কথায় আছে রাজনীতিতে ইতিহাস দ্রুত ফিরে আসে, বার বার ফিরে আসে। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে অন্যতম বড় চর্চার বিষয় হল সংযুক্ত মোর্চা। আব্বাস সিদ্দিকির সাথে বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসের হাত মেলানো। বিরোধীরা, বিশেষত তৃনমূল ও বিজেপি আব্বাস সিদ্দিকিকে সাম্প্রদায়িক নেতা আখ্যা দিয়ে, তার সাথে বামপন্থার হাত মেলানোকে তুমুল সমালোচনা করেছে। এমনকি অনেক বামপন্থী মানুষ ব্যাপারটাকে মন থেকে মেনে নিতে পারেন নি।  তবে রাজনীতির স্বার্থে এরকম দুইমেরুর একসাথে আসা কিন্তু প্রথমবার না। ১৯৩৬ সালে অবিভক্ত বাংলার প্রশাসনিক কাউন্সিলের যে নির্বাচন হয় তাতে  সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি কোন দলই। কংগ্রেস হয় বৃহত্তম দল ।


ফজলুল হকের  কৃষক প্রজা পার্টী  কংগ্রেসের সাথে সরকার গড়তে চায়, কিন্তু কংগ্রেস তাতে খুব একটা বেশি আগ্রহ দেখায় না। সরকার গড়ে মুসলিম লীগ ও কৃষক প্রজা পার্টী।  ফজলুল হক পরে এই সরকার থেকে বেরিয়ে আসে্ন। পরে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের হিন্দু মহাসভা ও ফজলুল হকের কৃষক প্রজা পার্টী একসাথে হয়ে গঠন করে প্রোগ্রেসিভ কোয়ালিশন পার্টী। সে সময় এটি বাস্তব বুদ্ধির পরিচয় ছিল। শ্যামাপ্রসাদ বলেছিলেন, “Bengal has suffered under the communal award… the only way to fight this is to organaise the Hindus & establish cooperation with those Muslims who feel the Bengal’s hope lies in joint work between the two communities” .




১৯৪১ সালের ১১ই ডিসেম্বর এই জোট, সরকার গঠন করে। মন্ত্রীসভায় স্থান পায় ফরওয়ার্ড ব্লক ও মুসলিম লীগও। অমৃতবাজার পত্রিকা এই সরকারকে নিয়ে মন্তব্য করে, “ জাতীয় সরকার না হলেও এটি একটি প্রতিনিধিমূলক সসরকার”।  কিন্তু এই সরকার মাত্র ছয়মাস টিকে থাকে। মুসলিম লীগের শত্রুতা, কংগ্রেসেরে অনাগ্রহ, ইউরোপিয়ান গ্রুপ,  আর গভর্নর স্যার হারর্বাটের অপছন্দ সব মিলে এই সরকারকে ভিতর থেকে ভেঙ্গে দেয়। আর দ্বিজাতি তত্ত্ব মানুষেরর মনে বাসা বেধে যাওয়ায় মুসলিম লিগের সরকারের  আসতে অসুবিধা হয় নি। সুরাবর্দি খাঁ মুখ্যমন্ত্রী হলে  ১৯৪৬ সালের দাঙ্গা বাংলার অটুট থাকার আশাকে একবারে শেষ করে দেয়।

 

ইতিহাস আবার ঘুরেছে। সংযুক্ত মোর্চার কথায় রাজ্যে শান্তি ও গণতন্ত্র ফেরাতেই এই জোট।  এখন তা সফল হবে কিনা, সে তো সময়ি বলবে।

লেখা-রজত সাহা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here