই আর বাড়িতে থাকা ওনার ঠিক হয়ে ওঠেনা।
প্রেরণাকে উনি ওনার বাড়িতে থাকার অনুমতি দিলেও প্রেরণা রাজি হয়নি। পরের দিনই একটা আশ্রমে দিয়ে আসে প্রেরণাকে। সেখানে তার দায়িত্বপরায়ণতা আর নম্রব‍্যবহারে সকলের মন জয় করে ফেলে।
বেশ কিছু দিন কেটে যায়। একদিন হঠাৎ করে আন্তরিক প্রেরণা কে এসে বলে ‘ আমার মনে হয় এইবার তোমার কিছু একটা ভাবা দরকার । ‘
প্রেরণা বলে ভাবা বলতে কি আন্তরিক দা?
আন্তরিক ‘ কেনো তুমি কি কিছু একটা করতে চাও না? ‘
” হ্যাঁ চাই! ভীষণভাবে চাই ” প্রেরণা।

আন্তরিক বলে ওঠে, প্রেরণা তোমার জানতে বাকি নেই যে আমি বেশ কয়েকটা এনজিও র সঙ্গে যুক্ত আছি সেখানে তোমার মত অনেক মেয়েকে আমি নতুন জীবনের দিশা দেখিয়েছি। তাদের সকলেরই জীবনের উপর দিয়ে ঝড় বয়ে গিয়েছিল একটা সময়,, কিন্তু তারা এখন মোটামুটি ভাবে প্রতিষ্ঠিত ,,নিজের টুকু জোগাড় করতে সক্ষম। আর আমি চাই এখন থেকে এই কাজটা তুমিও সামলাও আমার সঙ্গে।
আন্তরিক এর কথা শুনে প্রেরণা দুচোখ ভরে জল আসে,, কিন্তু সেই জল তো আনন্দে । আন্তরিকদা কে যত দেখে ততই যেন প্রেরণা মুগ্ধ হয়ে যায় ,ভাবতে থাকে যে পৃথিবীতে শুধু সুকুমার বা তার বাবার মতো পুরুষেরাই নয় বরং আন্তরিকদার মত বৃহৎ মনের মানুষেরাও বিরাজ করে। কিছুদিনের মধ্যেই প্রেরণাকে বহু সংস্থার সাথে যুক্ত করে দেন আন্তরিক দা।
তারপর থেকে প্রেরণা আন্তরিক দার সঙ্গে তার এনজিও সকল কাজ সামলায়। তিনি ওর অতীতের অন্ধকার থেকে বেড়িয়ে এসে সাবলম্বি হয়ে উঠতে ওকে যথাসম্ভব সহায়তা করে গেছেন।
যতই দিন যেতে থাকে ততই প্রেরণার মনে আন্তরিকদার প্রতি সম্মান আরও বাড়তে থাকে। কিছুদিনের মধ্যেই দু-জনের সম্পর্ক আরও সু-মধুর হয়ে ওঠে। শুধু সম্মান করে তা নয়… হয়তো খানিক আপত্তি সত্ত্বেও মনের অজান্তেই একে অপরের প্রতি দূর্বল-ও হয়ে পড়েছিল।
আন্তরিকদার সংস্পর্শে এসে প্রেরণার জীবন সম্পূর্ণ পরিবর্তন হয়ে যায় গ্রামের মানুষেরা তাকে প্রাণাধিক ভালোবাসতে শুরু করে।

আজ পুরনো সৃতি গুলো যেন প্রেরণার বুকে ভিড় করে আসতে থাকে। আন্তরিক দার হঠাৎ করেই প্রেরণার জিবনে আসা যেনো একটা উপহার ছিল। অমূল্য উপহার !
কিন্তু আসলে ভালো কিছু ওর জীবনে স্থায়ী হয় না, হঠাৎ করেই একদিন আন্তরিক দা গ্রাম ছেড়ে কলকাতার দিকে চলে যায় রেখে যায় প্রেরণের জন্য একখানা চিঠি। গোটা গোটা হরফে সেখানে লেখা ছিল ” প্রেরণা তোমাকে আমি যেদিন প্রথম দেখেছিলাম ; আমি সেই দিনই বুঝতে পেরেছিলাম যে তোমার মধ্যে একটা সুন্দর হৃদয় আছে কিন্তু সেই সুন্দর হৃদয়টার মূল্যায়ন করার মতন ক্ষমতা সবার নেই ।আমি চাই ভবিষ্যতে তুমি আরো অনেক উন্নতি করো ।আরো অনেক মানুষের অনেক অনেক ভালোবাসা তুমি অর্জন করো।
জীবনে যা করতে চাও সব যেন করতে পারো। আমি কলকাতায় ফিরে যাচ্ছি। কলকাতাতেই আমার নিজের বাড়ি কর্মসূত্রে এই গ্রামে আসা। কিন্তু আমার মনে হয় এখন আমার থেকেও খুব সুন্দর করে তুমি এই গ্রামের মানুষ গুলোকে সামলাতে পারবে। হয়তো আর কখনো তোমার সঙ্গে দেখা হবে না; ভালো থেকো আর আমার ভালোবাসা নিও।
ইতি,তোমার ‘আন্তরিকতা দা’
প্রেরণা নিজের অজান্তেই নিজের সবটুকু দিয়ে আন্তরিক-কে ভালোবেসে ফেলেছিল। প্রেরণার বুঝতে কোন অসুবিধা হতো হতো না আন্তরিক দাও তাকে ভালোবাসে কিন্তু সেটা সে কখনোই স্বীকার করবে না। আসলে আন্তরিক-দা প্রেরণার জীবনে হঠাৎ আসা এক পারিজাত ফুলের মত।
আন্তরিক দা হলো প্রেরণা জীবনের সেই পরশপাথর যার ছোঁয়ায় প্রেরণা জীবনটা সম্পূর্ণভাবে বদলে যায়। তিনি সেই পরশমনি যার সংস্পর্শ কেবল প্রেরণা না হয়তো ওর মত সকল মেয়েরাই পেতে চায়। এসব ভাবতে ভাবতে প্রেরণা দুচোখের পাতা যেন ভার হয়ে আসে ; ওর দুচোখে যেন ঘুম নেমে আসে । নদীর তীরে পাথরটার ওপরও চুপচাপ ভাবে বসে থাকে প্রেরণা আর স্পষ্ট শুনতে পায় কানের কাছে কে যেন দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে, “ভালো থেকো”। প্রেরণা যেনো এক অন্য কল্পনার জগতে চলে যায় আর দেখতে পায় তার সেই ছোটবেলার সবথেকে প্রিয় কৃষ্ণচূড়া গাছটির নিচে বসে আছে ও। ফুলে ভর্তি হয়ে আছে গাছটা । মৃদুমন্দ হাওয়াতে গাছের ফুল গুলো ঝরে গিয়ে রাস্তা টাকে ঢেকে দিয়েছে ।
গাছ টা যেনো ওকে কি একটা বলতে চাইছে। কিন্তু কই সে? আজ কই সেই নীলকন্ঠ পাখিটা! যেটা ওর সুখ-দুঃখের একমাত্র সঙ্গী ছিল । নীলকন্ঠ পাখিটার অনুপস্থিতি যেন গাছটার সকল সৌন্দর্যকে মলিন করে দিচ্ছে;ঠিক যেমন আজকে প্রেরণার জীবনে সব থাকেতেও কিসের একটা অভাব তাকে ধীরে ধীরে এক অতল গভীরে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। ফুলে ভরে যাওয়া সূর্যোদয়ের ন্যায় উজ্জ্বল কৃষ্ণচূড়া গাছটা থেকে ওই নীলকন্ঠ পাখিটার অনুপস্থিতির সঙ্গে প্রেরণা জীবন থেকে আন্তরিকের হারিয়ে যাওয়াটার মধ্যে যেনো কি ভীষণ অদ্ভুতরকমের একটা মিল।

–:সমাপ্ত:–

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here