১০২ বছরে পড়ল জলিয়ানয়ালাবাগের সেই নৃশংস হত্যালীলা। ১৯১৯ সালের ১৩ই এপ্রিল পাঞ্জাবের জলিয়ানয়ালাবাগে জেনারেল ডায়ারের নেতৃত্ত্বে  এই গণহত্যা ঘটে। পাঞ্জাবে বৈশাখী খুবই গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। আর সেইদিন প্রচুর মানুষ বৈশাখী উপলক্ষে জমায়েত করেছিল জলিয়ানয়ালাবাগ চত্ত্বরে। তারা জানত না

সেসময় জমায়েতের উপর পুলিশের নিষেধাজ্ঞা ছিল। কোনোরকম সতর্কবাণী ছাড়া নির্বিচারে গুলি চালানো হয় সাধারণ মানুষের উপর। বাগ থেকে বেরোনোর যে দুটি ছোট রাস্তা, সেটাকেও পুলিশ ঘিরে ফেলে। প্রচুর মানুষ প্রাণ বাঁচাতে কুয়তে ঝাপ দেয়।
ব্রিটিশ সরকার জানান আনুমানিক ৩৫০ লোক মারা গেছেন। কিন্তু তৎকালীন কংগ্রেসের তরফ থেকে জানানো হয় প্রায় ১০০০ মানুষ মারা গেছেন। হান্টার কমিশনের নির্দেশে জেনারেল

ডায়ারকে অন্য জায়গায় স্থানান্তরিত করা হয়।  মহাত্মা গান্ধী তীব্র প্রতিবাদ গড়ে তোলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নাইট উপাধি ত্যাগ করেন।  সেসময় পাঞ্জাব ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ স্থান হয়ে উঠেছিল। রাউলাট আইনের বিপক্ষে সত্যাগ্রহ পাঞ্জাবে ব্যাপক আকার নিয়েছিল। পাঞ্জাবের অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ মেটাতেই আফগান বর্ডার থেকে জেনারেল ও ডায়ার কে অমৃতসর নিয়ে আসা হয়।

এমনকি ঘটনার আগে পুরো শহরকে দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। কোনোরকমভাবে শহরের বাইরে যাওয়া বা বাইরে থেকে আসা নিষেধ করে দেওয়া হয়। তবে বৈশাখী উপলক্ষে এই নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে দেওয়া হয়। অনেক মানুষের ধারণা হয় যে নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি উঠেগেছে। তারা জমায়েত করতে থাকে, যার বাহানাতে ব্রিটিশরা এই হত্যালীলা চালায়। প্রায় ১০০ বছর পর ইংরেজ পার্লামেন্ট এই ঘটনার জন্য ক্ষমা চায ২০১৯ সালের ৯ ই এপ্রিল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here