ছেড়ে দেব না….

তোমায় হৃদমাঝারে রাখব, ছেড়ে দেব না..
“হৃদ মাঝারে “, রজত সাহা পরিচালিত এমন একটি ছবি, যা বিভিন্ন কারণেই ছেড়ে দেওয়া যায় না।
স্বল্প দৈর্ঘ্যের ছবির ক্ষেত্রে চিত্রনাট্যের বাঁধন সবথেকে বড়ো বিষয়। খুব অল্প পরিসরে অনেক কথা বলার মুন্সিয়ানাই এর প্রাণ। এই ছবি এমন এক ভিত্তির উপর গড়ে উঠেছে, যা সমাপ্তির পরেও সকলকে ভাবায়।
আয়ুষ ও নিধির পাকাদেখার মধ্যে দিয়েই এই ছবি শুরু।

বাড়ির অভিভাবকদের কথাবার্তার মধ্যে দিয়ে বেশ এক নস্ট্যালজিক পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে, যা এই “ম্যারেজ ফিক্সিং বাই ডেটিং” প্রজন্মের কাছে প্রায় “মিসিং “। পাকাদেখার এই স্বাদটুকু দেওয়ার জন্য পরিচালককে ধন্যবাদ। হবু বর-কনের কথাবার্তার মধ্যে দিয়ে বেশ মিষ্টি কয়েকটা মুহূর্ত তৈরি হয়েছে। এরপরই সামনে আসে নিধির অতীত, যা আয়ুষকে বলে নিধি নিজেই। অতীত আয়ুষেরও আছে। তা নিধির অতীতের মতোই সমান অন্ধকার কিনা, সে তুলনা ব্যতিরেকে তারা একে অপরের সাথে পথ চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে-এখানেই এ ছবির উত্তরণ।

তরুণ প্রজন্মের কিছু বিপজ্জনক পদক্ষেপ, বেলাগাম জীবনযাত্রা তাদের ক্ষতি করে বটে, তবে তারপরেও যে তারা আলোর পথযাত্রী হয়ে উঠতে পারে, এই ছবি সেই বার্তা পৌঁছে দেয় সকলের কাছে।
অভিনেতা ডিউক বোস যে শুধু “রোমান্টিক হিরো” হতে আসেননি, “হৃদ মাঝারে” তার প্রমাণ। হালকা আলাপচারিতা, নিধির অতীতের ধৈর্য্যবান শ্রোতা এবং সবশেষে একজন দৃঢ়চেতা পুরুষ- আয়ুষের চরিত্রের সমস্ত দিক নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন তিনি। তাঁর বিপরীতে “নিধি” , লহরী চক্রবর্তী তাঁর কেরিয়ার-এর অন্যতম শ্রেষ্ঠ অভিনয় করেছেন, বলাই যায়। তাঁর অভিনয়ে দর্শক সম্পূর্ণ নিধিকে পাবেন। বলাই বাহুল্য, এই যুগল ছবির দর্শকের চোখে জল আনতে সক্ষম হয়েছেন।

 

আলাদা করে বলতে হয় ক্যামেরার কথা। অনেক ছবিতেই সুন্দর লোকেশনও অব্যবহৃত হয়ে থাকে ক্যামেরাম্যানের দেখার অভাবে। কিন্তু এই ছবির ক্যামেরাম্যান প্রতি পদে পদে পুরোনো বাড়িটির কোণে লুকোনো সৌন্দর্য টেনে বের করে এনেছেন। সংলাপের সাথে সমানতালে চলেছে আলো আঁধারির খেলা। তার সাথে যোগ্য সঙ্গত করেছে আবহের সুর।
সমস্ত উপাদান সিঞ্চিত করে পরিচালক রজত সাহা এমনভাবে “হৃদ মাঝারে” গড়ে তুলেছেন, তা দ্বিধাহীনভাবেই প্রশংসনীয়। এরপরে তিনি দীর্ঘ দৈর্ঘ্যের ছবি পরিচালনায় এলে, বেশ কিছু ভালো ছবি পাবেন বাঙালি দর্শক।

∼ঘরোয়া কবি (টিম মর্মকুটির)

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here