January 28, 2021

Marmakutir

এবার হোক কিছু মনের কথা বলা

ভারতীয় সুন্দরী, নাট্যশিল্পী ও নারী স্বাধীনতার নাম, ইন্দ্রাণী রহমান

Spread the love

আজ  বিশ্বের বাজারে বিউটি কনটেস্টগুলিতে ভারতের যে সুনাম, সুস্মিতা সেন বা ঐশ্বর্য্য রায়ের যে খ্যাতি তার শুভ সূচনা হয়েছিল আজ থেকে ৬৮ বছর আগে ইন্দ্রানী রহমানের হাত ধরে। 

ইন্দ্রানী রহমানের জন্ম ১৯সে সেপ্টেম্বর ১৯৩০ সালে, তৎকালীন মাদ্রাজ শহরে।  বাবা রামলাল বাজপেয়ী ছিলেন একজন কেমিস্ট। মা রাগিণী দেবী ছিলেন একজন স্বনামধন্য নৃত্য শিল্পী। তার হাত ধরেই ইন্দ্রানী দেবীর ভরতনাট্যমে প্রবেশ।   ৯ বছর বয়স থেকেই নাচের তালিম শুরু হয় । মা রাগিণী দেবী তাকে ছোটবেলা থেকেই স্বাধীনভাবে সব কিছু চিন্তা করতে শেখান। তৎকালীন সামাজিক গণ্ডিগুলোর বাইরে বেরোতে শেখান। ১৬ বছর বয়সে  বাঙালি মুসলিম হাবিব রহমানের সাথে তার বিবাহ হয়। হাবিব রহমান MIT খ্যাত আর্কিটেক্ট ছিলেন।  স্বামী হাবিবের সাথে প্রথমে তিনি কলকাতায় আসেন ও পরে দিল্লি চলে যান। 

মাত্র ২২ বছর বয়সে, ১৯৫২ সালে আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়া শহরের ইন্টারন্যাশনাল বিউটি কনটেস্ট, মিস প্রেগনেন্ট ইউনিভার্স প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন ।  সাঁতারের পোশাক, মাথায় টিপ ও চুলে ফুল আটকে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন। মনে রাখা ভালো, সে সময় সমাজে, ওই বয়সের মেয়েরা দরজার বাইরে পা রাখার অনুমতি টুকুও পেতেন না।

১৯৬৯ সালে তিনি পদ্মশ্রী পান। এছাড়া সঙ্গীত নাট্য একাডেমির পুরস্কারও পান। 

১৯৬১ সালে এশিয়া সোসাইটির হয়ে প্রথম নৃত্য শিল্পী হিসেবে ন্যাশনাল ট্যুর করেন।  ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন রাষ্ট্রপতি কেনেডি এবং প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর  সামনে নৃত্য প্রদর্শন করেন। তিনি তার মায়ের সাথে ১৯৭৬ সালে পাকাপাকি ভাবে আমেরিকা চলে যান।  নিউ ইয়র্কের লিংকন সেন্টার ফর পারফর্মিং আর্টের জুলিয়ার্ড স্কুলের ফ্যাকাল্টি মেম্বার হন ১১৭৬ সালে। এছাড়াও তিনি হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়েও নৃত্য বিভাগে যুক্ত হন। 

তার এই অসাধারণ কৃতিত্ব তৎকালীন ভারতের নারীবাদী আদর্শকে আরো শক্ত করে তোলে। ১৯৯৯ সালে আমেরিকার ম্যানহাটান শহরে তার মৃত্যু হয়। 

রজত সাহা