২৫শে ডিসেম্বর, এই দিনটার মানে কারোর কাছে পার্কস্ট্রিটের আলো, তো কারোর কাছে আবার চার্চের মোমবাতি। কেউ কেউ আবার শীতের আমেজে ছুটি উপভোগ করতে চলে যেতে চান শহর ছেড়ে নিরিবিলিতে। এসব তো গেল বড়বেলার ব্যাস্ত জীবন থেকে এক টুকরো আনন্দ খুঁজে নেওয়ার কথা, কিন্তু এর বাইরের আমাদের প্রত্যেকের জীবনেই ছিল একটা ধুলোখেলার ছোটোবেলা। যেখানে জীবন থেকে আনন্দ আলাদা করে খুঁজে নিতে হত না, যেখানে ব্যাস্ততার লেসমাত্র ছিল না, যেখানে ২৫শে ডিসেম্বর নিছকই একটা ছুটির তারিক ছিল না, কুড়িয়ে পাওয়া একটুকরো আনন্দ করার সময় ছিল না। গতিময় ব্যাস্ত জীবনের মাঝপথে হঠাৎ থমকে দাড়িয়ে পেছন ফিরে তাকালেই দেখতে পাওয়া যায় নস্ট্যালজিয়ায় মোড়া আপনার, আমার, আমাদের সবার ছোটোবেলা। ডিসেম্বর মাস পড়তে না পড়তেই শুরু হত দিন গোনা, ‘আর তো মাত্র কটা দিন, তারপরই বড়োদিনের ছুটি’, শুধু কি ছুটি?  ছুটির সাথে হাত ধরাধরি করে আসত ছুটির হোমওয়ার্ক। সেই হোমওয়ার্ক যত তারাতাড়ি শেষ করা যাবে ততই কোমরবেধে লাগা যাবে  বড়দিনের তোরজোড়ে। তখন তোরজোড় বলতে পার্কস্ট্রিট বা পিটারক্যাট নয়, তখন আয়োজন ছিল খানিকটা অন্যকরম। তখন খ্রীস্টমাস মানে ছিল যীশুখ্রীস্টের জন্মদিন আর কেক খাওয়া। তাই ডিসেম্বর মাস পড়তে না পড়তেই শুরু হত কেক কিনতে যাওয়ার বায়েনা। তার সাথে লিস্টে থাকত রঙিন কাগজ, রংবেরঙের চাঁদ, তারা আর একহাত লম্বা একটা কাগজের খ্রীস্টমাস ট্রী। ২৫শে ডিসেম্বরের আগে সমস্ত জোগাড় করে রাখা চাই। তখন কমবেশি সবার বাড়িতেই বড়দিনে একটা কমন দৃশ্য দেখা যেত। তার প্রথম পর্বে থাকত বাবার হাত ধরে কেক কিনতে যাওয়া। তারপর চলত এদোকান ওদোকান ঘুরে রংবেরঙের রাঙতা মোড়া কেক চকলেট কিনে বাড়ি ফেরা। পরবর্তী পর্বে থাকে যীশুখ্রীস্টের মূর্তির সামনে মোমবাতি খ্রীস্টমাস ট্রী কেক চকলেট যাবতীয় জিনিসপত্র দিয়ে বাড়ি সাজিয়ে ফেলা। আমাদের শিশু মনের কাছে যীশুখ্রীস্ট তখন খ্রীস্ট ধর্মের প্রবর্তক বা কোনো বিশেষ ধর্মের ধর্মগুরু ছিলেন না। তখন যীশুখ্রীস্ট মানে ছিল মাতা মেরির সন্তান, যীশুখ্রীস্ট মানে যার জন্মদিন কেক খাওয়ার উপলক্ষ, যীশুখ্রীস্ট মানে যে সবাইকে ভালোবেসে উপহার পাঠায় স্যান্টাক্লজের হাত দিয়ে। এভাবেই বছরের পর বছর ধরে খ্রীস্টমাসের আগের রাতে মোজা ঝুলিয়ে স্যান্টার উপহারের অপেক্ষায় কেটে যায় ছোটোবেলা। তারপর কোনো এক খ্রীস্টমাসের সকালে আগের রাতের ঝুলিয়ে রাখা খালি মোজা দেখে বোঝা যায় ছেলেবেলা এবার আমায় ছেড়ে গেছে অন্যকোনো ছেলের ঘরে। তারপর থেকে স্যান্টাও ভুলে যায় বাড়ির রাস্তা, বরাদ্দ থাকেনা উপহারও। আস্তে আস্তে ছেলেবেলা কাটিয়ে আমরাও মিশে যাই জীবনের ভীড়ে। তবু পথ চলতে গিয়ে কোনো খুদে হাতে খ্রীস্টমাস ট্রী দেখলে একবার থমকে দাড়িয়ে পেছন ফিরে দেখতে হয়ে রঙিন ছেলেবেলার দিকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here