পাতা ঝরার দিনে

Spread the love

 1,194 total views,  1 views today

পার্কটা সাধারনত প্রাতঃভ্রমণের জন্য বানানো হলেও, দুপুর গড়ালেই শহরের প্রেমিক প্রেমিকা, যাদের একে অপরের প্রতি প্রেম দেখানোর খুব প্রয়োজন কিন্তু চার দেওয়ালের বিলাসিতা নেই, তারা দখল নেয়। আর টেকনিক্যাল কলেজের ছাত্রছাত্রীরা মাঝে মাঝে হাওয়া খেতে আসে। এদের কেও কেও যখন হাওয়া খাওয়ার অছিলায় হাতে হাতে ছোঁয়া লাগায়, তখন সেটা পরিবেশের মানানসই হলেও, যখন কেও বই খুলে অঙ্ক কষতে বসে তখন বেশ দৃষ্টিকটু হয় বইকি। রিতম আজ প্রায় চার বছর এই একই জিনিস দেখে আসছে। প্রথমে কলেজ শেষে বিকালে হাওয়া খেতে সে পার্কে আসত। সাথে ফিরোজও থাকত। হোস্টেলে গেলে তো সেই একই জীবন। তার চেয়ে পার্কটা অনেক জীবন্ত মনে হত। তারপর একটা সময় পর মৃত হোস্টেল প্রান ফিরে পেল, তাও পুরোদমে। কিন্তু পার্কে আসা বন্ধ হল না রিতমের। তার কারন সুদিপা। কলেজের শেষে সুদিপাকে নিয়ে অনেকটা সময় কাটত এই পার্কে। কত ছোঁয়া, চাহনি আর মান অভিমানের সাক্ষ্যি থেকেছে এই পার্ক। অথচ আজ রিতমের এই পার্কের ওপরেই অভিমান হচ্ছে। এই ক বছরে পার্ক ওদের অনেক মুহূর্তের সাক্ষ্যি হয়ে থেকেছে , কিন্তু একবারও বুঝতে দেয়নি যে আজকের দিনটাও পার্কের কোলেই নেমে আসবে। তাহলে মুহূর্তগুলোকে আটকে রাখত সে। যেমন আজ কলেজের সব ক্লাসমেটরা করেছে। আজ শেষ পরীক্ষাটাও হয়ে গেল ফাইনাল সেমিস্টারের। কলেজ থেকে বেরনোর আগে সবাই সবার জামাতে বিশেষ বার্তা লিখে দিয়েছে। কেও পুরনো কিছু স্মৃতি তুলে ধরেছে যাতে এই চার বছরের আলাপচারীতা সময়ের ফাঁকে হারিয়ে না যায়, তো কেও শুধু আগামী দিনের শুভেচ্ছা। আজ পার্কে ফিরোজ সাথে এসেছে। সে আপাতত রিতমের জামায় নিজের কথা লিখতে ব্যাস্ত। 

“ভাই শেষ হল তোর লেখা?” রিতম বিরক্ত হয়ে জিজ্ঞাসা করে। 

“দাড়া না। এতো ছটফট করছিস কেন?” ফিরোজ রিতমের পিঠে মার্কার পেন ঘষতে ঘষতে উত্তর দেয়। 

“যা লিখবি লেখ, শুধু খিস্তিগুলো বাদ দিস”

“কাকা, তোমার পিঠে খিস্তি পড়তে বাকি নেই কিছু। আর আমি আমার খিস্তি রাত্রের জন্য তুলে রেখেছি। একটা করে পেগ পড়বে, আর খিস্তি ঝরবে।“

রিতম এবার সত্যি বিরক্ত হয়। “আছা ঠিক আছে। তুই শেষ কর। সুদিপা এসে যাবে এক্ষুনি।“

“সুদিপার সাথে কি আজই শেষ…” ফিরোজের প্রশ্ন শেষ করার আগেই রিতম ঘাড় নাড়ে। সুদিপার সাথে যে আজই শেষ দেখা সেটা ও বার বার মনে করতে চাই না। 

“ঠিক আছে। আমি আসি। তুই তাড়াতাড়ি চলে আসিস হোস্টেলে।“ ফিরোজ মার্কারটা রিতমকে ফেরত দিয়ে বেড়িয়ে যায় পার্ক থেকে। সামনের কৃষ্ণচূড়া গাছটার মতই দাড়িয়ে আছে রিতম, একা। এই গাছটা খুব পছন্দ রিতমের। পার্কের এই দিকটাই শুধুই অর্কিড। বড় গাছ বলতে শুধু কৃষ্ণচূড়া গাছটা। আজ চার বছর রিতম এই গাছে কোন ফুল হতে দেখে নি, যেন কারোর অপেক্ষায়, অভিমানে নিজেকে ফুটিয়ে তোলেনি আর। 

“হ্যালো স্যার।“, একটা মিষ্টি গলা শুনে পিছনে ঘুরে তাকায় রিতম। সুদিপা এসে গেছে। বাসন্তী রঙের একটা কুর্তি পরে, আর কপালে কালো টিপ। টেকনিক্যাল কলেজ হওয়াতে সে সুদিপাকে খুব কমই  ইউনিফর্মের বাইরে দেখেছে। কিন্তু আজ সুদিপা এতো মায়া সাথে নিয়ে এসেছে কেন? ও কি জানেনা, যে আজ রিতম এই মায়াতে জড়িয়ে গেলে, কিছুইতেই যেতে দেবেনা কাছে থেকে। সুদিপার নজর প্রথমেই গেল রিতমের পিঠে। 

“ঈস কি অবস্থা এগুলো। পিঠের মধ্যে লিপস্টিক দিয়ে চুমু কে দিল?” সুদিপা বেশ বড় বড় চোখ করে জিজ্ঞাসা করে। রিতম পিঠটা দেখার চেষ্টা করল। কিন্তু নজরে পড়ল না। নিশ্চয় ক্লাসের কোন বান্ধবীর কাজ। অন্য দিন হল এটা নিয়ে সুদিপার সাথে একটু মজা করা যেত। কিন্তু আজ একদম ইচ্ছা নেই। একটু গম্ভির ভাবেই সে উত্তর দিল, “পিছনে কে কি করেছে আমি কিভাবে দেখব?”

“তাই না? বাবুর খুব সখ হয়েছে অন্যের থেকে চুমু নেওয়ার” কথাটা বলেই সুদিপা রিতমের গলা জড়িয়ে ধরে। রিতম ছাড়িয়ে নেয় নিজেকে।  সে মেনে নিতে পারছে না যে, কালকের পর থেকে সুদিপার সাথে আর দেখা হবেনা প্রতিদিনের মত। সুদিপাও রিতমের ব্যাবহারে অবাক হয়। কিছুটা আন্দাজও করে রিতমের মনের অবস্থা। কিন্তু তাকেও আজ শক্ত থাকতে হবে। 

“তোমার পরীক্ষা কেমন হল আজ?” সুদিপা জিজ্ঞাসা করে।

“ভালোই। তোমার?” 

“আমার তো দারুন। পুরো বত্রিশ পাতা লিখে এসেছি।“ সুদিপা হেসে উত্তর দেয়।

সুদিপার এই খুশি থাকাটা রিতমকে আরও খোঁচা দেয়। সুদিপার মনে কি কোন রকম খারাপ লাগা নেই? কাল থেকে আর চাইলেই ওরা দেখা করতে পারবেনা। আদেও আর কখনও দেখা হবে কিনা তাই জানেনা। রিতম আবার গম্ভির হয়ে জিজ্ঞাসা করে, “তুমি আজ এত সেজেগুজে তৈরি হয়ে বেরিয়েছ কেন?”

“আসলে রাত্রে ফ্লাইট তো, তোমার সাথে দেখা করেই সোজা এয়ারপোর্ট যাব… তাই আর কি। “ শেষ বাক্যটা বলার সময় সুদিপা রিতমের দিকে আর তাকাতে পারল না। 

“তুমি যে বলেছিলে কাল সকালে যাবে ‘সু’? আজ রাত্রে আর একবার তো দেখা করার সুযোগ থাকত।“ চোখ ছলছল করে উঠল রিতমের। 

“হ্যা আসলে, কাল শিলিগুড়িতে বনধ। এদিকে আমার অনেক কাগজপত্র মা বাড়িতে খুঁজে পাচ্ছে না। হাতে মাত্র দুদিন আছে জার্মানি যাওয়ার আগে। তাই বাড়িতে ঠিক করল যাতে আজই চলে যাই। অন্তত আজকের রাতটায় সব গুছিয়ে নিতে পারব। “

“মানে আমরা আর কিছুক্ষনের জন্য অফিসিয়ালি প্রেমিক প্রেমিকা তাই তো?” রিতম বেশ রেগেই কথাটা বলে। 

“ অফিসিয়ালি মানেটা কি রিতম? আমাদের সম্পর্কটা কি কোন সরকারি কন্ট্রাক্ট নাকি? কি বলছ তুমি এগুলো? তুমি তাকিয়ে দেখছো রিতম? আমি পরীক্ষা দিয়ে, কিছু না খেয়ে, বিশ্রাম না নিয়ে,  কোন রকম ব্যাগটা বাবার হাতে তুলে ছুটে এসেছি তোমার কাছে । যাতে তুমি আমায় দেখে খুশি হও, একটু ভালোবাসো, তার জন্য সময় বাঁচিয়ে তোমার পছন্দ মত সেজে এসেছি। কষ্ট আমার হচ্ছে না? তাহলে কেন এরকম রাগ দেখিয়ে আমাদের সময়টা খারাপ করে দিচ্ছো রিতম?” কথাটা বলতে বলতেই চোখে জল এসে যায় সুদিপার। সে পাশের ফাঁকা বেঞ্চটায় গিয়ে বসে। 

রিতম আড় চোখে সুদিপার দিকে তাকায়। তারপর বেঞ্চে বসে ব্যাগের চেন খুলে একটা ক্রিম বিস্কুটের প্যাকেট বার করে। “এটা খেয়ে নাও। না খেয়ে থেক না।“

সুদিপা আর চোখে রিতমের দিকে দেখে । রিতম মাথা নামিয়ে আছে। সে চোখের জল মুছে বিস্কুটের প্যাকেটটা নেয়। “আমি ভাবলাম আজও আমার জন্য শুধু বাদাম আনবে। ভাগ্যিস এটা এনেছো। বড্ড খিদে পেয়েছিল।“ কথাগুলো বলতে বলতেই একটা বিস্কুট মুখে ভরে। কিন্তু রিতম কোন সাড়া শব্দ দেয় না। 

“কি হল , তুমি এখনও রেগে আছ?” সুদিপা জিজ্ঞাসা করে। 

“রাগ না সু। তুমি বুঝতে পারছ, আর তিন দিন পর তুমি শুধু অন্য দেশেই না, অন্য মহাদেশে যাচ্ছ। কবে আবার তোমায় দেখব, কবে আবার তোমায় ছুতে পারব, আমি জানি না। তোমার তো ওখানে গিয়ে সব কিছু গুছিয়ে নিতেই অনেক সময় লেগে যাবে। কিন্তু দেখ। তুমি কতটা সহজ ভাবে ব্যাপারটা মেনে নিচ্ছ। “

সুদিপা নিজের অর্ধেক খাওয়া বিস্কুটটা হাতেই ধরে রাখল। “ তুমি এত কেন ভাবছ রিতম। আমরা তো আগেই এই বিষয়ে কথা বলেছি। তোমার আমার সম্পর্কটা চার বছরের। তোমার সিভিল, আমার ইলেকট্রিক্যাল। পাশাপাশি দুটো ক্লাস রুম, আমাদের প্রথম হাত ধরা, প্রথম কিস, প্রথম এক সাথে দিঘাতে রাত্রে থাকা, আমাদের প্রথম ঝগড়া, আমায় দেওয়া তোমার প্রথম উপহার, এগুল কি আমার বার্লিনে নামার সাথে সাথেই মন থেকে মুছে যাবে? আমরা তো আগেও এই বিষয়ে কথা বলেছি। “ সুদিপা যতটা শান্ত ভাবে বোঝানো যায়, বোঝায় রিতম কে। 

“সাথে সাথে না হলেও ধীরে ধীরে তো মুছে যাবে সু। তুমি যেখানে যাচ্ছ, সেখানকার আর এখানকার সাড়ে পাঁচ ঘণ্টার সময়ের পার্থক্য। কখন ফোন করব , কখন ভিডিও কল করব কিছুই ঠিক থাকবে না। হ্যা, শুরুতে নিজেদের প্রতি সময় দেব। অনেক চেষ্টা করব যাতে একে অপরের সাথে যতটা পারি সময় কাটানো যায়। কিন্তু তারপর তুমি ওখানে পড়াশোনা, নিজের জীবন নিয়ে ব্যাস্ত হয়ে যাবে। আমিও এদিকে একটা চাকরীর জন্য ব্যাস্ত হয়ে যাব। ধীরে ধীরে কথাবার্তা কমে যাবে ।  একে অপরকে সময় দেওয়া কমে যাবে। তারপর এরকম অনেক সন্ধ্যে আসবে যেখানে তুমি একটার পর একটা পেপার লিখবে, আর আমি বকুলতলার প্লাস্টার করা ফ্ল্যাটটায় একাকিকত্তের জীবনে পড়ে থাকব।“ কথা গুলো একটানা বলে হাপিয়ে ওঠে রিতম। সুদিপা এক দৃষ্টিতে রিতমের দিকে তাকিয়ে থাকে। রিতমের মনে কি শুধুই চিন্তা না কি অবিশ্বাসও আছে? 

“তাহলে তুমি কি চাইছ ? আমি বার্লিনের সুযোগটা ছেড়ে ছুঁড়ে দিয়ে এখানে থেকে যাব? ঠিক আছে চল, তোমার জন্য আমি তাই করব। ঢুকে যাব এখানে কোন একটা পনেরো হাজারের চাকরিতে। চার পাঁচ বছরে মাইনে ডবল তো হয়েই যাবে। তারপর বিয়েও করেনি আমরা। আমি করতে পারি এগুল তোমার জন্য। কিন্তু তারপর তুমি পারবে তো, একটা স্বপ্ন ভাঙ্গা প্রেমকে সাড়া জীবন বয়ে নিয়ে যেতে?” কথাগুলো বলতে বলতেই সুদিপার চোখ থেকে  জল গিয়ে পড়ল গালের উপর। “তুমি যদি আমার জন্য চিন্তা কর, আমায় মিস কর, তাহলে আমি এটাই বলব যে, যতটা পারি আমি তোমার কাছাকাছি থাকার চেষ্টা করব। কিন্তু যদি অবিশ্বাস থেকে কথাটা বল , তাহলে আমার এরপর আর কিছুই বলার নেই রিতম।“ কথাটা বলেই সুদিপা অন্য দিকে ঘুরে গেল। কঠিন মুখ নিয়ে সামনের দিকে তাকিয়ে রইল। পাশে বিস্কুটের প্যাকেটটা পড়ে রইল। রিতম ঘাড় ঘুরিয়ে দেখল সুদিপা কে। মেয়েটাকে সত্যি বড্ড সুন্দর দেখতে। কালো টিপটা পরে আরও ভালো লাগছে। সে সুদিপার হাতের উপর হাত রাখে। “কালো টিপটা পরে খুব সুন্দর লাগছে।“ 

“জানি” সুদিপা চোখের জল মুছে তাকায় রিতমের দিকে, “ এটা তুমি আমায় কিনে দিয়েছিলে।“

রিতম হাসে। কিন্তু মুখ দিয়ে কোন কথা বলতে পারেনা। সুদিপা জানে রিতম একটু অভিমানী। আজ রিতম হয়ত অনেক কিছু বলতে চাইছে। কিন্তু পারছেনা। এদিকে তার কাছেও বেশি সময় নেই। সে রিতমের দিকে সরে এসে রিতমের গালে হাত দিয়ে, রিতমের মুখটা নিজের দিকে ঘোরায়। 

“কতগুলো কথা বলব তোমায়? রাখবে সেগুলো?” সুদিপা জিজ্ঞাসা করে। রিতম ঘাড় নাড়ে। 

“বাড়ি গিয়ে বাবা মা বোনের সাথে সময় কাটাবে। সারাক্ষন ঘর বন্ধ করে থাকবে না। আর সিগারেটটা কমাবে। নাহলে কিন্তু এস্থামাটা আবার দেখা দেবে। পুজোটা এবার বাড়ির লোকের সাথে কাটাবে। এই ক বছর তো আমার সাথেই কাটিয়েছ। “ সুদিপা কথাগুল বলে হাসে। রিতম অন্যদিকে ঘুরে চোখের জল লোকাায়। মেয়েটা আজ সত্যি মায়া নিয়ে এসেছে। শুরুতে এতো খারাপ ব্যাবহার করল সে,  তাও একটু অভিমান নেই। 

“আচ্ছা শোন, এদিকে দেখো” সুদিপা রিতম কে নিজের দিকে ঘোরায়। তারপর ব্যাগ থেকে একটা বই বার করে, “এটা রাখো তুমি”।

“পাতা ঝরার মরশুমে?” রিতম বইটা হাতে নিয়ে অবাক হয়। 

“হ্যা, তোমার প্রিয় বই। কে যেন আগের বছর তোমার থেকে নিয়ে আর ফেরত দেয় নি, তাই এটা আমি কাল কিনে এনেছিলাম। আর এবার একটা লাইব্রেরী কার্ড করে নেবে। বেশি বই কিনে জমানো টাকা শেষ করে দিও না। আর যদিও বা কেন তো… আমার জন্য রেখে দেবে। আমি এসে সব বইগুল পড়ার জন্য নেব।“  শেষ বাক্যটায় আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না সুদিপা। সে রিতমের কাঁধে মাথা রেখে হাও হাও করে কেঁদে উঠল। রিতম আর যাই হোক শেষ বেলা সুদিপাকে কাঁদতে দেখতে চাই না। সে সুদিপার মুখটা তুলে ধরে। সুদিপা ঘড়ির দিকে তাকায়। তারপর চোখের জল মুছে উঠে দাড়ায়। 

“এবার আমায় উঠতে হবে রিতম। বাবা ব্যাগ নিয়ে এয়ারপোর্ট চলে গেছে। সময় হয়ে এসেছে।“

রিতমও উঠে দাড়ায়। 

“কিছু বলবে না?” সুদিপা জিজ্ঞাসা করে। 

“যা মনে আসছে সেটা বলব?” রিতম আবদারের স্বরে প্রশ্ন করে। সুদিপা ঘাড় নাড়ে।

রিতম সুদিপার হাত ধরে বলে “তুমি চলে গেলে আমি কি করে থাকব সু? আমি তো এখানে বড্ড একা হয়ে যাব। এই ক বছরে তো তুমি আমার পরিবার হয়ে গেছিলে।“  ভীষণ যন্ত্রনা হচ্ছে রিতমের মনে। 

“আমি কোথাও যাচ্ছি না রিতম। আমারও তো এই কবছর পরিবার বলতে শুধু তুমি ছিলে। আর সেই পরিবার কে কিভাবে ভুলব? তুমি, আমাদের কাটানো সময়, আমাদের কলেজ, এই পার্ক সব আমার মনে থাকবে। আর এরাই আমায় বার বার বলবে যে, সুদিপা কাজ শেষ কর্‌, বাড়ি ফিরতে হবে তোকে।আর ঠিক একদিন চলেও আসবো দুম করে। তাই তো আমি আজ তোমার জামায় কিছু লিখলাম না। কারন তুমি আর আমি তো আলাদা হচ্ছি না।” সুদিপা কথাগুলো বলেই রিতমকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে। বড় আনন্দের এই উত্তাপ। বড্ড মিস করবে সেই এই বুকটা। এই বুকে কান পাতলে যে ধক ধক শব্দটা শোনা যায়, সেটাকেও মিস করবে। 

“এবার আমি আসি রিতম।“

“চলো, তোমায় ছেড়ে আসি”

“নাঃ, তুমি সাথে গেলে আমি আর যেতে পারব না। আমি একাই যাই। নিজের খেয়াল রেখ। আমি এয়ারপোর্টে নেমে তোমায় ফোন করছি। আই লভ ইউ রিতম। প্লিজ, আমার জন্য অপেক্ষা কর।“ আরো কিছুক্ষণ জড়িয়ে ধরে থাকল সুদিপা রিতমকে। তারপর হঠাৎ বেঞ্চ থেকে কাঁধের ব্যাগটা তুলে হাঁটা লাগায়। দাড়িয়ে রইল একা রিতম। ঠিক কৃষ্ণচূড়া গাছটার মতন। সেও জানেনা, কখন সে আবার ফুটে উঠবে, তার ভালবাসা রং আবার কখন ফিরে আসবে। 

লেখক: রজত সাহা

2 Replies to “পাতা ঝরার দিনে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *