সুবর্ণলতা, যে ছিল সময়ের সাথে এগিয়ে, যার মধ্যে ছিল  জেদ , কিছু করে দেখানোর, অদম্য সাহস নিয়ে নিজেকে প্রমাণ করার। সেরকমই একজন হলেন টিয়ামোর প্রতিষ্ঠাত্রী সঞ্চারী নাথ।  যার অদম্য জোর ও সাহসে আজ হাওড়ার এক পরিচিত হোম বেকারী হল “Tiamo” । যেখানে পাওয়া যায় নিজের হাতে বানানো রকমারী কেক, চকোলেট ও  কুকিজ।  যদিও শুরুটা এরকম ছিল না। ইঞ্জনিয়ারিং কলেজ থেকে কম্পিউটার নিয়ে পাশ করেছেন সঞ্চারী। এমনকি মাস্টার ডিগ্রিও শেষ করেছেন। চাকরীও পেয়েছিলেন এক বহুজাতিক সংস্থাতে। কিন্তু স্বপ্ন বড়ো মায়ার জিনিস।  তাকে ছেড়ে দূরে চলে যাওয়াটা মোটেও সহজ কাজ না। তাই সেই চাকরীর প্রস্তাব ফিরিয়ে ২০১৭ নাগাদ তিনি শুরু করেন তার হোম বেকারীর ব্যবসা। সদ্য কলেজ পাস করে সে সময় পুঁজি ছিল খুবই অল্প, আর তার সাথে ছিলনা তেমন কোন সহযোগিতা। তার কেক বা রান্না করাকে সবাই সখের নজরেই দেখত। কিন্তু সঞ্চারী দেবী থেমে থাকেন নি। নিজের সামান্য বেঁচে থাকা পকেট মানি দিয়ে কাঁচামাল এনে বানাতে থাকেন বেকারীর বিভিন্ন প্রোডাক্ট। বন্ধু বান্ধব ও ফেসবুকের মাধ্যমে পাওয়া যায় দু একজন কাস্টমার। সেই শুরু,  একাই একটু একটু করে দাড় করান Tiamo কে। এই Tiamo  নাম নিয়েও আছে মজার গল্প। সঞ্চারীর ডাক নাম টিয়া, সেই থেকেই Tiamo.  শুরুতে ফেসবুকের মাধ্যমেই চলে অর্ডার নেওয়া।  শুরুতে শুধু হাওড়া ও কলকাতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল তার পরিধী। কিন্তু শুরুতেই ব্ল্যাক ফরেস্ট, রেড ভেলভেট, কিটক্যাট কেক বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তার সাথে বিভিন্ন ধরনের চকোলেট এবং  কুকিজ।

কিন্তু বাধাও কম আসেনি এই যাত্রা পথে। ডিজাইন চুরি, মিথ্যা রিভিউ সবই একে একে বিদ্ধ করতে থাকে Tiamo কে।  কিন্তু  সঞ্চারী দেবী এগিয়ে যান। ধীরে ধীরে তার বেকারীর বিভিন্ন প্রোডাক্ট মানুষের মন জয় করতে থাকে। একের পর এক পাবলিক রিভিউ , ভিন্ন ভিন্ন ব্যবসায়িক বুদ্ধি ও সততার জোরে আজ Tiamo এর কাস্টমার ১০০০ এর ও বেশী। শুধু এই না, সঞ্চারী দেবী টেলিভিশনের পর্দাতেও নিজের রান্নার কামাল দেখিয়েছেন। জি বাংলার রান্নাঘরে তিনি ছিলেন  অতিথি। রান্না করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন অভিনেত্রী অপরাজিতা দেবীকেও।  সেই যে ২০১৭ থেকে যে লড়াই তিনি শুরু করেছেন তা আজ অনেকটা পথ অতিক্রম করেছে। আজ অনেক মেয়ে , যারা নিজের স্বপ্ন কে পূরণ করতে চাই ছকে বাঁধা জীবনের বাইরে, তাদের অনুপ্রেরণা সঞ্চারী ও Tiamo. 

আজ হোম বেকারী জিনিসটা অনেকের কাছে প্যাশান হয়ে দাড়িয়েছে, কিন্তু  সঞ্চারী দেবীর কাছে তার জীবন। মাঝে ব্যাক্তিগত জীবন, আর্থিক সমস্যা কোনোকিছুই তাকে স্বপ্ন থেকে দূরে রাখতে পারেনি।  দু বছরের অক্লান্ত পরিশ্রম ও ঘুরে দাড়ানোর পর হাওড়ার অন্যতম নাম Tiamo। আপনারাও চাইলে ঘুরে আসতে পারেন Tiamo এর ভান্ডারে। লিঙ্ক – https://www.facebook.com/TiamoTheBakery/ . বর্তমানে  TIAMO সারা ভারতে  নিজের প্রোডাক্ট ডেলিভারী করছে। ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ঘরের বানানো রকমারী চকোলেট ও কেক পাঠিয়ে দিচ্ছে।  এর পরও বলবেন বাংলার মেয়েরা সাবলম্বী হয় না? তারা স্বপ্ন দেখতে জানেনা? দরকার শুধু একটু জেদ , ইচ্ছা ও অক্লান্ত পরিশ্রমের। উদাহরণ?  সঞ্চারী নাথ,  দ্যা ওনার of টিয়ামো ।

Interview By R

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here