পুরো বাদুড় ঝোলা হয়ে গঙ্গাধরবাবু সস্ত্রীক ফ্ল্যাটে ফিরলেন। পুজোর আগে এই হয়েছে জ্বালা। হাতে থাকে গুনে দুটো রবিবার বাজার করার জন্য। আর ওনার স্ত্রী বিজয়াদেবী প্রতিবছর আত্মীয়দের জন্য জামা কাপড় না কিনে ছাড়বেন না। গঙ্গাধর বাবু ভাবেন প্রতি বছর জামা দেওয়ার কি আছে? আর আত্মীয়গুলো হয়েছে তেমন। সারাবছর কোন খোঁজ নেবেনা। ঠিক পুজোর আগে আগে ফোন করার বহর বাড়িয়ে দেবে। “বিজয়া দি কেমন আছো”, “বউদি কেমন আছো”, “দাদা কেমন আছে”, “দাদার সুগার ঠিক হল গো”, ইত্যাদি আরও কিছু তৈলযুক্ত সম্বোধনে বিজয়াদেবীও না গোলে পারেন না। ফলস্বরূপ গঙ্গাধর বাবু পুজোর আগে কোন রবিবারই বাড়িতে বসে, ন্যাড়ার দোকানের চপ আর মুড়ি সাঁটাতে পারেন না। বিজয়াদেবীও এমন আবদার করেন যে, না বলা অসম্ভব, তার উপর প্রথম থেকেই বউয়ের আবদার না ফেলতে পারা ক্যাটাগরিতে পড়েন গঙ্গাধরবাবু।

সিঁড়ি দিয়ে বিজয়াদেবী আগে উঠছেন। ওনার মোবাইলের চার্জ শেষ। ফোন চার্জে বসিয়েই পিসতুতো বোন মিনুর সাথে বাকি কথা শেষ করতে হবে। সেই শ্যামবাজারে, ছোট কাকার মেয়ে শেফালির জন্য নাইটি কেনার সময় কথা বলতে বলতেই চার্জ শেষ হয়ে গেছে মোবাইলে। অধৈর্য হয়ে কলিং বেলটা বাজিয়েই চললেন বিজয়াদেবী। ভিতরে অভি করছে কি? দরজা খুলছেনা কেন? সামনে উচ্চ্যমাধ্যমিক বলে এবার ছেলেকে নিয়ে যান নি। আর একবার বেল বাজাতে যাবেন কি দরজা খুলে গেল। আর দরজা খুলেই গঙ্গাধরবাবু ও বিজয়াদেবী দুজনেই অবাক। অভির পাশে দাড়িয়ে ওরই বয়সী একটি মেয়ে। পরনে হাঁটু অব্দি একটি ড্রেস। বিজয়াদেবী ও গঙ্গাধরবাবু কে দেখে দাঁত বার করে হাসছে।

“হ্যালো আন্টী , থাঙ্কস ফর দ্যা নোটস অভি”, বলেই মেয়েটা বিজয়াদেবী ও গঙ্গাধরবাবুর পাশ দিয়ে লাফিয়ে লাফিয়ে নেমে গেল। বিজয়াদেবী রীতিমত হতবাক। গঙ্গাধরবাবু ঠিক বুঝে উঠতে পারছেন না, এই পরিস্থিতিতে একজন বাবার কি করা উচিত। প্রথমবার বাড়িতে তার ছেলের কোন মেয়ে বন্ধু এসেছে, তাও তাদের অবর্তমানে।

“কি হল তোমরা দাড়িয়ে আছো কেন? ভিতরে আসবে না?” কথাটা বলেই দরজার পাল্লা গুলো পুরো খুলে নিজের ঘরে চলে গেল অভি। বিজয়াদেবী গঙ্গাধরবাবুর দিকে তাকালেন। দুজনেই এখনও একই পরিমান হতবাক।

স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে বসে আছেন গঙ্গাধরবাবু। বিজয়াদেবী এদিক থেকে ওদিক পায়চারি করছেন। খাট ছেড়ে বারান্দায় যাবেন বলে গঙ্গাধরবাবু সবে উঠেছেন আর বিজয়াদেবী ঝাঁঝিয়ে উঠলেন, “কোথায় যাচ্ছো?”

“জামাটা খুলে বারান্দায় মিলতে। ঘামে ভিজে গাছে একদম।

“কোথাও যাবে না তুমি। ব্যাপারটা বুঝতে পারছো? একটা মেয়ে আমরা না থাকা অবস্থায় বাড়িতে এসেছে। তোমার ছেলে একটা মেয়ে কে নিয়ে এসেছে বাড়িতে।“ কথাটা বলতে বলতেই গন্দগাধর বাবুর দিকে তেড়ে আসেন বিজয়াদেবী।

“তাতে কি হয়েছে? বন্ধু আসবে না? দেখলেই তো, নোটস নিতে এসেছিল। “ জামার বোতাম খুলতে খুলতে বললেন গঙ্গাধরবাবু।

“চুপ করো তুমি”, বিজয়া দেবীর ধমক খেয়ে বোতাম খোলা বন্ধ করলেন গঙ্গাধর বাবু। “মেয়েটার পোশাকটা দেখেছ? কেও কোন ছেলে বন্ধুর বাড়ি ঐ পোশাক পরে যায় নাকি?”

“কি সব বলছ? ওরা আধুনিক মেয়ে। ওরা কি শাড়ি পরে রাস্তায় বেরোবে নাকি? তার উপর ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ে। এগুলো পাতি স্মার্টনেস।” গাঙ্গাধরবাবু শেষ বাক্যটা এক গাল হাসি নিয়ে বললেন।

“রাখো তোমার স্মার্টনেস। আমি এবারে যখন আন্দামানে বললাম একটা ড্রেস পরি, আমায় তো পরতে দিলে না। সেটা তাও পুরো পা ঢাকা। আর কচি কচি মেয়েদের স্মার্টনেস দেকছেন উনি।” বিজয়াদেবীর কথায় কি উত্তর দেবেন বুঝতে পারলেন না গঙ্গাধরবাবু। তার ছেলের বান্ধবী, মডেলের মত চেহারা নিয়ে যা পরবে, তা পরলে যে আশি কেজি ওজনের বিজয়া কে মানাবেনা, সে কথা বলার সাহস এখনও তার মধ্যে আসে নি।

“ওকে ইংলিশ মিডিয়ামে দেওয়াটাই ভুল ছিল। তখন বসুদা পই পই করে বলেছিল, বাংলা মিডিয়ামে দে, ছেলে কালচার শিখবে। তা না , তুমি জোড় করে ঐ স্কুলে ভরে দিলে। ষোল সতেরো বছরের মেয়েগুলো হাঁটুর চার আঙ্গুল উপরে স্কার্ট পরে আমার ছেলের সামনে ঘুরে বেড়ায়। ছেলের কি আর তাহলে কালচারে থাকে?“ কথা গুলো বলেই কপাল ধরে বসে পড়ল বিজয়াদেবী। স্ত্রীর এই নাটক নতুন দেখছেন না গঙ্গাধরবাবু। তাই বিশেষ পাত্তা না দিয়ে আবারর জামার বোতাম খুলতে যাবেন অমনি বিজয়াদেবী বলে উঠলেন, “আমি নিশ্চিত ওটা ওর প্রেমিকা। আজ ঘরে এনেছে, কাল ওকে নিয়ে অন্য কোথাও যেতে পারে। আমাদের ছেলের সাথে কথা বলা উচিত।“

গঙ্গাধরবাবু কিছুক্ষণ বোঝার চেষ্টা করলেন, তারপর বললেন, “ কথা বলব? কি নিয়ে? এই বয়সে একটা ছেলের মেয়ে বন্ধু থাকতে পারে না?”

“শোন, তোমার ছেলে ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ে, কিন্তু তুমি হরিগোপালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের। তাই বেশি চালাকি না করে এক্ষুনি চল, ছেলেরে সাথে কথা বলবে। যা যা বিষয় নিয়ে কথা বলার, সব বলবে। যাতে আমাদের মুখ না পুড়িয়ে দেয়।“ কথাটা বলেই বিজয়া দেবী ঘর থেকে বেরিয়ে ছেলের ঘরের দিকে গেলেন। হঠাৎ গঙ্গাধরবাবু একটা চাপ অনুভব করলেন। এ চাপ বাংলা মিডিয়াম বাবাদের হয়ে থাকে। আকাশের দিকে তাকিয়ে একটা প্রনাম ঠুকে দুটো লম্বা নিঃশ্বাস ছেড়লেন।

ঘরের মাঝে তিনজন বসে। অভি খাটের এক প্রান্তে বসে, আর অন্যপ্রান্তে তার মা, সামনের চিয়ারে বাবা। বিজয়াদেবী আড়চোখে ইশারা করলেন গঙ্গাধরবাবু কে, শুরু করার জন্য।

“তা তোর পড়াশোনা কেমন চলছে? ফিজিক্সে বললি একটু সমস্যা আছে। “

“হ্যাঁ, সেটা নিয়ে তো সকালেও আলোচনা করলাম। বললাম তো অজয়স্যার স্পেশাল ক্লাস নিয়ে নেবে।“

“বাঃ বাঃ, বেশ ভালো। তাহলে তো হয়েই গেল সমস্যার সমাধান”

“এটা জিজ্ঞাসা করার জন্য তোমরা দুজন আমার ঘরে এলে?” বিরক্ত হয়ে জিজ্ঞাসা করে অভি।

“না না, আরও কথা আছে।“ আমতা আমতা করতে থাকেন গঙ্গাধরবাবু। বিজয়াদেবী এবার বড় বড় চোখে তাকান ওনার দিকে। গঙ্গাধরবাবু বুঝতে পারেন, এবার জড়তা কাটিয়ে উঠতেই হবে। বলেন, “আচ্ছা যে মেয়েটা এসেছিল, সে কে রে?”

আভি কিছুক্ষণ চুপ থাকে। তারপর ঠোঁটের কোণে একটা হালকা হেসে বলে, “ও এই জন্য তোমরা দুজনেই এসেছ? ও তো নম্রতা। আমার ক্লাসমেট। সত্যি তোমরাও পারো বটে”

“মারব এক চড়, আমরাও পারি মানেটা কি? আমরা না থাকতে ওকে বাড়িতে ডেকেছিস কেন?” বিজয়াদেবী ধমকে ওঠেন।

“আরে , ওর এদিকে কোচিং ছিল। যাওয়ার পথে এসে নোটস নিয়ে গেল। তোমরা এত ওভার রিয়্যাক্ট করছ কেন?” অভিও গলার আওয়াজ বাড়িয়ে দেয়।

“আস্তে কথা বল। নোটস তো তইও নিচে গিয়ে দিয়ে আসতে পারতিস।” বিজয়াদেবীর তেজ আরও বাড়ে।

“আচ্ছা আচ্ছা ঠিক আছে।“ এবার দুজনের মাঝে ঢোকেন গঙ্গাধরবাবু। “ অভি, মেয়েটা শুধুই বন্ধু তো?”

“হ্যাঁ বাবা, আর কী হতে পারে?”

“না, সে হতে অনেক কিছুই পারে। মানে এখানে মেয়েটা শুধুই বন্ধু তো?”

“না না , তুমি বল আর কি হতে পারে?” অভি উত্তেজিত হয়ে পরে।

“আরে বোঝ না বাবা। বাচ্চা তো না তুই” কথাটা বলেই গঙ্গাধরবাবু বুঝতে পারেন যে তিনি এসির মধ্যেও ঘামছেন।

“না না তুমি বল… “

“ মেয়েটার সাথে প্রেম ট্রেম করছিস না তো?” অভির কথা শেষ হওয়ার আগেই বিজয়াদেবী জিজ্ঞাসা করেন। অভি মায়ের দিকে ঘোরে। মায়ের চাহনিতে এমন কিছু ছিল যে অভিও একটু ভয় পায়। বলে, “ না না মা, ধ্যাত কি যে বল। সামনে এক্সাম না। এখন এইসব কেও মাথায় আনে?”

“সত্যি তো?”

“হ্যাঁ মা, সত্যি। উফফ তোমরা এত চাপ খাও না” বলেই অভি হেসে ফেলে।

“ভালো। তবুও বয়স তো উঠতি। তাই তোমার বাবা কিছু কথা বলবে। সেগুলো শোন।“ কথাটা বলেই বিজয়াদেবী গঙ্গাধরবাবুকে ইশারা করেন।

“কী কথা?” অভি অবাক হয়।

“হ্যাঁ আবার কি কথা?” আমতা আমতা করেন গঙ্গাধরবাবু।

“যেগুলো বলব বলে ঠিক হল। তুমি কি চাও যে, আমি সেগুলো বলি মা হয়ে।“

“আচ্ছা আচ্ছা বলছি। “দুবার গলা ঝাঁকিয়ে তারপর শুরু করেন গঙ্গাধর বাবু। “দেখ অভি। তুই এখন যে বয়সে আছিস। মানে সবাই আসে সেই বয়সে। তো সেই বয়সে কিছু ব্যাপার হয় আরকি।“

“কি হয় বাবা?”

“হ্যাঁ বলছি বলছি। মানে এই ধর একটু বাইরে ঘুরব, সিনেমা দেখব। বন্ধু বান্ধব হবে…“

“হ্যা, সেটা কি খারাপ?” গঙ্গাধর বাবুর কথা শেষ করার আগেই অভি বলে।

“না না সেটা না। আমি বলতে চাইছি যে, ইয়ে মানে, এই যে মেয়েটা আজ এসেছিল, তো সেটাও কিন্তু খারাপ না। বন্ধু আসতেই পারে…” গঙ্গাধর বাবু আমতা আমতা করতে থাকে।

“বাবা কী বলে যাচ্ছ, কিছুই তো বুঝতে পারছিনা।“

গঙ্গাধর বাবুর তোতলানো দেখে এবার বিজয়াদেবী নিজেই শুরু করলেন, “ তোমার বাবা বলতে চাইছে, এই যে এত মেয়ে বন্ধু তোমার, তাদের সাথে এখানে ওখানে ঘুরতে যাচ্ছ, বাড়িতেও এনেছো, তাও আমরা না থাকা অবস্থায়। তো এমন কিছু করোনা যাতে আমাদের মুখ লোকাতে হয় সমাজের কাছে। আশা করি সেগুলো কি তোমায় মুখে বলে দিতে হবেনা।“

“আরে মা কী বলছ তুমি?” অভি মায়ের দিকে ঘুরে বসে। “আমি এখন পরীক্ষা ছাড়া কিছু মনে আনছি না। আর ঘুরতে আমি ছেলে বন্ধুদের সাথেই যাই না। তো মেয়েদের সাথে তো অনেক দুরের ব্যাপার। জানো, হিমেশ সেদিন ক্লাসে মোবাইল এনে বাজে ভিডিও দেখছিল, আমি তো তারপর থেকে হিমেশের সাথেও কথা বলি না। আমি যতক্ষন না আই আই টি যাচ্ছি, পড়াশোনা ছাড়া কিছুই ভাবছি না” কথা গুলো বলেই হেসে গদ গদ ভাবে তাকায় অভি।

“জানি তো, তুই তো আমাদের শোনা বাবা” বিজয়াদেবী অভির কাছে গিয়ে অভির মাথায় হাত বোলাতে থাকেন। সত্যি তো , ছেলেটা সবসময় বই নিয়ে পড়ে আছে। এতো ভালো ছেলে পাওয়াও ভাগ্যের ব্যাপার।

নিজের ঘরে এসে বসেছেন গঙ্গাধরবাবু ও বিজয়াদেবী। গঙ্গাধরবাবুর খুব ক্লান্ত লাগছে এবার। নিজের ঘরে এসিটা চালিয়ে নিয়েছেন।

“তোমার দ্বারা একটা কাজ হবে না। ছেলের সামনে মুখ দিয়ে কথাই বেরোয় না। নেহাত ছেলে আমার ভালো। আসলে পুরো আমার উপর গেছে কিনা।“ বিজয়া দেবী কথাগুলো বলতে বলতে ফোনটা চার্জে বসালেন। এ কথার উত্তর গঙ্গাধরবাবুর কাছে নেই। কুড়ি বছরের বিবাহিত জীবনে বুঝে গেছেন যে, এরকম কথার উত্তর শুনতে স্ত্রীরা পছন্দ করেন না।

“ এবাবা, মিনু কে ফোন করতেই ভুলে গেছি। তোমার ফোনটা দাও তো” বিজয়া দেবী গঙ্গাধরবাবুর কাছে এসে বললেন।

“আমার ফোনটারও চার্জ শেষ। এই দেখ।“ গঙ্গাধরবাবু ফোনটা দেখালেন।সুইচ টিপলেও কোন আলো জ্বলছে না।

“তাহলে অভিরটা নিয়ে আসি।“ বিজয়াদেবী ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন।

গঙ্গাধরবাবু আবার জামার বোতাম খুলতে লাগলেন। অনেক হয়েছে, আর এই ঘামে ভেজা জামা পরে থাকা যায় না। বিজয়াদেবী ঘরে ঢুকেই ফোন নম্বর লেখার ডাইরি খুজতে লাগলেন। কারন অভির ফোনে যে পিসতুতো মাসতুতো সম্পর্কের ফোন নাম্বারগুলো পাওয়া যাবেনা সেটা স্বাভাবিক। হঠাৎ অভির ফোন বেজে উঠল। স্ক্রিনে লেখা সেনোরিটা। এ আবার কি ধরনের নাম। গঙ্গাধরবাবুও এধরনের নাম কখনো শোনেন নি। অবশ্য অভির কিছু বিদেশী বন্ধু আছে স্কুলে। তাদের কেও হতে পারে । বিজয়াদেবী প্রথমে ভাবলেন অভি কে ডাকবেন, তারপর কি ভেবে ফোনটা ধরলেন। কারন এখন ছেলেকে ফোন দেওয়া মানে আর মিনুর সাথে কথা হবেনা। ছেলে বন্ধুরদের সাথে একবার ফোনে পড়াশোনা শুরু করলে আর থামবে না। কল ধরলেন বিজয়াদেবী। ‘হ্যালো’ বলতে যাবেন তার আগেই একটা মেয়ের গলা উল্টো দিক থেকে শোনা গেল।“কি স্যার, যা বলেছিলাম তাই করেছ তো? মায়ের সামনে ভয় পাওনি তো? ভয় পেলেই চাপ। স্মার্টলি উত্তরগুলো ঘোরাবে, তাহলে আর সন্দেহ করবে না। আচ্ছা শোন, আজ তো আমার ঠোঁটের সব লিপস্টিক তুমি খেয়ে নিয়েছ, কাল কিন্তু স্কুলের ছাদে আমি সব সুদে আসলে ফেরত নেব। হ্যালো… কি হল… অভি…”

ফোনটা কেটে কিছক্ষন স্থির হয়ে দাড়িয়ে রইলেন বিজয়াদেবী। কান গরম হয়ে উঠেছে। খুব দ্রুত ছেলের ঘরের দিকে হেঁটে গেলেন। গঙ্গাধরবাবু কি হল সেটা বুঝতে পারলেন না, তবে হঠাৎ যে আবহাওয়া খুব খারাপ হল সেটা বুঝতে পারলেন। যাক বাবা, ভাগ্য ভালো সময়মত ঘামে ভেজা জামাটা খুলে ফেলেছেন। না হলে এই যে ঝড় শুরু হল, এ কখন থামবে কেও জানে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here