দীর্ঘ লকডাউন কাটিয়ে জীবন ধীরে ধীরে ফিরছিল নিজের ছন্দে । মানুষ আস্তে আস্তে ফিরে পাচ্ছিল সাধারণ জীবনের ছোঁয়া। কিন্তু আজ সেই করোনার গ্রাফ আবার ঊর্ধ্বমুখী। মহারাষ্ট্রে ইতিমধ্যে বেশ কিছু এলাকায় পুনরায় লকডাউন করেছে।এই রাজ্যেও ছবিটা খুব একটা আশা দেখাচ্ছেনা । কলকাতায় আবার বাড়তে শুরু করেছে করোনার প্রকোপ। যদিও সামনে বিধানসভা ভোট থাকায় এই রাজ্যে এক্ষুনি লকডাউন হবেনা বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু যে বন্দীদশা আমরা কাটিয়ে এসেছি, তার থেকে কি সত্যি উঠে আসতে পেরেছি আমরা? আমাদের আসে পাশের বেশ কিছু পরিস্থিতি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, কিভাবে আনলক পরিস্থিতির পর থেকে বেশ কিছু পরিষেবা বা ব্যবসায় এক অসম পরিবর্তনদেখা গেছে। সবার আগে যেটা আসে টা হল বাস ও অটোর ভাড়া।



লকডাউনের পর থেকে পুনরায় বাস চলতে শুরু করলে, সরকার থেকে যখন অর্ধেকযাত্রী বহনের নির্দেশিকা দেওয়া হয় তখন থেকেই বাস ও অটোরভাড়া বাড়ানো হয়।যদিও সরকারি নির্দেশিকা না মেনেই ভর্তিলোক নিয়ে বাস চলতে থাকে।বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও সেই ভাড়া কমেনি। এই হাল শুধু কলকাতা না, রাজ্যের সর্বত্র । এছাড়াও রেল এখনো সঠিকভাবে দূরপাল্লারেল পরিষেবাচালু করেনি। ট্রেন গুলো নিজেদের নামে না চলে, বেশিরভাগই স্পেশালট্রেন।আর তার ভাড়াও আগের থেকে বেশি।এমনকি বয়স্ক ছাড় অব্দি নেই।বিভিন্ন দোকানে স্যানিটাইজারের নামে বিলের সাথে কিছু টাকা আরো জুড়ে দেওয়া হচ্ছে।স্কুল কলেজ বন্ধ।সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক জিনিসের ক্ষেত্রেই দিতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা।

এবার করোনার পরিস্থিতির পর ছোট ফুড স্টল গুলোর অবস্থা খুব করুন। মানুষ অনলাইনে খাবার অর্ডার করবে, যেখানে খাবার কিভাবে তার কাছে পৌঁছাচ্ছে সেটা তার জানা নেই, অথচ ফুড স্টল সাস্থ্যবিধি যথাসম্ভব মেনে চললেও সেখান থেকে খাবার কিনছেন না।পাবলিক ট্রানসপোর্ট এড়িয়ে যাওয়ার জন্য অনেকেই কিনেছে নিজের বাইক বা গাড়ি, আর তাতে দূষণ বেড়েছে হুহু করে।এখনো স্বাভাবিকনা অনুষ্ঠান বা জলসা, তাই অনেক শিল্পী এখনো বিনা রোজগারে ঘরে বসে,অথচ সিনেমা হলে এখন ১০০% দর্শকের অনুমতি।সামনেই বিধানসভা ভোট,তাই সব দলেরই উচিত উপরোক্ত বিষয়গুলো নিয়ে ভাবনা চিন্তা করে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here