January 16, 2021

Marmakutir

এবার হোক কিছু মনের কথা বলা

কিছু গল্পঃ অসমাপ্ত থেকে যায়।

Spread the love

মেঘ সদ্য একটা কলেজে join করেছে প্রায় 20,22 দিন হলো as a lecturer.আর 5 দিন পর ওদের কলেজের annual function.।সেদিন প্রত্যেক বছরের মত এবারও প্রবাসী একজন নামি মানুষকে felicitated করা হবে অ্যান্ড he will be the chief guest on that day. উনি কলেজে একটা perfomance ও করবেন সেটা মেঘের দায়িত্ব duet করার।মেঘ খুব শান্ত,introvert টাইপের মেয়ে বয়স ওই 28-29,বাইরে থেকে বেশ গম্ভীর so student রা respect করেও বেশ।যদিও এই duet এর ব্যাপার টা মেঘের পছন্দ না তাও বাধ্য!and also irritating কারণ প্রবাসী বাঙালি রবীন্দ্রসঙ্গীতের মূল্য আদেও বুঝবে!যাইহোক কলেজে এসে নিজের dept.এ ঢুকতেই HOD বললেন প্রিন্সিপাল তোকে ডেকেছেন মেঘ।মেঘ তাড়াতাড়ি করে এসে পৌঁছালো প্রিন্সিপালের রূমের সামনে।দরজা খুলে জাস্ট বলেছে may i come in? ম্যাম! ঠিক তখনই ওর চোখ পড়লো ম্যাম এর opposite এ বসে থাকা suit বুট পড়া মানুষটার উপর,সেই শান্ত গভীর দুটো চোখ,প্রায়12 বছর আগে যাতে মেঘ ডুবে যেত,মেঘ এর সারা শরীর দিয়ে একটা ঠান্ডা তরঙ্গ বয়ে গেলো,দুজনেই অপলক একে অপরের দিকে তাকিয়ে, হঠাৎ দুজনেরই সম্বিত ফিরল প্রিন্সিপালের ডাকে ,উনি বললেন এসো মেঘ।।তখন মেঘ কোনোভাবে নিজেকে সামলে ঢুকলো ভিতরে,, প্রিন্সিপাল বললেন মেঘ this is মিস্টার.সমুদ্র সেন,প্রবাসী বাঙালি গবেষক ।। বিদেশে বড় ইউনিভার্সিটি তে পড়ান,মেঘ আর কোনো কথা বলার অবস্থায় নেই।উনি মি.সেন কেও মেঘের পরিচয় দিলেন।মেঘ আর পারলো না সামলাতে নিজেকে তাই বললো ম্যাম, now i have to go to take my classes, অধ্যক্ষ বললেন sure,then এসো রেহাশাল রুমে ,মেঘ আর কিছু না বলে ছুটে বেরিয়ে এলো infact পালিয়ে এলো,then ক্লাসে গেলো, কি পড়ালো নিজেই জানে না,নিজে নিজের মধ্যে নেই ও সেদিন।।তারপর গেলো রেহাসাল রূমে।।সেখানে আগে থেকেই রয়েছে সমুদ্র,ও কোনরকমে গানের স্ক্রিপ্টটা সমুদ্রকে দিল আর বললো, খুব শরীর খারাপ লাগছে আজ আমি যাই,বলে বেরিয়ে এলো,next দিন থেকে ফাংশান এর দিন অবধি আর এলো না ওর নাকি জ্বর হয়েছে কলেজে call করে জানালো।ওর গান ready ছিল,সমুদ্র ও এই কদিনেই তুলে নিল গান টা।। যথারীতি ফাংশান এর দিন মেঘ এলো একটা সাদা শাড়ী আর নীল blouse,এই নীল আর সাদা এটা সমুদ্র এবং মেঘের প্রিয় রং,আগে সমুদ্র চাইতো মেঘ সাদা পড়ুক।এসেই green রূম এ ঢুকলো আর বেরোলো না।এদিকে সমুদ্র র felicitation হয়ে গেলো তাও এলো না।মেঘের ডিপার্টমেন্ট এর একটা ম্যাম ওকে বোনের মত ভালবাসে ,তিনি গেলেন ওকে ডাকতে অ্যান্ড জোর করেই মাথায় রজনীগন্ধা ফুল লাগিয়ে দিল। সমুদ্রের প্রিয় ফুল।মেঘ স্টেজ এর উইংস এর পাশে দাড়িয়ে নিজের গান এর স্ক্রিপ্ট এ চোখ বোলাচ্ছিল এমন সময় ওর চোখ গেলো অন্য উইংস এ একটা সাদা পাঞ্জাবি আর কালো ধুতি পড়া মানুষটার উপর ,সেই 12 বছর আগের মত লাগছে ।।rimless চশমা হালকা চাপ দাড়ি অসম্ভব ভালো দেখতে লাগছিল ওইদিন।।মেঘ আর চোখ ফিরাতে পরলো না,সেদিন মেঘ কেও অসাধারণ লাগছিল সমুদ্রও অপলক,,যাইহোক স্টেজ এ anchor announce করলো এবার স্টেজ এ আসছে মেঘ ব্যানার্জী ,সমুদ্র সেন অ ,,মেঘ তড়িঘড়ি করে উঠে গেলো,আর শুরু করলো ডুয়েট-” আমারও পরান যাহা চায় তুমি তাই,তুমি তাই……”পুরো স্টেডিয়ামে পিন ড্রপস সাইলেন্স ,দুজনে কোথায় যেনো হারিয়ে গেলো গাইতে গাইতে ,তারপর দুজনের হুশ ফিরল হল ফাটা হাততালিতে।।মেঘ ছুটে নেমে এলো স্টেজ থেকে,,তখন সবাই সমুদ্র কে অনুরোধ করলো, একটা solo গান করার ,,ও শুরুও করে দিলো,মেঘ ভাবলো হয়ত কোনো english গান করবে কিন্তু না! সমুদ্র শুরু করলো ‘ দাড়িয়ে আছো তুমি আমার গানের ওপারে”এটা মেঘের প্রিয় গান।,মেঘ আবার ছুটে বেরিয়ে এলো স্টেজে র পাশে সবার অলক্ষে দাড়িয়ে শুনলো ওর প্রিয় গানটা তবে সমুদ্র দেখেছিল এটা,মেঘ হাততালি দিয়েছিল চোখ ভরা জল নিয়ে,তারপর চলে গেলো আবারো,অনেক গুলো পারফরম্যান্স হলো এরপর,,এবার মেঘ এর একা পারফরম্যান্স!! মেঘ আবারো স্টেজের পাশে উইং এ এসে দাড়ালো পরের পারফরম্যান্স ওর তাই, হঠাৎ পিছন থেকে কেউ বললো all the best,সেই চেনা গলা,মেঘ পিছন ফিরে দেখলো সমুদ্র! ও থ্যাংকস বলতে পারলো না,সমুদ্র বললো আমার গান টা কেমন লাগলো বললিনা তো!,মেঘ বললো খুব ভালো !!সমুদ্র বললো কেমন আছিস? মেঘ উত্তর দিতে পারলো না সঙ্গে সঙ্গে স্টেজ এ ওর নাম ডাকলো,ও গান শুরু করলো”যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন…তারার পানে চেয়ে চেয়ে নাইবা আমায় ডাকলে”দেখলো দুটো চোখ ওর দিকে অপলক ,,ও চোখ বন্ধ করে গেয়ে চললো ,,গান শেষ হতেই নেমে গেলো স্টেজ থেকে সমুদ্র ও তখন চাইলো চেয়ার থেকে উঠে মেঘের কাছে যেতে কিন্তু প্রিন্সিপাল ম্যাম কথা বলতে থাকলেন,ও সেদিন মেঘ এর সাঠে কথা বলতে চেয়েছিল,পরে এসে খোজ নি য়ে শুনলো মেঘ তখনই বেরিয়ে গেছে কলেজে থেকে,,ভাবলো পরের দিন তো ও আসবে তখন কথা বলবে ও মেঘ এর সাথে। কিন্তু পরের দুদিন কলেজে ছুটি ছিল,,কলেজে খোলার পর ও এলো ঢুকতেই ওকে ওর পারফরম্যান্স এর ফটো দেওয়া হলো সমুদ্র দেখলো ওর আর মেঘ এর ফটো টা,,যাইহোক এবার অনেকক্ষন এসে মেঘকে দেখতে পেয়ে প্রিন্সিপাল কে জিজ্ঞেস করে জানতে পারলো সেদিন ফাংশান থেকে ফেরার সময় মেঘের গাড়ি কে একটা ট্র্যাক পিষে দিয়েছে।।সমুদ্র আর কোনোদিন মেঘ কে ছুঁতে পারলো না।।সমুদ্র সেদিনই মেঘকে অনেক কথা বলতে চেয়েছিল কিন্তু ডেসটিনি সেটা হতে দেয়নি।সমুদ্র সারাজীবন ওই একটা সন্ধ্যের মুহূর্ত ,একটা ডুয়েট পারফরম্যান্সসের স্মৃতি নিয়েই রয়ে গেলো।।12 বছর পরেও ওদের অসমাপ্ত কাহিনী সমাপ্ত হতে পারত কিন্তু তা ভবিতব্য হতে দিল না।

IMG_20201112_152918.jpg