January 28, 2021

Marmakutir

এবার হোক কিছু মনের কথা বলা

ঘরোয়া হিংসার হার বৃদ্ধি কর্ণাটকে, সংখ্যা বেড়ে হলো দ্বিগুণ

Spread the love

বৃদ্ধি পাচ্ছে ঘরোয়া হিংসার হার, কর্ণাটক সহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এই সংখ্যা ক্রমবর্ধমান। গত শনিবার পঞ্চম এন এফ এইচ এস বা ন্যাশানাল ফ্যামিলি হেল্থ সার্ভের ফল প্রকাশিত হয়। এই রিপোর্ট অনুযায়ী ভারতে ১৭ টি রাজ্যের মধ্যে ৪টি রাজ্যের প্রায় এক তৃতীয়াংশ মহিলা ঘরোয়া হিংসার শিকার হয়েছেন। কর্ণাটক সহ তেলেঙ্গানা, মহারাষ্ট্র, আসাম ও বিহারে ক্রমবৃদ্ধির হার সর্বোচ্চ। কর্ণাটকে ঘরোয়া সহিংসতার দরুন রজু মামলার সংখ্যা বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে এন এফ এইচ এস এর পঞ্চম সার্ভে রিপোর্ট থেকে। এই পাঁচ রাজ্যের প্রায় তিরিশ শতাংশ মহিলা স্বামী দ্বারা শারীরিক, মানসিক এবং যৌন নিগ্রহের শিকার হয়েছেন। ২০১৫-২০১৬ সালে প্রকাশিত চতুর্থ এন এফ এইচ এস রিপোর্ট অনুযায়ী কর্ণাটকের গ্রাম ও শহর মিলিয়ে নির্যাতিত মহিলার সংখ্যা ছিল ২০.৬ শতাংশ। ২০২০ তে সেই সংখ্যা বেড়ে দাড়িয়েছে ৪৪.৪ শতাংশেরও বেশি, যাকে বলা যায় প্রায় দ্বিগুন। ১৮ বছরের মধ্যে যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে প্রায় ১১ শতাংশ মহিলাকে। ২০১৫-২০১৬ সালেও এই সংখ্যা ছিল ১০.৩ শতাংশ।

কর্ণাটকের এই ক্রমবর্ধমান নারী নির্যাতনের ঘটনা একদিকে যেমন উদ্বেগজনক তেমনই অপরদিকে এর কিছু ইতিবাচক দিক আছে বলেও জানাচ্ছেন গবেষকরা। সাধারণত খুব কম সংখ্যক মহিলারাই ঘরোয়া হিংসা জাতীয় অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সাহস করেন। কিন্তু ঘরোয়া হিংসার দরুন রজু মামলার সংখ্যা বৃদ্ধির অর্থ এই জাতীয় অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো মহিলার সংখ্যা বৃদ্ধি। এই মর্মে অক্সফামের রঞ্জনা দাস বলেছেন এই সংখ্যা বৃদ্ধি কে একদিক থেকে সুখবর বলা যায়। বরং যেখানে এই সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকে অথবা যদি ক্রমহ্রাসমানও হয় সেক্ষেত্রে মহিলাদের যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণনে বাঁধা দেওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়।

জাতীয় মহিলা পরিষের তথ্যও কর্ণাটকে বারবারন্ত নারী নির্যাতনের সাক্ষ্য দেয়। ২০২০ তে নথিভূক্ত ৩১১টি নারী নির্যাতনের অভিযোগের মধ্যে ১২৪টি অভিযোগ ছিল ঘরোয়া সহিংসতার। যেখানে ২০১৯ অব্দিও এই সংখ্যা ছিল ৫২টি।

জাতীয় মহিলা পরিষদের সভাপতি রেখা শর্মা বলেছেন, “সামাজিক সচেতনতামূলক বিভিন্ন প্রচার আমাদের রাজ্যের (কর্ণাটকের) মহিলাদের এই অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দড়াতে সাহায্য করেছে। তাছাড়া বর্তমানে সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমেও অভিযোগ দায়ের করার সুযোগ গড়ে উঠেছে।”

তেলেঙ্গানায় প্রায় ৩৬.৯ শতাংশ মহিলাকে ঘরোয়া হিংসার শিকার হতে হয়েছে এবং প্রায় ৫ শতাংশ নাবালিকাকে যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। তেলেঙ্গানার শহরাঞ্চল অপেক্ষা গ্রামাঞ্চলেই আভিযোগ দায়েরের সংখ্যা বেশি।

অক্সফামের রঞ্জনা দাস তার তেলেঙ্গানায় তিন বছরের অভিজ্ঞতা থেকে জানিয়েছেন, “তেলেঙ্গানা ও কর্ণাটক সরকারের তরফ থেকে লিঙ্গ বৈষম্যের বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ে তোলার খাতিরে বিভিন্ন সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।” অপরপক্ষে তিনি এও জানিয়েছেন যে, “বিহার সরকার যতটা গুরুত্ব লিঙ্গ ক্ষমতায়নে দেন, যেমন ব্যাঙ্কে মহিলাদের নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয় ইত্যাদি, ঠিক ততটা গুরুত্ব ঘরোয়া হিংসা জাতীয় বিষয় দেওয়া হয় না।”

পঞ্চম এন এফ এইচ এস রিপোর্ট অনুযায়ী বিহারে ৪০.৬ শতাংশ মহিলা ঘরোয়া হিংসার শিকার।

আসামে এই সংখ্যা শতকরা ৩২ শতাংশ। পূর্বের রিপোর্টে (এন এফ এইচ এস -৪) যা ছিল ২৪.৫ শতাংশ।

নারী নির্যাতনের ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকা অপর একটি রাজ্য হলো মহারাষ্ট্র। ২০১৫-২০১৬ সালেও নতিভূক্ত অভিযোগ ছিল ২১.৩ শতাংশ, ২০২০ তে তা বেড়ে দাড়িয়েছে ২৫.২ শতাংশে।