গন্তব্য

0
131

ওভাবে দুঃখ করে কিছু হয় না! একে একে সকলেই হেরে যাবে তোমার ছিচকাঁদুনে স্বভাবের কাছে; তার চেয়ে মনখুলে কথা বলতে শেখো নয়তো মন “খারাপ” করার গল্প লিখে রাখো ডায়রি জুড়ে; কিংবা গুনগুন স্বরে গান গেয়ে তাদের বাতাসে মিশিয়ে দিতে পারো, এক খেয়ালে কাজের ছলে ভুলে যাওয়ার প্রমিস করতে পারো। দেখো, সবকিছু তো আর এতসহজে ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়! তুমি বরং এই রুমালটা রাখো যত্নে কান্না পেলে চোখ লুকিও এতে, তারপর কাঁদো কাঁদো চোখ নিয়ে ভাঙা ভাঙা স্বপ্ন জোড়ার নামে নতুন একটা প্রেম কোরো। এবার নিজেকে সামলে নিয়ে যখনই ওপারের মানুষকে বুঝতে চেষ্টা করবে তখনই হারিয়ে ফেলার ভয় তোমায় নিংড়ে নেবে! একি এখনো কাঁদছো কেন? আয়নার দিকে তাকাও, শোনো— আয়নায় নিজের মতো দেখতে মানুষটিকে বুঝতে শেখো, তার নরম মনের যত্ন নাও; একদিন সব সয়ে যাবে, আমি জানি, তুমি ঠিকই ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। হারিয়ে যাওয়া ডাকনামে— পিছুটান তোমায় আটকাতে পারবে না! তোমাকে তোমার মতো করে গ্রহণ করার মানুষই তোমার ঐ ছিচকাঁদুনে স্বভাবকে জিতে নেবে, তার স্নেহে এমনিই সব শুধরে যাবে। ভীষণ জ্বরে, না বলা কথাগুলো ঠোঁটের ওপরে অমলিন হাসি মুখে কাগজের নৌকায় ভাসিয়ে দিও— নিঃসঙ্গ বিকেলের শ্রাবণ ধারায়। তুমি তো জানো, দুঃস্বপ্ন শেষে দীর্ঘশ্বাস রয়ে যায় আর ক্ষত শুকোলেও দাগ রেখে যায়! তুমি বরং সব ভুলিয়ে, হাঁফ ছেড়ে বাঁচতে শিখিও। এবার তবে আবদার এনো একবুক সাহস রেখো; জড়িয়ে থাকার গল্পে— মন “ভালো” করা মিষ্টি স্বপ্ন দিও। আবেগ-স্নেহ, প্রাপ্তি-পরিণতির দ্বন্দ্বে কিংবা দুশ্চিন্তার শেষ প্রহরে নিজের জন্য ব্যস্ততাহীন কিছু অবসর রেখো। হ্যাঁ, সময় লাগবে! নিজেকে পুরোপুরি বুঝে সবটা আবার গুছিয়ে নিতে আরো অনেক সময় লাগবে। তাহলে ওই কথা রইলো…? এই রুমালটা যত্নে রেখো, আর পারলে যন্ত্রণা গুলো বিলিয়ে দাও আকাশে-বাতাসে। হারানো আর পাওয়ার হিসেব রাখা বন্ধ করো, যেটুকু পেয়েছো সেটুকুই কি কম? আর যেটা পাওয়া হল না!— সেটা নিয়ে আক্ষেপ পুষে রেখো না। বেশ, আমি তবে আসি। আমায় আবার ফিরতে হবে… একি ফেরার পথে, সব রাস্তা গুলিয়ে ফেলেছি তো! তোমার গন্তব্যে পৌঁছাতে আমায় সঙ্গে নেবে?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here