প্রায় সাতাত্তর দিন পর আজ পাপাই বাড়ি থেকে বের হল। বের হল বলে ভুল হবে, সবে দরজার বাইরে এসেছে। এই সাতাত্তর দিন সে নিজের ঘর থেকে বেরোয় নি। প্রথম কয়েক হপ্তা তাও বা একটু ছাদে গিয়েছিল, তারপর সেটাও বন্ধ। এখনও চোখ ছোট হয়ে আছে ওর। এত জোড় সূর্যের আলো, অনেকদিন চোখে পড়েনি পাপাইয়ের। শেষের চোদ্দ দিন তো বারান্দাটাও বন্ধ ছিল।

একটু একটু করে হাঁটা শুরু করল পাপাই। পাড়ার বাকি লোকগুলো গেল কোথায়? এত দিন পর বেরোনোর সুযোগ পেল, তাও কেও বেরোবে না? আজ সাতাত্তর দিন পর লকডাউন উঠল গোটা দেশ থেকে। আগে পাপাই, ক্লাস ফাইভের ব্রেন নিয়ে এত লকডাউন, কারফিউ বুঝত না। এখন ও সব বোঝে। সাথে বুঝেছে মানুষের জীবন ও মৃত্যুর মূল্য।
বাড়ির গলি ছেড়ে রাস্তায় উঠে এল পাপাই। রাস্তায় মাত্র কটা লোক। সবাই কেমন একটা দেখতে হয়ে গেছে। রুগ্ন, গাল ভর্তি দাড়ি, চোখের নিচে কালো দাগ। ওই দূরে ওটা রমেন কাকা না? পাপাই তাকাল, হাসল ,কিন্তু রমেন কাকা যেন চিনতেই পারল না। নিজের খেয়ালেই কিছু একটা বিড় বিড় করতে করতে চলে গেল। অবশ্য পাপাইকে না চিনতে পারারও কারন আছে। তার এত বড় চুল এর আগে পাড়াতে কেও দেখেনি । তার উপর পাপাই অনেক রোগা হয়ে গেছে। পা যেন চলছে না। অনেকদিন পর এতটা হাঁটলো ও। নাহলে এতো দিন শুধু এই ঘর থেকে ওই ঘর।
অপুর বাড়ির সামনে এসে দাড়াল পাপাই। বাড়িটা ফাঁকা। কোণের দিকে জানালাটা খোলা। জানলার কাঁচ অর্ধেক ভাঙ্গা। কেও বন্ধ করার নেই। তাই পরশুর ঝড়ে, ধাক্কা লেগে হয়ত ভেঙে গেছে। আপু যে পাপাইয়ের খুব ভালো বন্ধু ছিল সেটা না, তবে অপু যে আর নেই, সেটা ভেবে কষ্ট হচ্ছে পাপাইয়ের। অপু, ওর মা, বাবা, তিনজনেই মারা গেছে আজ ২০ দিন হল। ওদের সাথেই এই পাড়াতে মোট ১৮ জন মারা গেছে মারণ ভাইরাসে। প্রথম যখন এই ভাইরাস চিন ও ইউরোপে হানা দিল, তখনই এখানকার সরকার সবাইকে বলল বাড়ির ভিতর থাকতে, এক সাথে সবাইকে রাস্তায় না যেতে। স্কুল, কলেজ , অফিস সব বন্ধ হয়ে গেল। প্রথম প্রথম আমার খুব মজা লাগত। স্কুল নেই, টিউশন নেই, সারাদিন টিভি আর রাতে একবার বই খুললেই হয়ে যেত। বড়রাও যেন কেমন একটা করত বাইরে যেতে না পেরে। ছোটফট করত কিন্তু বেরোতে পারত না। বেরোলেই পুলিশ তাড়া করত। কিন্তু সেটাও ওই প্রথম নয় দশ দিন। তারপর আর কেও সরকার, পুলিশের কথা শুনলো না। সবাই…
আপুর বাড়ি থেকে টুবাইকে বেরিয়ে আস্তে দেখে চিন্তা থামালো পাপাই। ও ব্যাটা এখানে কি করছে? টুবাই আপুর কাকার ছেলে, যাকে বলে কাজিন। টুবাইকে দেখে মনেই হচ্ছে না যে ও সবার মত কদিন ঘর বন্দি ছিল। পাট করে চুল আঁচ়রানো, পরিষ্কার জমা প্যান্ট, তার উপর যেন একটু বেশি মোটাও হায়েছে।
“কি রে টুবাই, তুই এখানে?” পাপাই জিজ্ঞাসা করল।
টুবাই প্রথমে এমন ভাব করল যেন পাপাই কে চিনতে পারছে না। পরে সামনে এগিয়ে এসে একটা ঠোট বাঁকিয়ে হাসি দিল।
“হ্যা, অপুর খেলনা আর কিছু পড়ে আছে কিনা দেখতে এসেছিলাম। এ কদিন তো শুধু বাবা আসতো।” টুবাই উত্তর দেয়।
“তোর বাবা এই লক ডাউনের মধ্যেও আসতো? কেন? “
“কাকু কাকিমা অপু মারা গেলে, ওদের বাড়ির সব খাবার জিনিস, চাল, ডাল, বাবা প্রতি দিন রাতে এসে একটু একটু করে নিয়ে যেত। দোকানে তো আর খাবার কিছুই পাওয়া যাচ্ছে না। সকালে এলে পুলিশ মারবে তাই রাতে আসতো বাবা। জানিস, এই বাড়িটাও আমরা নিয়ে নেব। আর তো এই বাড়ির কেও বেঁচে নেই।” হেসে উত্তর দেয় টুবাই।
পাপাই অবাক হল। দোকানে মোটামুটি মুদিখানার জিনিস শেষ হয়ে গেছে আজ দশ বারো দিন হল। হাই রে, আগে জানলে ওর বাবাও কিছু খাবার নিয়ে যেত এই বাড়িটা থেকে।
“আচ্ছা, কোন খেলনা পেলি?” পাপাই জিজ্ঞাসা করল।
“না রে, ওগুলো সব আছে অপুর ছাদঘরে। আমি যাই নি। শুনেছি ওদের বাড়িতে যে কাজ করত, সে নাকি ঐ ছাদ ঘরে থাকত, ওদের রোগটা হওয়ার পর। এদিকে ওদের কাজের মাসীকে কেও বাড়ি যেতে দেখে নি। যদি এখনও ওখানে মরে পরে থাকে” ।
“বলিস কি, তোর ভয় লাগল না?”
“ধুর, ভয়ের কি আছে। প্রতিদিন তো প্রায় দু তিনটে লাশ দেখছি বারান্দা দিয়ে, পুলিশ নিয়ে যাচ্ছে। টিভিতে দেখেছি। রাস্তা ঘাটে নালায়, বন্ধ ঘরে কত লাশ পড়ে। আর ওসব দেখে ভয় লাগে না। জানিস, বাবা বলছিল এখন মানুষের থেকে এ দেশে লাশ বেশি। কোথায় পোড়াবে, কোথায় কবর দেবে, কে কবর দেবে তাই ঠিক নেই। তুই আমি লাকি রে, বেঁচে আছি এখনো। আর তা ছাড়া তুই ভীতু। আমি না।” কথাটা বলেই মুচকি হাসিটা আবার ফিরিয়ে নিয়ে এল টুবাই।
“আমি মোটেও ভীতু না” প্রতিবাদ করে পাপাই। “দেখ আমিও এখন একাই বেরিয়েছি।”
“সে তো সবাই বেরিয়েছে। তো তুই যাবি কোথায়?” টুবাই জিজ্ঞাসা করে।
“মদন দাদুর বাড়ি। দাদুর সাথে কত দিন হল দেখা হয় নি।” পাপাই উত্তর দেয়।
“ওই পাগলা বিজ্ঞানিটা?”
“বকিস না তো। দাদু আমায় একটা আরশোলা মারার স্প্রে বানিয়ে দিয়েছিল। সব আরশোলা ওতে মরে গেছিল।”
“সে তো পকাইদার দোকানেও পাওয়া যায়। শোন তুই মদন দাদুর বাড়ি গোঁসাই বাড়ির উঠোন দিয়ে যাবি তো?” টুবাই জিজ্ঞাসা করে।
“হ্যা, কেন?”
“সে গেলেই বুঝবি। পালালাম” টুবাই হেসে, চোখ মেরে চলে যায় বাড়ির দিকে।
হাসিটা দেখে গা জ্বলে যায় পাপাইয়ের। টুবাইটা বড্ড পাঁজি ছেলে। এমনিতেই পাপাই ওকে দেখতে পারে না, তার উপর অপুর সব খেলনা ও নিয়ে নেবে। আপুরা অনেক বড়লোক ছিল। কত খেলনা ছিল ওর। রাগে মাথা নাড়তে নাড়তে হেঁটে চলল পাপাই।
একটু আগাতেই পকাইদার দোকানে ঝামেলাটা চোখে পড়ল। লোকজন পকাইদার দোকান ভাঙছে। সবাই পাড়ার লোক। কিন্তু কেন এরকম করছে সেটা বুঝতে পারল না। সে ছুটে মদন দাদুর বাড়ি যাওয়ার গলিতে ঢুকে পড়ল। হাঁপ ছেড়ে বাঁচল। কেও ওকে ঝামেলার কাছে দেখলে নিশ্চয় বাবাকে বলে দিত। লোকগুলো যেন কেমন একটা হয়ে গেছে এই কদিনে। কেও কাওকে চিনতে চাইছে না, বুঝতে চাইছে না। খালি এটা চাই, ওটা চাই করে যাচ্ছে।
গোঁসাই বাড়িটা আসলে একটা ভাঙ্গা বাড়ি, যার ভিতর দিয়ে মদন দাদুর বাড়ি যাওয়ার একট শর্টকার্ট রাস্তা আছে। গোঁসাই বাড়ির মাত্র দুজন লোক। দুজনই বয়স্ক। সবসময় বারান্দায় বসে থাকে। কি মনে হল, পাপাই মুখের মাস্কটা পরে নিল। মাস্ক ছাড়া দেখলে মদন দাদু রাগারাগি করতে পারে। সামনে পাঁচিলের শেষে একটা কুকুর দাড়িয়ে আছে। এটা গোঁসাই বাড়ির পোষা নেরি কুকুর। এমনি কিছু করে না, তবে আজ পাপাইকে দেখেই উঠে দাড়াল। আহা রে, মনে হয় অনেকদিন কিছু পেটে পড়ে নি। মুখটা কেমন করুণ ।
পাপাই কুকুরটার মাথায় হাত বুলিয়ে চলে গেল। পাপাই চলে গেলে কুকুরটাও আবার ঝিমিয়ে পরল। কিন্তু একটু আগাতেই পাপাই যা দেখল, তাতে পাপাইয়ের গা গুলিয়ে উঠল। বমি উঠে এল। দড়ির খাটের উপর গোঁসাইদের বুড়োটা মরে পড়ে আছে। বুড়োর শরীরের উপর মাছি উড়ছে। চারিদিকে উটকো গন্ধ। চোখ বন্ধ হয়ে আসে পাপাইয়ের। মাথা ঘুরছে। সে বুঝতে পারছে তার পা আর তার শরীরটাকে ধরে রাখতে পারছে না। মাটিতে লুটিয়ে পড়ল সে। সব কিছু কালো হয়ে উঠল।

চোখ যখন খুললো, পাপাই তখন অন্ধকার একটা ঘরে। একটা সোঁদা গন্ধ আসছে ঘর থেকে। বুঝতে পারল, সে মদন দাদুর ল্যাবে আছে।
“কি,শরীর ঠিক লাগছে একটু?” মদন আপনমনে কাজ করতে করতে জিজ্ঞাসা করল।
“দাদু, গোঁসাই দের বুড়োটা…” উত্তেজিত পাপাইয়ের কথা শেষ করার আগেই মদনদাদু ওকে থামাল। “হ্যাঁ জানি। আর তুই ওদিক দিয়ে আসবি সেটা মাথাতে আসতেই আমিও বেরিয়ে গেলাম। দেখলাম তুই মাটিতে পড়ে আছিস। টেবিলের পাশে যে ওষুধটা আছে ওটা খেয়ে নে। হালকা লাগবে।”
“কিন্তু দাদু, গোঁসাই দের বুড়োটা?”
” তুই আগে ওষুধ খা”
পাপাই আর কথা না বাড়িয়ে ওষুধটা খায়।
“গোঁসাই দের বুড়োটা আজ দুদিন হল মরে পড়ে আছে। কিন্তু পুলিশ এর লোক আসতে চাইছে না। আর আসবেই বা কি করে? এত এত লাশ জড়ো হয়ে আছে, শ্মশানে পোড়ানোর লোক নেই। তার উপর অনেক জায়গাতে মানুষ লাশ পোড়াতে দিচ্ছে না। পুলিশ হাল ছেড়ে দিয়েছে। দেখি একটু পর আবার একবার কল করব। এ তো আর সাধারণ মরণ নয় যে পাড়ার ছেলেদের বলে শেষকৃত্ব সম্পন্ন করব।” হাতের কাজটা করতে করতেই মদনদাদু কথাগুলো বলে।
“শুনছি অপুদের কাজের মেয়েটাও নাকি মরে পড়ে আছে।” পাপাই এর গলা জড়িয়ে আসে।
“হতে পারে। অপুরা কিছুই মানল না। পাড়ার মোড়ে সিভিক পুলিশগুলোকে টাকা খাইয়ে রাত্রে গাড়ি নিয়ে লং ড্রাইভে যেত। যেখানে সারা দেশকে বার বার ঘরে থাকতে বলা হল। কেও শুনল না। নিজেরাও মারা গেল, সাথে পরিবারের বাকিদেরকেও মেরে ছাড়ল। শুরুতে যখন মানুষ এই রোগ থেকে সুস্থ হতে শুরু করল, সবাই ভাবল হাসপাতালে এর চিকিৎসা আছে। বাড়াবাড়ির কিছু নেই। কিন্তু কেও এটা বুঝল না যে একশ চল্লিশ কোটির দেশে চল্লিশ লাখও এক সাথে হাসপাতালে গেলে বেড পাওয়া যাবে না। কতজন তো বেড এর অপেক্ষাতেই মারা গেল। অপুর মা যখন হাসপাতালে ভর্তি হল, তখনই কাজের মেয়েটা বাড়ি চলে যেতে পারত। কিন্তু না, টাকা। বাড়ি খালি করে চলে গেলে ওকে আর কাজে নাও রাখতে পারে। এমনিতেও কাজের মেয়ে হিসেবে ও একটু বেশি মাইনে পায়। জিবনে যখন মরণ আর টাকার মধ্যে বাছতে হয়, তখন যদি কেও টাকা বেছে নেয়, তখন সেটা বাধ্যতা না, সেটাকে লোভ বলে। “
পাপাই এর চোখ দিয়ে জল বেরিয়ে আসে। তার ছোট হৃদয় এত ভারী কথা বুঝতে চাই না। “সব খারাপ হয়ে গেল দাদু এই কদিনে”।
মদন দাদু অপুর কাছে এসে পিঠে হাত রাখে। “মন খারাপ করিস না। আজকের দিনটা মানুষ নিজের দোষেই এনেছে। আর কে বলল যে সব খারাপ হল? বাইরে দেখ, আজ বাতাসে আর ধুলো নেই। আকাশ দেখ কত নীল। কত পাখি আজ আমাদের শহরের মাথায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। হরিদ্বারে হরিণ রাস্তায় উঠে এসেছে। ডলফিনরা আবার আগের মত লাফাচ্ছে সৈকতের ধারে এসে। পেঙ্গুইনরা আজ ডানা মেলে নাচ করছে। পাহাড়ের রাস্তায় কত বিচিত্র প্রাণী ঘুরে বেড়াচ্ছে। নদীর জল হঠাৎ কাঁচের মত পরিষ্কার হয়ে গেছে। কত রকমের মাছ ঘুরে বেড়াচ্ছে তাতে। এটা তো ওদেরও পৃথিবী। আমরাই ওদের পৃথিবীর এক কোণে ঠেলে দিয়েছিলাম। ধরেনে পৃথিবী তার বাকি সন্তান দের বাঁচাতে, নিজের অবাধ্য সন্তানদের একটু শাস্তি দিল। “
কথাটা শুনে পাপাই মদন দাদুর দিকে তাকায়। “তুমি তো বড় বিজ্ঞানী দাদু । যে যাই বলুক আমি জানি তুমি কত কত ফর্মুলা জানো। কিছু একটা কর না, যাতে সবাই আবার ফিরে আসে। এই মানুষও তো পৃথিবীর সন্তান দাদু। তাদের আর একবার সুযোগ দেওয়া যায় না?”
মদন দাদু পাপাই এর সামনে একটা চেয়ার টেনে বসে। “আর সুযোগ দিলেই মানুষ কি শুধরে যাবে?”
“হ্যা,আমি তো এখনও বাবা বকলে আর সেই জিনিস করি না।“ পাপাই এর কথা শুনে মদন দাদু হো হো করে হেসে ওঠে। তারপর পাপাই এর চুল এলোমেলো করে উঠে যায় নিজের টেবিলে। একটা হাত ঘড়ি নিয়ে ফিরে আসে। অদ্ভুত দেখতে ঘড়ি। ডায়ালটা যেন টিনের কৌটো। কত মোটা। ভিতরে কত কাঁটা।
“এই ঘড়িটা নে। তোর মত আমিও যখন শুরুতে কষ্ট পেতাম, এটা বানিয়েছিলাম। এটাতে পৃথিবীর সময় ঘোরানো যায়” মদন দাদু ঘড়িটা পাপাইয়ের হতে দেয়।
পাপাই অবাক হয়ে ঘড়িটা দেখে। “টাইম মেশিন?”
“না। টাইম রিভার্সার। একবারই ব্যবহার করা যাবে। ভিতরে কাঁটা দিয়ে যে কোন অতীতের তারিখ বসিয়ে দিবি। তারপর পাসের সুইচ টা টিপে দিবি। দেখবি পরক্ষণেই তুই সেই তারিখে চলে গেছিস।”
“কি বলছ। এ তো সিনেম”
“তাই তো আমি পাগল বিজ্ঞানী। এই সব তুই ছাড়া অন্য কাওকে বললে আমায় পাগল বলবে” মদন দাদু দাঁত বার করে হাসে।
“তাহলে এক্ষুনি করি” খুশিতে লাফিয়ে ওঠে পাপাই।
“না এখন না। এটা বাড়ি গিয়ে ব্যাবহার করবি। আর বাড়ি যাওয়ার পথে আর একবার আজকের পৃথিবীটা দেখবি। যদি তোর সত্যি মনে হয় যে এটা করা দরকার তাহলেই করবি, নাহলে না। কারন প্রকৃতির সাথে খেলা করলে কিন্তু তার খেসারতও দিতে হবে আমাদের।” মদন দাদু কথা গুলো বলে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল পাপাইয়ের দিকে। পাপাই স্থির হয়ে বসে মদন দাদুর কথা বোঝার চেষ্টা করে। হাতে তার এখন টাইম রিভার্সার।

2

রাস্তায় নেমে এল পাপাই। মদন দাদু ঠিক কি বলল শেষে সেটা বুঝতে পারল না। কিন্তু বাড়ি গিয়েই সে ঘড়িটা চালু করবে। ফিরে যাবে ফেব্রুয়ারি মাসে। যাতে আবার সব আগের মত হয়ে যায়। কিছু না হোক সে পাড়ার লোকগুলো কে বোঝাবে এবার। ভাইরাসের জন্য এবার সে সবাইকে প্রস্তুত থাকতে বলবে। যেতে যেতে আজ সে আকাশের দিকে তাকাল। সত্যি এত নীল আকাশ সে দেখেনি। কত রকমের পাখি। দূরে ওটা চড়ুই পাখি না? কত দিন পর আজ চড়ুই দেখল পাপাই। সত্যি পৃথিবীটা বড় সুন্দর।

বড় রাস্তায় উঠে আসতেই হঠাৎ থমকে গেল পাপাই। পকাই দার দোকানে ঝামেলাটা বিশাল আকার নিয়েছে। মানুষজন অনেকদিন ঠিকঠাক খেতে পায় নি। ওরা পকাইদার দোকান লুটে নিচ্ছে। রাস্তায় ছড়িয়ে আছে চাল ডাল। যে যাকে পারছে ধাক্কা মারছে। পাড়ার ক্লাবের বাপীদা একটা লাঠি নিয়ে এগিয়ে আসছে। ও কি কাওকে মারবে নাকি? ভয় পেল পাপাই। যা ভেবেছে তাই। পকাইদা কোনরকম দোকানের সাটার নামাতে যাবে এমন সময় বাপি দা পকাইদাকে লাঠির বাড়ি মারল। পকাইদা রাস্তায় লুটিয়ে পড়ল। পাপাই এর ভয় লাগল, পকাইদা যে নাড়াচাড়া করছে না। কারোর সে দিকে খেয়ালই নেই। পাপাই একটু পাশে সরে এসে দাড়াল। গোঁসাইদের কুকুরটা মারপিট দেখে তখন থেকে ঘেউ ঘেউ করে যাচ্ছে। বাপি দা ছুটে এসে মারল ওর মাথায় লাঠির বাড়ি।
আর পারল না পাপাই। রাস্তায় বসে কাঁদতে লাগল। এরা কি করছে? কেন করছে? গোসাইদের কুকুরটাও পকাইদার পাশে শুয়ে আছে। মাথা থেকে গল গল করে রক্ত পরছে। এরা সত্যি মানুষ না। এরা এই পৃথিবীর সন্তান না। এরা বাজে। এরা রাক্ষস। পাপাই দৌড় লাগল বাড়ির দিকে। যাওয়ার পথে রাস্তায় ফেলে দিয়ে গেল ঘড়ি টা। ঠিক তখনই একটা পুলিশের গাড়ি এসে দাঁড়াল সেখানে। গাড়ির চাকা চুরমার করে দিল রাস্তায় পড়ে থাকা টাইম রিভার্সারটাকে।

লেখকঃ-  রজত সাহা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here