হারিয়ে ফিরে পাওয়া

Spread the love

 950 total views,  1 views today

আরো একটা দিন শেষ হতে চলল। ঘড়ির কাটা ন-টা ছুইঁ ছুইঁ । রোজের অভ্যেসে আজও তালা লাগাতে পারেনি সংযুক্তা। বাড়ি ফিরেই গলা পর্যন্ত মদ আর সিগারেট। বন্ধু, ডাক্তার সবার না বলা সত্বেও নিজের বদ অভ্যেস ছাড়তে নারাজ সে।
খুব বেশি নয় , ওই মাস সাতেক হবে । বাড়ি ছেড়ে ফ্ল্যাটে থাকে একা। খুব বেশি কোথাও যায়ও না, বন্ধু বান্ধব ও হাতে গোনা কয়েকজন। নার্সিংহোম থেকে বাড়ি এটুকুই তার ঘর থেকে বেরনো। পরিচিতি তে যদিও সে একজন ডায়েটিশিয়ান। রোজের ব্যস্ত রুটিনে বেঁধে রেখেছে নিজেকে, ইচ্ছে করেই। সারাদিনের শেষে আজ ফিরে যেন অন্য ছবি, অনেক দিন পর বই এর টেবিলে বসে গল্পের বই খুলেছে। কিন্তু পড়ার জন্য না, কি যেন খুঁজছে বই এর পাতা উল্টে পাল্টে । মিনিট পাঁচেক পর হটাৎ যেন উত্তেজিত হয়ে পাশে থাকা কাঁচের গ্লাসটায় চাপ দিতেই হাত রক্তাক্ত হয়ে ওঠে তার, তবুও ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে আছে বই এর ভাঁজে খুঁজে পাওয়া ঐশীর ফোটোটায়।
হাতের ব্যথা অনুভব হতেই পকেট থেকে রুমাল বেড় করে জড়িয়ে নেয় কোনো রকমে, টেবিল হাতড়ে সিগারেটের প্যাকেট হাতে নিয়ে বেড়িয়ে আসে বারান্দায়। রোজেরই মত আজও তার ঠোঁট পুড়ছে নিকোটিনে। প্রতিরাতই কাটে তার এই ভাবেই। আবার সকাল হয়, যান্ত্রিক ব্যস্ততা। আবার বিকেলে বাড়ি ফেরা। নিজেকে প্রশ্ন করে প্রতি রাত ” আর কতদিন কাটবে এইভাবে , তোকে মনে রেখে ? জানি ফিরবি না আর। ভালোই আছিস তাই ভুলেছিস আমায়।” ঘুমিয়ে পরে কখন সে নিজেও বোঝে না।
আবার একটা সকাল আজ। রেডি হচ্ছে নার্সিং হোমে যাওয়ার জন্য। সকাল দশটা নাগাদ বেড়িয়ে পরলো। বাড়ি ফাঁকা এখন । শুধু যিনি রান্না করেন সে থাকেন বিকেল পর্যন্ত।
বেলা গড়িয়ে দুপুর , একটা ছুইঁ ছুইঁ । কলিং বেলের শব্দে একটু অপ্রস্তুত হয়ে পড়েন কাজের মেয়েটি। দরজায় এগিয়ে এসে দরজা খানিকটা খুলে দাড়ায সে।
দরজার ওপার থেকে প্রশ্ন আসে “সংযুক্তা আছে ?”
কাজের মেয়েটি উত্তর দেয় ” না , উনি তো নার্সিংহোমে, আপনি ?”
উত্তর আসে ” আমি ঐশী, ও আসলে বলবেন আমি এসেছিলাম। “
– ” আচ্ছা!”
– ” সংযুক্তা কখন ফিরবে ? বলতে পারবেন ?”
– ” না উনার আসলে ঠিক নেই , নিজেকে নিয়ে যা করেন উনি।”
– ” মানে?”
– ” আপনি পরে জেনে নেবেন, আমার এখন কাজ আছে অনেক।”
– ” হুম, আপনি বলে দেবেন সংযুক্তাকে।”

দিনটা ছিল 29th August। শেষ দেখা তাদের। দুজনেরই জীবন বদলিয়েছে, ঐশী আর সংযুক্তা র সম্পর্কের মেয়াদ সেদিনই শেষ । সংযুক্তার বর্তমান এর অবস্থার জন্য কিছুটা হলেও ওদের দুরত্ব দায়ি।

ফ্ল্যাটে ফিরে ব্যাগ সোফায় রাখতেই কাজের মেয়েটি তাঁকে জানিয়ে দেয় আজ দুপুরে ঐশীর আসার কথা, বলে বেড়িয়ে যায়। তাই তাঁকে জিজ্ঞেস করতে পারে না আর কিছু বলে গেছে কি না।

আজ আর সংযুক্তার কোনো কিছুতে মন বসছে না। চঞ্চলতায়  একবার বেডরূম আরেকবার বারান্দায় যাচ্ছে  আসছে। বার বার খোঁজার চেষ্টা করছে আজ এতো দিন পর ঐশীর আসার কারণ। খুব সহজেই জানা যায় যদি সে ঐশী কে ফোন করে। কিন্তু বার বার ডায়াল করেও সে চেষ্টা বিফলে যায়। ঐশী হয়ত খুব ব্যস্ত এখন। এই ভেবে তার চঞ্চলতা আরো বেড়ে যায়। ঘুমের ওষুধেও ঘুম নেই আজ তার চোখে। খাট হাতড়ে ফোনটা হাতে নিয়ে গ্যালারীতে হারিয়ে যায় ধীরে ধীরে পুরোনো সময় গুলোতে। রাত প্রায় নয়টা । হটাৎ কলিং বেল বেজে ওঠে। বার কয়েক বাজার পর সেই শব্দ কানে আসে সংযুক্তার। আচমকা উঠে দৌড়ে দরজা খোলে।
জমানো বিষণ্ণতার ঘন কুয়াশা যেন ঘর ঢেকে ফেলল নিমিষে। দমিয়ে রাখা অভিমান যেন ক্ষণিকের মধ্যেই গাল ভিজিয়ে দিল তাদের নোনতা জলে। দুজনের অভিমানি মনে জমে আছে অনেক প্রশ্ন। সামলে নিয়ে নিজেদের দুজনে দুজনের দিকে তাকিয়ে ।
– ভিতরে আসতে বলবি না ?
– হ্যাঁ ! হ্যাঁ ! আয়!
– কেমন আছিস ?
– এই ধরা বাধা প্রশ্নের কি খুব প্রয়োজন ?
– না ! তবে
– কি ?
– কিছু না , থাক।
– ভালো আছিস ! ঐশী ?
– এখন কে প্রশ্ন করলো ?
– জানতে ইচ্ছে করে। ভালো লাগে শুনতে !
– হ্যাঁ ভালোই আছি ।
– হ্যাঁ ! অভীক তো ভালো রাখবেই তোকে। আমার থেকেও ও তোকে বেশি ভালোবাসে ।
– এতো আগছলো কেনো ঘর টা তোর ?
– জীবন টাই আগছলো ।
– কি ?
– কিছু না ।
– দায়ী কি আমি ?
– ছেড়ে আমি গেছিলাম ?
– কেনো ছেড়ে গেছিলাম জানিস না ?
– ভালোবাসার থেকে তোর অন্য কিছু আগে হয়েছিল সেদিন ?
– আজ ও ভালোবাসা ই আগে।
– হ্যাঁ অভিকের ভালোবাসা ।
– সংযুক্তা ?
– ভুল বলেছি কিছু ? মনে পড়েছিল তোর এতো দিন আমাকে ?
– না পড়েনি।
– জানি তো। অভীক আছে, আমাকে আর কিসের প্রয়োজন !
– আমার আসাটাই ভুল হয়েছে।
– এসেছিস কেনো ? আমি বলেছিলাম ! না ফোন করেছিলাম !
– আমি আসছি।

আজ তাদের দেখা প্রায় কয়েক মাস পর। একা থাকতে পারে না সংযুক্তা ঐশী কে ছেড়ে। তবুও তাঁকে বাস্তবটা মেনে নিতে হয়েছে। প্রতি রাত সে নেশায় ভুলে থাকে । কিছু বছর আগে তাদের কথা শেষ হতো না, সারা রাত তারা জাগত দুজনে ফোন কলে। আজ তাদের কথা বন্ধ। বড়ো একা লাগলেও, মন খারাপ হলেও ঐশী কে জানাতে পারে না সংযুক্তা। ঐশীও চেপে রাখে , বলতে পারে না সংযুক্তাকে। যদিও বরাবরের চাপা সভাবের মেয়ে ঐশী। কিন্তু সংযুক্তা তো বরাবর ই দুর্বল ।

ঐশীকে বাঁধা দিতে সপাটে দরজা বন্ধ করে দরজায় ঐশীর হাত চেপে ধরে সংযুক্তা।

– আবার যখন চলেই যাবি! এসেছিস কেনো ?
– আমি তো আজ যাব বলে আসিনি।
– মানে ?
– অনেক কথা বলার আছে তোকে।

সংযুক্তার হাত আলগা হয়ে যায়। ঐশী কে আচমকা শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ।

– আবার চলে যাবি ঐশী ?
– না !

এতোক্ষণ অভিমানে দু জন দুজন কে দায়ী করলেও আজ ও ভালোবাসা ওদের আলাদা করতে পারেনি। দুরত্ব বেড়েছে, যোগযোগ কমেছে , কিন্তু ভালোবাসা ? আজ ও একই আছে ।

– চল আগে ভিতরে।
– হুম।
ভিতরে এসে ঐশীর চোখে পরে টেবিলের সিগারেটের প্যাকেট
– সংযুক্তা ?
– হুম ?
– তুই সিগারেট খাস এখন?
আর এই ঘুমের ওষুধ ?
– না । তুই চল না ঘরে। এসব দেখতে হবে না।
– চুপ করে দাড়া এখানে।
– কেনো?
– কেনো ? কি অবস্থা তোর ঘরের ?
– আর আমার ?
– বারাবারি র একটা সীমা থাকে।
– ভুলতে পরিনি আজ ও।
– এই ভাবে ভোলা যায়?
– হ্যাঁ হয়ত।
– ও তাহলে তুই আমার অতীত কিভাবে ভুলিয়ে ছিলি? আমিও তো তোর ই মতো ।
– তোর জন্য আমি ছিলাম। আমার জন্য কেউ নেই ঐশী।
– আমি নেই?
– শুধু মনে।
– না ! আজ থেকে বাস্তবেও।
– কেনো আবার মিথ্যে আশ্বাস দিচ্ছিস ?
– মিথ্যে না ।

সংযুক্তাকে জড়িয়ে ধরে ঠোঁটে ঠোঁট রেখে এতদিনের জমানো অভিমান ,কাছে না পাওয়ার কষ্ট সব কিছু বুঝিয়ে দেয় । বৃষ্টি পড়ছে ঝিরিঝিরি।নিশির ঠান্ডা হাওয়ায় দক্ষিণা জানলায় পর্দা নড়ছে নিজের আনন্দে। ঘরের হলুদ আলো ঐশীর কানের দুলে প্রতিফলিত হয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করছে সংযুক্তার।কানের কাছের চুল সরিয়ে আবেগ ঘন ভাষায় অভিমান জানিয়ে সংযুক্তার ঠোঁট ঐশীর ঠোঁট ছুঁল। লজ্জায় ঠোঁট চাপা হাসিতে ঐশীর কুর্তির কোন সরিয়ে আলতো হাতে কোমর ছুঁয়ে কাছে টেনে নিলো সংযুক্তা ঠোঁটের কাছাকাছি।কুর্তির পিঠের হুকে আটকে যাওয়া চুলগুলোকে মুক্তি দিয়ে হুকটা আলতো হাতে খুলে ফেললো চুপিসারে। এতোদিনের জমানো কথা যেন দুজনের ঠোঁটে আবেগ খুঁজতে ব্যস্ত। সংযুক্তাকে সরানোর চেষ্টাও করলেও তবে সেটা যে ঐশীর আবেগের প্রতিফলন বুঝতে খুব বেশি সময় লাগলো না।আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে সংযুক্তা ঐশী কে ।
– কেনো চলে গেছিলি ঐশী ?
– যেতে যে আমি বাধ্য হয়ে ছিলাম।
– ভালো নেই তুই ।
– তোকে ছেড়ে কিভাবে ভালো থাকা যায়? জানা নেই আমার।
– আমিও ভালো নেই ঐশী তোকে ছেড়ে।
– জানি তো।
– কিভাবে ?
– কেনো ? ঈণ্স্টা তে রাজন্যা868 নামে যে অকাউন্ট টা!
– ওটা তুই ?
– হ্যাঁ ।
– বলিস নি কেনো ?
– জানলে হয়ত মন চাইলেও অভিমানে কথা বলতি না । আর আমিও পারি না তোকে ছেড়ে থাকতে। তাই ই তো আজ!
– কি ?
– আমি অভীক কে ডিভর্স দিচ্ছি ঐশী ।
– কেনো? অভীক তো ভালো ছেলে।
– হ্যাঁ ও সত্যিই ভালো। কিন্তু আমার ভালোবাসার মানুষ হয়ে উঠবে না ও কোনো দিন । ওকে আমি ঠকাচ্ছি।
– Love you ঐশী।
– Love you more সংযুক্তা।

কানের কাছে Love you বলে ঘাড় সিক্ত হলো ঐশীর, সংযুক্তার উষ্ণ ঠোঁটে। বাঁধা দিতে চায়নি আজ একবার ও

– আজ ইচ্ছে করছে না তোকে ছাড়তে ঐশী।
– কাছে থাকবো বলেই তো এসেছি ।
– ঐশী আমাদের ঠোঁটে-ঠোঁট ছুঁতে পারে না!
– আয় কাছে ।
– আজ বাঁধা দিলি না তো।
– আজ চাই তোকে খুঁব কাছে ।
অনেক মন খারাপ জমে আছে, তুই না ছুঁলে আজ ।

ঐশী কে আর কিছু বলার সুযোগই না দিয়ে এক নিশ্বাসে ঠোঁটের কোমলে হরিয়ে গেলো কিছুক্ষণ,উষ্ণ হতে থাকলো ওদের শরীর,সিক্ত হলো ঠোঁট। ঠোঁট থেকে ঠোঁট সরিয়ে ঐশীর কপাল ছুঁল সংযুক্তার ঠোঁট। বুকের মাঝে জড়িয়ে নিল ঐশী কে। সংযুক্তার বেড়ে যাওয়া হৃদস্পন্দনে ঐশীর ভালোবাসা খুঁজে পেলো । হয়ত প্রথম বার ওরা এত কাছা কাছি।

– সংযুক্তা ?
– হ্যাঁ ?
– আমায় কাছে নিবি আজ রাতে?
– ঐশী ?
– এখন বুঝি তোর আর আমাকে ভালোবাসতে ইচ্ছে করে না ?
– ঐশী ! প্লিজ । I love you ঐশী।
– তাহলে আজ । প্লিজ!

সংযুক্তার বুকে মাথা রেখে শুয়ে পরে ঐশী। সংযুক্তা ব্যস্ত ঐশীর এলো চুলে আদর করতে । খানিকটা মাথা তুলে এক হাতে সংযুক্তার গালে হাত রেখে কপাল ছুঁয়ে গালে চুম্বন করে ঐশী। সংযুক্তা ঐশীর একটা হাত চেপে ধরে চোখে চোখ রাখে।

– ঐশী?
– বল !
– পরে তোর আপশোস হবে না তো ?
– না সংযুক্তা। এই দিনের অপেক্ষা তেই তো ছিলাম ।
– তুই sure?
– I love you সংযুক্তা ।

ঐশী উঠে বসে কুর্তি খুলতে চাইলে বাঁধা দেয় সংযুক্তা। ঐশী কোনো কথা শোনে না। ঠোঁটে ঠোঁট রেখে হারিয়ে যায় দুজনে। সংযুক্তার ঠোঁট ঐশীর ঠোঁট চেপে ধরে । হাল্কা হাল্কা চাঁপে টান টান উত্তেজনা দুজনের শরীরে। ঐশীর কপালের ঘাম মুছে ঘাড়ে কাছে আদর করে সংযুক্তা। শীত্কারে আকড়ে ধরে ঐশী। ঐশীর চোখে চোখ রেখে অনুমতি নিয়ে ব্রা স্ট্রাপ নামিয়ে আনে সংযুক্তা। এলো চুলের মিছিল সরিয়ে শান্ত দৃষ্টি এনে চোখ রাখে ঐশীর চোখে , ঐশী আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে সংযুক্তাকে। ঐশী এখন সংযুক্তার বাহুবন্ধনে। প্রথম ভালোবাসা, কাছে পাওয়ার অনুভুতি দুজনেরই। সঙ্কোচ কাটিয়ে ঐশী বুকে জড়িয়ে ধরে সংযুক্তাকে। সংযুক্তা আদর করে ঠোঁট ছোঁয়ায় ঐশির কপালে। অনেক জলছবি আঁকে তারা আদরের। এতো দিনের দুরত্ব যেন নিমিসেই গায়েব। তাদের যেন কোনো দুরত্ব ই হয়নি। যদিও দুরত্ব না হলে আজকের এই ভালোবাসার অনুভুতি এতোটাও আবেগী হতো না।

– I love you সংযুক্তা । love you so much । I will never leave you again ।
– I love you too ঐশী। please dont leave me ।

চরম উত্তেজনার শেষে ক্লান্ততায় ঐশী মাথা রাখে সংযুক্তার বুকে। ঐশী কে খুব শক্ত করে জড়িয়ে ধরে সংযুক্তা। রাত কখন শেষের পথে ওরা বুঝতেও পারেনি।

রাত বেড়েছে প্রায় পৌনে চারটে,

– আজ চলে যাবি ঐশী ?
– না রে । আমরা আবার নতুন করে শুরু করতে পারি না ?
– কিন্তু ! অভীক।
– আমাদের সেপারেশন চলছে। নেক্সট মাসে ডিভর্স।
– অভীক কষ্ট পায়নি?
– না আসলে ও নিজেও পরিস্থিতি র শিকার । ওর মনে অন্য কেউ আছে ।
– ও তোর সাথে খারাপ ব্যবহার করেনি তো ?
– না রে ও জানে আমাদের ব্যাপারটা আর ও ই বলল fake id te অকাউন্ট খুলে তোর সাথে কথা বলতে।
– আর কাকু , কাকিমা ?
– জানি না ।
– তাহলে ?
– যাই হয়ে যাক। আমি আর তোর হাত ছাড়ব না সংযুক্তা। পথ ভুল করে একলা নাবিক আমি হারিয়ে গেছিলাম মাঝ সমুদ্রে ।কিন্তু খোলা আকাশের দিকে চেয়ে আবার আমি খুঁজে পেয়েছি আমার জীবনের ধ্রুবতারাকে, আর পথ ভুল হবেনা।
– সত্যি তো ?
– হ্যাঁ রে। ভালোবাসি রে খুব ।
– আমিও।

[ হয়ত হারিয়েও ফিরে পাওয়া যায়। সম্পর্কে না থেকেও ভালোবাসা যায়। কিম্তু বাস্তব খুব কঠিন। কটা প্রেম ই বা এমন হয় ? নতুন জীবনের ব্যস্ততায় পুরাতন জায়গা পায় না। আবার হয়ত পায় দুজনের ইচ্ছেতে। ]

আরো একটা দিন শেষ হতে চলল। ঘড়ির কাটা ন-টা ছুইঁ ছুইঁ । রোজের অভ্যেসে আজও তালা লাগাতে পারেনি সংযুক্তা। বাড়ি ফিরেই গলা পর্যন্ত মদ আর সিগারেট। বন্ধু, ডাক্তার সবার না বলা সত্বেও নিজের বদ অভ্যেস ছাড়তে নারাজ সে।
খুব বেশি নয় , ওই মাস সাতেক হবে । বাড়ি ছেড়ে ফ্ল্যাটে থাকে একা। খুব বেশি কোথাও যায়ও না, বন্ধু বান্ধব ও হাতে গোনা কয়েকজন। নার্সিংহোম থেকে বাড়ি এটুকুই তার ঘর থেকে বেরনো। পরিচিতি তে যদিও সে একজন ডায়েটিশিয়ান। রোজের ব্যস্ত রুটিনে বেঁধে রেখেছে নিজেকে, ইচ্ছে করেই। সারাদিনের শেষে আজ ফিরে যেন অন্য ছবি, অনেক দিন পর বই এর টেবিলে বসে গল্পের বই খুলেছে। কিন্তু পড়ার জন্য না, কি যেন খুঁজছে বই এর পাতা উল্টে পাল্টে । মিনিট পাঁচেক পর হটাৎ যেন উত্তেজিত হয়ে পাশে থাকা কাঁচের গ্লাসটায় চাপ দিতেই হাত রক্তাক্ত হয়ে ওঠে তার, তবুও ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে আছে বই এর ভাঁজে খুঁজে পাওয়া ঐশীর ফোটোটায়।
হাতের ব্যথা অনুভব হতেই পকেট থেকে রুমাল বেড় করে জড়িয়ে নেয় কোনো রকমে, টেবিল হাতড়ে সিগারেটের প্যাকেট হাতে নিয়ে বেড়িয়ে আসে বারান্দায়। রোজেরই মত আজও তার ঠোঁট পুড়ছে নিকোটিনে। প্রতিরাতই কাটে তার এই ভাবেই। আবার সকাল হয়, যান্ত্রিক ব্যস্ততা। আবার বিকেলে বাড়ি ফেরা। নিজেকে প্রশ্ন করে প্রতি রাত ” আর কতদিন কাটবে এইভাবে , তোকে মনে রেখে ? জানি ফিরবি না আর। ভালোই আছিস তাই ভুলেছিস আমায়।” ঘুমিয়ে পরে কখন সে নিজেও বোঝে না।
আবার একটা সকাল আজ। রেডি হচ্ছে নার্সিং হোমে যাওয়ার জন্য। সকাল দশটা নাগাদ বেড়িয়ে পরলো। বাড়ি ফাঁকা এখন । শুধু যিনি রান্না করেন সে থাকেন বিকেল পর্যন্ত।
বেলা গড়িয়ে দুপুর , একটা ছুইঁ ছুইঁ । কলিং বেলের শব্দে একটু অপ্রস্তুত হয়ে পড়েন কাজের মেয়েটি। দরজায় এগিয়ে এসে দরজা খানিকটা খুলে দাড়ায সে।
দরজার ওপার থেকে প্রশ্ন আসে “সংযুক্তা আছে ?”
কাজের মেয়েটি উত্তর দেয় ” না , উনি তো নার্সিংহোমে, আপনি ?”
উত্তর আসে ” আমি ঐশী, ও আসলে বলবেন আমি এসেছিলাম। “
– ” আচ্ছা!”
– ” সংযুক্তা কখন ফিরবে ? বলতে পারবেন ?”
– ” না উনার আসলে ঠিক নেই , নিজেকে নিয়ে যা করেন উনি।”
– ” মানে?”
– ” আপনি পরে জেনে নেবেন, আমার এখন কাজ আছে অনেক।”
– ” হুম, আপনি বলে দেবেন সংযুক্তাকে।”

দিনটা ছিল 29th August। শেষ দেখা তাদের। দুজনেরই জীবন বদলিয়েছে, ঐশী আর সংযুক্তা র সম্পর্কের মেয়াদ সেদিনই শেষ । সংযুক্তার বর্তমান এর অবস্থার জন্য কিছুটা হলেও ওদের দুরত্ব দায়ি।

ফ্ল্যাটে ফিরে ব্যাগ সোফায় রাখতেই কাজের মেয়েটি তাঁকে জানিয়ে দেয় আজ দুপুরে ঐশীর আসার কথা, বলে বেড়িয়ে যায়। তাই তাঁকে জিজ্ঞেস করতে পারে না আর কিছু বলে গেছে কি না।

আজ আর সংযুক্তার কোনো কিছুতে মন বসছে না। চঞ্চলতায়  একবার বেডরূম আরেকবার বারান্দায় যাচ্ছে  আসছে। বার বার খোঁজার চেষ্টা করছে আজ এতো দিন পর ঐশীর আসার কারণ। খুব সহজেই জানা যায় যদি সে ঐশী কে ফোন করে। কিন্তু বার বার ডায়াল করেও সে চেষ্টা বিফলে যায়। ঐশী হয়ত খুব ব্যস্ত এখন। এই ভেবে তার চঞ্চলতা আরো বেড়ে যায়। ঘুমের ওষুধেও ঘুম নেই আজ তার চোখে। খাট হাতড়ে ফোনটা হাতে নিয়ে গ্যালারীতে হারিয়ে যায় ধীরে ধীরে পুরোনো সময় গুলোতে। রাত প্রায় নয়টা । হটাৎ কলিং বেল বেজে ওঠে। বার কয়েক বাজার পর সেই শব্দ কানে আসে সংযুক্তার। আচমকা উঠে দৌড়ে দরজা খোলে।
জমানো বিষণ্ণতার ঘন কুয়াশা যেন ঘর ঢেকে ফেলল নিমিষে। দমিয়ে রাখা অভিমান যেন ক্ষণিকের মধ্যেই গাল ভিজিয়ে দিল তাদের নোনতা জলে। দুজনের অভিমানি মনে জমে আছে অনেক প্রশ্ন। সামলে নিয়ে নিজেদের দুজনে দুজনের দিকে তাকিয়ে ।
– ভিতরে আসতে বলবি না ?
– হ্যাঁ ! হ্যাঁ ! আয়!
– কেমন আছিস ?
– এই ধরা বাধা প্রশ্নের কি খুব প্রয়োজন ?
– না ! তবে
– কি ?
– কিছু না , থাক।
– ভালো আছিস ! ঐশী ?
– এখন কে প্রশ্ন করলো ?
– জানতে ইচ্ছে করে। ভালো লাগে শুনতে !
– হ্যাঁ ভালোই আছি ।
– হ্যাঁ ! অভীক তো ভালো রাখবেই তোকে। আমার থেকেও ও তোকে বেশি ভালোবাসে ।
– এতো আগছলো কেনো ঘর টা তোর ?
– জীবন টাই আগছলো ।
– কি ?
– কিছু না ।
– দায়ী কি আমি ?
– ছেড়ে আমি গেছিলাম ?
– কেনো ছেড়ে গেছিলাম জানিস না ?
– ভালোবাসার থেকে তোর অন্য কিছু আগে হয়েছিল সেদিন ?
– আজ ও ভালোবাসা ই আগে।
– হ্যাঁ অভিকের ভালোবাসা ।
– সংযুক্তা ?
– ভুল বলেছি কিছু ? মনে পড়েছিল তোর এতো দিন আমাকে ?
– না পড়েনি।
– জানি তো। অভীক আছে, আমাকে আর কিসের প্রয়োজন !
– আমার আসাটাই ভুল হয়েছে।
– এসেছিস কেনো ? আমি বলেছিলাম ! না ফোন করেছিলাম !
– আমি আসছি।

আজ তাদের দেখা প্রায় কয়েক মাস পর। একা থাকতে পারে না সংযুক্তা ঐশী কে ছেড়ে। তবুও তাঁকে বাস্তবটা মেনে নিতে হয়েছে। প্রতি রাত সে নেশায় ভুলে থাকে । কিছু বছর আগে তাদের কথা শেষ হতো না, সারা রাত তারা জাগত দুজনে ফোন কলে। আজ তাদের কথা বন্ধ। বড়ো একা লাগলেও, মন খারাপ হলেও ঐশী কে জানাতে পারে না সংযুক্তা। ঐশীও চেপে রাখে , বলতে পারে না সংযুক্তাকে। যদিও বরাবরের চাপা সভাবের মেয়ে ঐশী। কিন্তু সংযুক্তা তো বরাবর ই দুর্বল ।

ঐশীকে বাঁধা দিতে সপাটে দরজা বন্ধ করে দরজায় ঐশীর হাত চেপে ধরে সংযুক্তা।

– আবার যখন চলেই যাবি! এসেছিস কেনো ?
– আমি তো আজ যাব বলে আসিনি।
– মানে ?
– অনেক কথা বলার আছে তোকে।

সংযুক্তার হাত আলগা হয়ে যায়। ঐশী কে আচমকা শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ।

– আবার চলে যাবি ঐশী ?
– না !

এতোক্ষণ অভিমানে দু জন দুজন কে দায়ী করলেও আজ ও ভালোবাসা ওদের আলাদা করতে পারেনি। দুরত্ব বেড়েছে, যোগযোগ কমেছে , কিন্তু ভালোবাসা ? আজ ও একই আছে ।

– চল আগে ভিতরে।
– হুম।
ভিতরে এসে ঐশীর চোখে পরে টেবিলের সিগারেটের প্যাকেট
– সংযুক্তা ?
– হুম ?
– তুই সিগারেট খাস এখন?
আর এই ঘুমের ওষুধ ?
– না । তুই চল না ঘরে। এসব দেখতে হবে না।
– চুপ করে দাড়া এখানে।
– কেনো?
– কেনো ? কি অবস্থা তোর ঘরের ?
– আর আমার ?
– বারাবারি র একটা সীমা থাকে।
– ভুলতে পরিনি আজ ও।
– এই ভাবে ভোলা যায়?
– হ্যাঁ হয়ত।
– ও তাহলে তুই আমার অতীত কিভাবে ভুলিয়ে ছিলি? আমিও তো তোর ই মতো ।
– তোর জন্য আমি ছিলাম। আমার জন্য কেউ নেই ঐশী।
– আমি নেই?
– শুধু মনে।
– না ! আজ থেকে বাস্তবেও।
– কেনো আবার মিথ্যে আশ্বাস দিচ্ছিস ?
– মিথ্যে না ।

সংযুক্তাকে জড়িয়ে ধরে ঠোঁটে ঠোঁট রেখে এতদিনের জমানো অভিমান ,কাছে না পাওয়ার কষ্ট সব কিছু বুঝিয়ে দেয় । বৃষ্টি পড়ছে ঝিরিঝিরি।নিশির ঠান্ডা হাওয়ায় দক্ষিণা জানলায় পর্দা নড়ছে নিজের আনন্দে। ঘরের হলুদ আলো ঐশীর কানের দুলে প্রতিফলিত হয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করছে সংযুক্তার।কানের কাছের চুল সরিয়ে আবেগ ঘন ভাষায় অভিমান জানিয়ে সংযুক্তার ঠোঁট ঐশীর ঠোঁট ছুঁল। লজ্জায় ঠোঁট চাপা হাসিতে ঐশীর কুর্তির কোন সরিয়ে আলতো হাতে কোমর ছুঁয়ে কাছে টেনে নিলো সংযুক্তা ঠোঁটের কাছাকাছি।কুর্তির পিঠের হুকে আটকে যাওয়া চুলগুলোকে মুক্তি দিয়ে হুকটা আলতো হাতে খুলে ফেললো চুপিসারে। এতোদিনের জমানো কথা যেন দুজনের ঠোঁটে আবেগ খুঁজতে ব্যস্ত। সংযুক্তাকে সরানোর চেষ্টাও করলেও তবে সেটা যে ঐশীর আবেগের প্রতিফলন বুঝতে খুব বেশি সময় লাগলো না।আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে সংযুক্তা ঐশী কে ।
– কেনো চলে গেছিলি ঐশী ?
– যেতে যে আমি বাধ্য হয়ে ছিলাম।
– ভালো নেই তুই ।
– তোকে ছেড়ে কিভাবে ভালো থাকা যায়? জানা নেই আমার।
– আমিও ভালো নেই ঐশী তোকে ছেড়ে।
– জানি তো।
– কিভাবে ?
– কেনো ? ঈণ্স্টা তে রাজন্যা868 নামে যে অকাউন্ট টা!
– ওটা তুই ?
– হ্যাঁ ।
– বলিস নি কেনো ?
– জানলে হয়ত মন চাইলেও অভিমানে কথা বলতি না । আর আমিও পারি না তোকে ছেড়ে থাকতে। তাই ই তো আজ!
– কি ?
– আমি অভীক কে ডিভর্স দিচ্ছি ঐশী ।
– কেনো? অভীক তো ভালো ছেলে।
– হ্যাঁ ও সত্যিই ভালো। কিন্তু আমার ভালোবাসার মানুষ হয়ে উঠবে না ও কোনো দিন । ওকে আমি ঠকাচ্ছি।
– Love you ঐশী।
– Love you more সংযুক্তা।

কানের কাছে Love you বলে ঘাড় সিক্ত হলো ঐশীর, সংযুক্তার উষ্ণ ঠোঁটে। বাঁধা দিতে চায়নি আজ একবার ও

– আজ ইচ্ছে করছে না তোকে ছাড়তে ঐশী।
– কাছে থাকবো বলেই তো এসেছি ।
– ঐশী আমাদের ঠোঁটে-ঠোঁট ছুঁতে পারে না!
– আয় কাছে ।
– আজ বাঁধা দিলি না তো।
– আজ চাই তোকে খুঁব কাছে ।
অনেক মন খারাপ জমে আছে, তুই না ছুঁলে আজ ।

ঐশী কে আর কিছু বলার সুযোগই না দিয়ে এক নিশ্বাসে ঠোঁটের কোমলে হরিয়ে গেলো কিছুক্ষণ,উষ্ণ হতে থাকলো ওদের শরীর,সিক্ত হলো ঠোঁট। ঠোঁট থেকে ঠোঁট সরিয়ে ঐশীর কপাল ছুঁল সংযুক্তার ঠোঁট। বুকের মাঝে জড়িয়ে নিল ঐশী কে। সংযুক্তার বেড়ে যাওয়া হৃদস্পন্দনে ঐশীর ভালোবাসা খুঁজে পেলো । হয়ত প্রথম বার ওরা এত কাছা কাছি।

– সংযুক্তা ?
– হ্যাঁ ?
– আমায় কাছে নিবি আজ রাতে?
– ঐশী ?
– এখন বুঝি তোর আর আমাকে ভালোবাসতে ইচ্ছে করে না ?
– ঐশী ! প্লিজ । I love you ঐশী।
– তাহলে আজ । প্লিজ!

সংযুক্তার বুকে মাথা রেখে শুয়ে পরে ঐশী। সংযুক্তা ব্যস্ত ঐশীর এলো চুলে আদর করতে । খানিকটা মাথা তুলে এক হাতে সংযুক্তার গালে হাত রেখে কপাল ছুঁয়ে গালে চুম্বন করে ঐশী। সংযুক্তা ঐশীর একটা হাত চেপে ধরে চোখে চোখ রাখে।

– ঐশী?
– বল !
– পরে তোর আপশোস হবে না তো ?
– না সংযুক্তা। এই দিনের অপেক্ষা তেই তো ছিলাম ।
– তুই sure?
– I love you সংযুক্তা ।

ঐশী উঠে বসে কুর্তি খুলতে চাইলে বাঁধা দেয় সংযুক্তা। ঐশী কোনো কথা শোনে না। ঠোঁটে ঠোঁট রেখে হারিয়ে যায় দুজনে। সংযুক্তার ঠোঁট ঐশীর ঠোঁট চেপে ধরে । হাল্কা হাল্কা চাঁপে টান টান উত্তেজনা দুজনের শরীরে। ঐশীর কপালের ঘাম মুছে ঘাড়ে কাছে আদর করে সংযুক্তা। শীত্কারে আকড়ে ধরে ঐশী। ঐশীর চোখে চোখ রেখে অনুমতি নিয়ে ব্রা স্ট্রাপ নামিয়ে আনে সংযুক্তা। এলো চুলের মিছিল সরিয়ে শান্ত দৃষ্টি এনে চোখ রাখে ঐশীর চোখে , ঐশী আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে সংযুক্তাকে। ঐশী এখন সংযুক্তার বাহুবন্ধনে। প্রথম ভালোবাসা, কাছে পাওয়ার অনুভুতি দুজনেরই। সঙ্কোচ কাটিয়ে ঐশী বুকে জড়িয়ে ধরে সংযুক্তাকে। সংযুক্তা আদর করে ঠোঁট ছোঁয়ায় ঐশির কপালে। অনেক জলছবি আঁকে তারা আদরের। এতো দিনের দুরত্ব যেন নিমিসেই গায়েব। তাদের যেন কোনো দুরত্ব ই হয়নি। যদিও দুরত্ব না হলে আজকের এই ভালোবাসার অনুভুতি এতোটাও আবেগী হতো না।

– I love you সংযুক্তা । love you so much । I will never leave you again ।
– I love you too ঐশী। please dont leave me ।

চরম উত্তেজনার শেষে ক্লান্ততায় ঐশী মাথা রাখে সংযুক্তার বুকে। ঐশী কে খুব শক্ত করে জড়িয়ে ধরে সংযুক্তা। রাত কখন শেষের পথে ওরা বুঝতেও পারেনি।

রাত বেড়েছে প্রায় পৌনে চারটে,

– আজ চলে যাবি ঐশী ?
– না রে । আমরা আবার নতুন করে শুরু করতে পারি না ?
– কিন্তু ! অভীক।
– আমাদের সেপারেশন চলছে। নেক্সট মাসে ডিভর্স।
– অভীক কষ্ট পায়নি?
– না আসলে ও নিজেও পরিস্থিতি র শিকার । ওর মনে অন্য কেউ আছে ।
– ও তোর সাথে খারাপ ব্যবহার করেনি তো ?
– না রে ও জানে আমাদের ব্যাপারটা আর ও ই বলল fake id te অকাউন্ট খুলে তোর সাথে কথা বলতে।
– আর কাকু , কাকিমা ?
– জানি না ।
– তাহলে ?
– যাই হয়ে যাক। আমি আর তোর হাত ছাড়ব না সংযুক্তা। পথ ভুল করে একলা নাবিক আমি হারিয়ে গেছিলাম মাঝ সমুদ্রে ।কিন্তু খোলা আকাশের দিকে চেয়ে আবার আমি খুঁজে পেয়েছি আমার জীবনের ধ্রুবতারাকে, আর পথ ভুল হবেনা।
– সত্যি তো ?
– হ্যাঁ রে। ভালোবাসি রে খুব ।
– আমিও।

আরো একটা দিন শেষ হতে চলল। ঘড়ির কাটা ন-টা ছুইঁ ছুইঁ । রোজের অভ্যেসে আজও তালা লাগাতে পারেনি সংযুক্তা। বাড়ি ফিরেই গলা পর্যন্ত মদ আর সিগারেট। বন্ধু, ডাক্তার সবার না বলা সত্বেও নিজের বদ অভ্যেস ছাড়তে নারাজ সে।
খুব বেশি নয় , ওই মাস সাতেক হবে । বাড়ি ছেড়ে ফ্ল্যাটে থাকে একা। খুব বেশি কোথাও যায়ও না, বন্ধু বান্ধব ও হাতে গোনা কয়েকজন। নার্সিংহোম থেকে বাড়ি এটুকুই তার ঘর থেকে বেরনো। পরিচিতি তে যদিও সে একজন ডায়েটিশিয়ান। রোজের ব্যস্ত রুটিনে বেঁধে রেখেছে নিজেকে, ইচ্ছে করেই। সারাদিনের শেষে আজ ফিরে যেন অন্য ছবি, অনেক দিন পর বই এর টেবিলে বসে গল্পের বই খুলেছে। কিন্তু পড়ার জন্য না, কি যেন খুঁজছে বই এর পাতা উল্টে পাল্টে । মিনিট পাঁচেক পর হটাৎ যেন উত্তেজিত হয়ে পাশে থাকা কাঁচের গ্লাসটায় চাপ দিতেই হাত রক্তাক্ত হয়ে ওঠে তার, তবুও ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে আছে বই এর ভাঁজে খুঁজে পাওয়া ঐশীর ফোটোটায়।
হাতের ব্যথা অনুভব হতেই পকেট থেকে রুমাল বেড় করে জড়িয়ে নেয় কোনো রকমে, টেবিল হাতড়ে সিগারেটের প্যাকেট হাতে নিয়ে বেড়িয়ে আসে বারান্দায়। রোজেরই মত আজও তার ঠোঁট পুড়ছে নিকোটিনে। প্রতিরাতই কাটে তার এই ভাবেই। আবার সকাল হয়, যান্ত্রিক ব্যস্ততা। আবার বিকেলে বাড়ি ফেরা। নিজেকে প্রশ্ন করে প্রতি রাত ” আর কতদিন কাটবে এইভাবে , তোকে মনে রেখে ? জানি ফিরবি না আর। ভালোই আছিস তাই ভুলেছিস আমায়।” ঘুমিয়ে পরে কখন সে নিজেও বোঝে না।
আবার একটা সকাল আজ। রেডি হচ্ছে নার্সিং হোমে যাওয়ার জন্য। সকাল দশটা নাগাদ বেড়িয়ে পরলো। বাড়ি ফাঁকা এখন । শুধু যিনি রান্না করেন সে থাকেন বিকেল পর্যন্ত।
বেলা গড়িয়ে দুপুর , একটা ছুইঁ ছুইঁ । কলিং বেলের শব্দে একটু অপ্রস্তুত হয়ে পড়েন কাজের মেয়েটি। দরজায় এগিয়ে এসে দরজা খানিকটা খুলে দাড়ায সে।
দরজার ওপার থেকে প্রশ্ন আসে “সংযুক্তা আছে ?”
কাজের মেয়েটি উত্তর দেয় ” না , উনি তো নার্সিংহোমে, আপনি ?”
উত্তর আসে ” আমি ঐশী, ও আসলে বলবেন আমি এসেছিলাম। “
– ” আচ্ছা!”
– ” সংযুক্তা কখন ফিরবে ? বলতে পারবেন ?”
– ” না উনার আসলে ঠিক নেই , নিজেকে নিয়ে যা করেন উনি।”
– ” মানে?”
– ” আপনি পরে জেনে নেবেন, আমার এখন কাজ আছে অনেক।”
– ” হুম, আপনি বলে দেবেন সংযুক্তাকে।”

দিনটা ছিল 29th August। শেষ দেখা তাদের। দুজনেরই জীবন বদলিয়েছে, ঐশী আর সংযুক্তা র সম্পর্কের মেয়াদ সেদিনই শেষ । সংযুক্তার বর্তমান এর অবস্থার জন্য কিছুটা হলেও ওদের দুরত্ব দায়ি।

ফ্ল্যাটে ফিরে ব্যাগ সোফায় রাখতেই কাজের মেয়েটি তাঁকে জানিয়ে দেয় আজ দুপুরে ঐশীর আসার কথা, বলে বেড়িয়ে যায়। তাই তাঁকে জিজ্ঞেস করতে পারে না আর কিছু বলে গেছে কি না।

আজ আর সংযুক্তার কোনো কিছুতে মন বসছে না। চঞ্চলতায়  একবার বেডরূম আরেকবার বারান্দায় যাচ্ছে  আসছে। বার বার খোঁজার চেষ্টা করছে আজ এতো দিন পর ঐশীর আসার কারণ। খুব সহজেই জানা যায় যদি সে ঐশী কে ফোন করে। কিন্তু বার বার ডায়াল করেও সে চেষ্টা বিফলে যায়। ঐশী হয়ত খুব ব্যস্ত এখন। এই ভেবে তার চঞ্চলতা আরো বেড়ে যায়। ঘুমের ওষুধেও ঘুম নেই আজ তার চোখে। খাট হাতড়ে ফোনটা হাতে নিয়ে গ্যালারীতে হারিয়ে যায় ধীরে ধীরে পুরোনো সময় গুলোতে। রাত প্রায় নয়টা । হটাৎ কলিং বেল বেজে ওঠে। বার কয়েক বাজার পর সেই শব্দ কানে আসে সংযুক্তার। আচমকা উঠে দৌড়ে দরজা খোলে।
জমানো বিষণ্ণতার ঘন কুয়াশা যেন ঘর ঢেকে ফেলল নিমিষে। দমিয়ে রাখা অভিমান যেন ক্ষণিকের মধ্যেই গাল ভিজিয়ে দিল তাদের নোনতা জলে। দুজনের অভিমানি মনে জমে আছে অনেক প্রশ্ন। সামলে নিয়ে নিজেদের দুজনে দুজনের দিকে তাকিয়ে ।
– ভিতরে আসতে বলবি না ?
– হ্যাঁ ! হ্যাঁ ! আয়!
– কেমন আছিস ?
– এই ধরা বাধা প্রশ্নের কি খুব প্রয়োজন ?
– না ! তবে
– কি ?
– কিছু না , থাক।
– ভালো আছিস ! ঐশী ?
– এখন কে প্রশ্ন করলো ?
– জানতে ইচ্ছে করে। ভালো লাগে শুনতে !
– হ্যাঁ ভালোই আছি ।
– হ্যাঁ ! অভীক তো ভালো রাখবেই তোকে। আমার থেকেও ও তোকে বেশি ভালোবাসে ।
– এতো আগছলো কেনো ঘর টা তোর ?
– জীবন টাই আগছলো ।
– কি ?
– কিছু না ।
– দায়ী কি আমি ?
– ছেড়ে আমি গেছিলাম ?
– কেনো ছেড়ে গেছিলাম জানিস না ?
– ভালোবাসার থেকে তোর অন্য কিছু আগে হয়েছিল সেদিন ?
– আজ ও ভালোবাসা ই আগে।
– হ্যাঁ অভিকের ভালোবাসা ।
– সংযুক্তা ?
– ভুল বলেছি কিছু ? মনে পড়েছিল তোর এতো দিন আমাকে ?
– না পড়েনি।
– জানি তো। অভীক আছে, আমাকে আর কিসের প্রয়োজন !
– আমার আসাটাই ভুল হয়েছে।
– এসেছিস কেনো ? আমি বলেছিলাম ! না ফোন করেছিলাম !
– আমি আসছি।

আজ তাদের দেখা প্রায় কয়েক মাস পর। একা থাকতে পারে না সংযুক্তা ঐশী কে ছেড়ে। তবুও তাঁকে বাস্তবটা মেনে নিতে হয়েছে। প্রতি রাত সে নেশায় ভুলে থাকে । কিছু বছর আগে তাদের কথা শেষ হতো না, সারা রাত তারা জাগত দুজনে ফোন কলে। আজ তাদের কথা বন্ধ। বড়ো একা লাগলেও, মন খারাপ হলেও ঐশী কে জানাতে পারে না সংযুক্তা। ঐশীও চেপে রাখে , বলতে পারে না সংযুক্তাকে। যদিও বরাবরের চাপা সভাবের মেয়ে ঐশী। কিন্তু সংযুক্তা তো বরাবর ই দুর্বল ।

ঐশীকে বাঁধা দিতে সপাটে দরজা বন্ধ করে দরজায় ঐশীর হাত চেপে ধরে সংযুক্তা।

– আবার যখন চলেই যাবি! এসেছিস কেনো ?
– আমি তো আজ যাব বলে আসিনি।
– মানে ?
– অনেক কথা বলার আছে তোকে।

সংযুক্তার হাত আলগা হয়ে যায়। ঐশী কে আচমকা শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ।

– আবার চলে যাবি ঐশী ?
– না !

এতোক্ষণ অভিমানে দু জন দুজন কে দায়ী করলেও আজ ও ভালোবাসা ওদের আলাদা করতে পারেনি। দুরত্ব বেড়েছে, যোগযোগ কমেছে , কিন্তু ভালোবাসা ? আজ ও একই আছে ।

– চল আগে ভিতরে।
– হুম।
ভিতরে এসে ঐশীর চোখে পরে টেবিলের সিগারেটের প্যাকেট
– সংযুক্তা ?
– হুম ?
– তুই সিগারেট খাস এখন?
আর এই ঘুমের ওষুধ ?
– না । তুই চল না ঘরে। এসব দেখতে হবে না।
– চুপ করে দাড়া এখানে।
– কেনো?
– কেনো ? কি অবস্থা তোর ঘরের ?
– আর আমার ?
– বারাবারি র একটা সীমা থাকে।
– ভুলতে পরিনি আজ ও।
– এই ভাবে ভোলা যায়?
– হ্যাঁ হয়ত।
– ও তাহলে তুই আমার অতীত কিভাবে ভুলিয়ে ছিলি? আমিও তো তোর ই মতো ।
– তোর জন্য আমি ছিলাম। আমার জন্য কেউ নেই ঐশী।
– আমি নেই?
– শুধু মনে।
– না ! আজ থেকে বাস্তবেও।
– কেনো আবার মিথ্যে আশ্বাস দিচ্ছিস ?
– মিথ্যে না ।

সংযুক্তাকে জড়িয়ে ধরে ঠোঁটে ঠোঁট রেখে এতদিনের জমানো অভিমান ,কাছে না পাওয়ার কষ্ট সব কিছু বুঝিয়ে দেয় । বৃষ্টি পড়ছে ঝিরিঝিরি।নিশির ঠান্ডা হাওয়ায় দক্ষিণা জানলায় পর্দা নড়ছে নিজের আনন্দে। ঘরের হলুদ আলো ঐশীর কানের দুলে প্রতিফলিত হয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করছে সংযুক্তার।কানের কাছের চুল সরিয়ে আবেগ ঘন ভাষায় অভিমান জানিয়ে সংযুক্তার ঠোঁট ঐশীর ঠোঁট ছুঁল। লজ্জায় ঠোঁট চাপা হাসিতে ঐশীর কুর্তির কোন সরিয়ে আলতো হাতে কোমর ছুঁয়ে কাছে টেনে নিলো সংযুক্তা ঠোঁটের কাছাকাছি।কুর্তির পিঠের হুকে আটকে যাওয়া চুলগুলোকে মুক্তি দিয়ে হুকটা আলতো হাতে খুলে ফেললো চুপিসারে। এতোদিনের জমানো কথা যেন দুজনের ঠোঁটে আবেগ খুঁজতে ব্যস্ত। সংযুক্তাকে সরানোর চেষ্টাও করলেও তবে সেটা যে ঐশীর আবেগের প্রতিফলন বুঝতে খুব বেশি সময় লাগলো না।আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে সংযুক্তা ঐশী কে ।
– কেনো চলে গেছিলি ঐশী ?
– যেতে যে আমি বাধ্য হয়ে ছিলাম।
– ভালো নেই তুই ।
– তোকে ছেড়ে কিভাবে ভালো থাকা যায়? জানা নেই আমার।
– আমিও ভালো নেই ঐশী তোকে ছেড়ে।
– জানি তো।
– কিভাবে ?
– কেনো ? ঈণ্স্টা তে রাজন্যা868 নামে যে অকাউন্ট টা!
– ওটা তুই ?
– হ্যাঁ ।
– বলিস নি কেনো ?
– জানলে হয়ত মন চাইলেও অভিমানে কথা বলতি না । আর আমিও পারি না তোকে ছেড়ে থাকতে। তাই ই তো আজ!
– কি ?
– আমি অভীক কে ডিভর্স দিচ্ছি ঐশী ।
– কেনো? অভীক তো ভালো ছেলে।
– হ্যাঁ ও সত্যিই ভালো। কিন্তু আমার ভালোবাসার মানুষ হয়ে উঠবে না ও কোনো দিন । ওকে আমি ঠকাচ্ছি।
– Love you ঐশী।
– Love you more সংযুক্তা।

কানের কাছে Love you বলে ঘাড় সিক্ত হলো ঐশীর, সংযুক্তার উষ্ণ ঠোঁটে। বাঁধা দিতে চায়নি আজ একবার ও

– আজ ইচ্ছে করছে না তোকে ছাড়তে ঐশী।
– কাছে থাকবো বলেই তো এসেছি ।
– ঐশী আমাদের ঠোঁটে-ঠোঁট ছুঁতে পারে না!
– আয় কাছে ।
– আজ বাঁধা দিলি না তো।
– আজ চাই তোকে খুঁব কাছে ।
অনেক মন খারাপ জমে আছে, তুই না ছুঁলে আজ ।

ঐশী কে আর কিছু বলার সুযোগই না দিয়ে এক নিশ্বাসে ঠোঁটের কোমলে হরিয়ে গেলো কিছুক্ষণ,উষ্ণ হতে থাকলো ওদের শরীর,সিক্ত হলো ঠোঁট। ঠোঁট থেকে ঠোঁট সরিয়ে ঐশীর কপাল ছুঁল সংযুক্তার ঠোঁট। বুকের মাঝে জড়িয়ে নিল ঐশী কে। সংযুক্তার বেড়ে যাওয়া হৃদস্পন্দনে ঐশীর ভালোবাসা খুঁজে পেলো । হয়ত প্রথম বার ওরা এত কাছা কাছি।

– সংযুক্তা ?
– হ্যাঁ ?
– আমায় কাছে নিবি আজ রাতে?
– ঐশী ?
– এখন বুঝি তোর আর আমাকে ভালোবাসতে ইচ্ছে করে না ?
– ঐশী ! প্লিজ । I love you ঐশী।
– তাহলে আজ । প্লিজ!

সংযুক্তার বুকে মাথা রেখে শুয়ে পরে ঐশী। সংযুক্তা ব্যস্ত ঐশীর এলো চুলে আদর করতে । খানিকটা মাথা তুলে এক হাতে সংযুক্তার গালে হাত রেখে কপাল ছুঁয়ে গালে চুম্বন করে ঐশী। সংযুক্তা ঐশীর একটা হাত চেপে ধরে চোখে চোখ রাখে।

– ঐশী?
– বল !
– পরে তোর আপশোস হবে না তো ?
– না সংযুক্তা। এই দিনের অপেক্ষা তেই তো ছিলাম ।
– তুই sure?
– I love you সংযুক্তা ।

ঐশী উঠে বসে কুর্তি খুলতে চাইলে বাঁধা দেয় সংযুক্তা। ঐশী কোনো কথা শোনে না। ঠোঁটে ঠোঁট রেখে হারিয়ে যায় দুজনে। সংযুক্তার ঠোঁট ঐশীর ঠোঁট চেপে ধরে । হাল্কা হাল্কা চাঁপে টান টান উত্তেজনা দুজনের শরীরে। ঐশীর কপালের ঘাম মুছে ঘাড়ে কাছে আদর করে সংযুক্তা। শীত্কারে আকড়ে ধরে ঐশী। ঐশীর চোখে চোখ রেখে অনুমতি নিয়ে ব্রা স্ট্রাপ নামিয়ে আনে সংযুক্তা। এলো চুলের মিছিল সরিয়ে শান্ত দৃষ্টি এনে চোখ রাখে ঐশীর চোখে , ঐশী আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে সংযুক্তাকে। ঐশী এখন সংযুক্তার বাহুবন্ধনে। প্রথম ভালোবাসা, কাছে পাওয়ার অনুভুতি দুজনেরই। সঙ্কোচ কাটিয়ে ঐশী বুকে জড়িয়ে ধরে সংযুক্তাকে। সংযুক্তা আদর করে ঠোঁট ছোঁয়ায় ঐশির কপালে। অনেক জলছবি আঁকে তারা আদরের। এতো দিনের দুরত্ব যেন নিমিসেই গায়েব। তাদের যেন কোনো দুরত্ব ই হয়নি। যদিও দুরত্ব না হলে আজকের এই ভালোবাসার অনুভুতি এতোটাও আবেগী হতো না।

– I love you সংযুক্তা । love you so much । I will never leave you again ।
– I love you too ঐশী। please dont leave me ।

চরম উত্তেজনার শেষে ক্লান্ততায় ঐশী মাথা রাখে সংযুক্তার বুকে। ঐশী কে খুব শক্ত করে জড়িয়ে ধরে সংযুক্তা। রাত কখন শেষের পথে ওরা বুঝতেও পারেনি।

রাত বেড়েছে প্রায় পৌনে চারটে,

– আজ চলে যাবি ঐশী ?
– না রে । আমরা আবার নতুন করে শুরু করতে পারি না ?
– কিন্তু ! অভীক।
– আমাদের সেপারেশন চলছে। নেক্সট মাসে ডিভর্স।
– অভীক কষ্ট পায়নি?
– না আসলে ও নিজেও পরিস্থিতি র শিকার । ওর মনে অন্য কেউ আছে ।
– ও তোর সাথে খারাপ ব্যবহার করেনি তো ?
– না রে ও জানে আমাদের ব্যাপারটা আর ও ই বলল fake id te অকাউন্ট খুলে তোর সাথে কথা বলতে।
– আর কাকু , কাকিমা ?
– জানি না ।
– তাহলে ?
– যাই হয়ে যাক। আমি আর তোর হাত ছাড়ব না সংযুক্তা। পথ ভুল করে একলা নাবিক আমি হারিয়ে গেছিলাম মাঝ সমুদ্রে ।কিন্তু খোলা আকাশের দিকে চেয়ে আবার আমি খুঁজে পেয়েছি আমার জীবনের ধ্রুবতারাকে, আর পথ ভুল হবেনা।
– সত্যি তো ?
– হ্যাঁ রে। ভালোবাসি রে খুব ।
– আমিও।

[ হয়ত হারিয়েও ফিরে পাওয়া যায়। সম্পর্কে না থেকেও ভালোবাসা যায়। কিম্তু বাস্তব খুব কঠিন। কটা প্রেম ই বা এমন হয় ? নতুন জীবনের ব্যস্ততায় পুরাতন জায়গা পায় না। আবার হয়ত পায় দুজনের ইচ্ছেতে। ]

আরো একটা দিন শেষ হতে চলল। ঘড়ির কাটা ন-টা ছুইঁ ছুইঁ । রোজের অভ্যেসে আজও তালা লাগাতে পারেনি সংযুক্তা। বাড়ি ফিরেই গলা পর্যন্ত মদ আর সিগারেট। বন্ধু, ডাক্তার সবার না বলা সত্বেও নিজের বদ অভ্যেস ছাড়তে নারাজ সে।
খুব বেশি নয় , ওই মাস সাতেক হবে । বাড়ি ছেড়ে ফ্ল্যাটে থাকে একা। খুব বেশি কোথাও যায়ও না, বন্ধু বান্ধব ও হাতে গোনা কয়েকজন। নার্সিংহোম থেকে বাড়ি এটুকুই তার ঘর থেকে বেরনো। পরিচিতি তে যদিও সে একজন ডায়েটিশিয়ান। রোজের ব্যস্ত রুটিনে বেঁধে রেখেছে নিজেকে, ইচ্ছে করেই। সারাদিনের শেষে আজ ফিরে যেন অন্য ছবি, অনেক দিন পর বই এর টেবিলে বসে গল্পের বই খুলেছে। কিন্তু পড়ার জন্য না, কি যেন খুঁজছে বই এর পাতা উল্টে পাল্টে । মিনিট পাঁচেক পর হটাৎ যেন উত্তেজিত হয়ে পাশে থাকা কাঁচের গ্লাসটায় চাপ দিতেই হাত রক্তাক্ত হয়ে ওঠে তার, তবুও ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে আছে বই এর ভাঁজে খুঁজে পাওয়া ঐশীর ফোটোটায়।
হাতের ব্যথা অনুভব হতেই পকেট থেকে রুমাল বেড় করে জড়িয়ে নেয় কোনো রকমে, টেবিল হাতড়ে সিগারেটের প্যাকেট হাতে নিয়ে বেড়িয়ে আসে বারান্দায়। রোজেরই মত আজও তার ঠোঁট পুড়ছে নিকোটিনে। প্রতিরাতই কাটে তার এই ভাবেই। আবার সকাল হয়, যান্ত্রিক ব্যস্ততা। আবার বিকেলে বাড়ি ফেরা। নিজেকে প্রশ্ন করে প্রতি রাত ” আর কতদিন কাটবে এইভাবে , তোকে মনে রেখে ? জানি ফিরবি না আর। ভালোই আছিস তাই ভুলেছিস আমায়।” ঘুমিয়ে পরে কখন সে নিজেও বোঝে না।
আবার একটা সকাল আজ। রেডি হচ্ছে নার্সিং হোমে যাওয়ার জন্য। সকাল দশটা নাগাদ বেড়িয়ে পরলো। বাড়ি ফাঁকা এখন । শুধু যিনি রান্না করেন সে থাকেন বিকেল পর্যন্ত।
বেলা গড়িয়ে দুপুর , একটা ছুইঁ ছুইঁ । কলিং বেলের শব্দে একটু অপ্রস্তুত হয়ে পড়েন কাজের মেয়েটি। দরজায় এগিয়ে এসে দরজা খানিকটা খুলে দাড়ায সে।
দরজার ওপার থেকে প্রশ্ন আসে “সংযুক্তা আছে ?”
কাজের মেয়েটি উত্তর দেয় ” না , উনি তো নার্সিংহোমে, আপনি ?”
উত্তর আসে ” আমি ঐশী, ও আসলে বলবেন আমি এসেছিলাম। “
– ” আচ্ছা!”
– ” সংযুক্তা কখন ফিরবে ? বলতে পারবেন ?”
– ” না উনার আসলে ঠিক নেই , নিজেকে নিয়ে যা করেন উনি।”
– ” মানে?”
– ” আপনি পরে জেনে নেবেন, আমার এখন কাজ আছে অনেক।”
– ” হুম, আপনি বলে দেবেন সংযুক্তাকে।”

দিনটা ছিল 29th August। শেষ দেখা তাদের। দুজনেরই জীবন বদলিয়েছে, ঐশী আর সংযুক্তা র সম্পর্কের মেয়াদ সেদিনই শেষ । সংযুক্তার বর্তমান এর অবস্থার জন্য কিছুটা হলেও ওদের দুরত্ব দায়ি।

ফ্ল্যাটে ফিরে ব্যাগ সোফায় রাখতেই কাজের মেয়েটি তাঁকে জানিয়ে দেয় আজ দুপুরে ঐশীর আসার কথা, বলে বেড়িয়ে যায়। তাই তাঁকে জিজ্ঞেস করতে পারে না আর কিছু বলে গেছে কি না।

আজ আর সংযুক্তার কোনো কিছুতে মন বসছে না। চঞ্চলতায়  একবার বেডরূম আরেকবার বারান্দায় যাচ্ছে  আসছে। বার বার খোঁজার চেষ্টা করছে আজ এতো দিন পর ঐশীর আসার কারণ। খুব সহজেই জানা যায় যদি সে ঐশী কে ফোন করে। কিন্তু বার বার ডায়াল করেও সে চেষ্টা বিফলে যায়। ঐশী হয়ত খুব ব্যস্ত এখন। এই ভেবে তার চঞ্চলতা আরো বেড়ে যায়। ঘুমের ওষুধেও ঘুম নেই আজ তার চোখে। খাট হাতড়ে ফোনটা হাতে নিয়ে গ্যালারীতে হারিয়ে যায় ধীরে ধীরে পুরোনো সময় গুলোতে। রাত প্রায় নয়টা । হটাৎ কলিং বেল বেজে ওঠে। বার কয়েক বাজার পর সেই শব্দ কানে আসে সংযুক্তার। আচমকা উঠে দৌড়ে দরজা খোলে।
জমানো বিষণ্ণতার ঘন কুয়াশা যেন ঘর ঢেকে ফেলল নিমিষে। দমিয়ে রাখা অভিমান যেন ক্ষণিকের মধ্যেই গাল ভিজিয়ে দিল তাদের নোনতা জলে। দুজনের অভিমানি মনে জমে আছে অনেক প্রশ্ন। সামলে নিয়ে নিজেদের দুজনে দুজনের দিকে তাকিয়ে ।
– ভিতরে আসতে বলবি না ?
– হ্যাঁ ! হ্যাঁ ! আয়!
– কেমন আছিস ?
– এই ধরা বাধা প্রশ্নের কি খুব প্রয়োজন ?
– না ! তবে
– কি ?
– কিছু না , থাক।
– ভালো আছিস ! ঐশী ?
– এখন কে প্রশ্ন করলো ?
– জানতে ইচ্ছে করে। ভালো লাগে শুনতে !
– হ্যাঁ ভালোই আছি ।
– হ্যাঁ ! অভীক তো ভালো রাখবেই তোকে। আমার থেকেও ও তোকে বেশি ভালোবাসে ।
– এতো আগছলো কেনো ঘর টা তোর ?
– জীবন টাই আগছলো ।
– কি ?
– কিছু না ।
– দায়ী কি আমি ?
– ছেড়ে আমি গেছিলাম ?
– কেনো ছেড়ে গেছিলাম জানিস না ?
– ভালোবাসার থেকে তোর অন্য কিছু আগে হয়েছিল সেদিন ?
– আজ ও ভালোবাসা ই আগে।
– হ্যাঁ অভিকের ভালোবাসা ।
– সংযুক্তা ?
– ভুল বলেছি কিছু ? মনে পড়েছিল তোর এতো দিন আমাকে ?
– না পড়েনি।
– জানি তো। অভীক আছে, আমাকে আর কিসের প্রয়োজন !
– আমার আসাটাই ভুল হয়েছে।
– এসেছিস কেনো ? আমি বলেছিলাম ! না ফোন করেছিলাম !
– আমি আসছি।

আজ তাদের দেখা প্রায় কয়েক মাস পর। একা থাকতে পারে না সংযুক্তা ঐশী কে ছেড়ে। তবুও তাঁকে বাস্তবটা মেনে নিতে হয়েছে। প্রতি রাত সে নেশায় ভুলে থাকে । কিছু বছর আগে তাদের কথা শেষ হতো না, সারা রাত তারা জাগত দুজনে ফোন কলে। আজ তাদের কথা বন্ধ। বড়ো একা লাগলেও, মন খারাপ হলেও ঐশী কে জানাতে পারে না সংযুক্তা। ঐশীও চেপে রাখে , বলতে পারে না সংযুক্তাকে। যদিও বরাবরের চাপা সভাবের মেয়ে ঐশী। কিন্তু সংযুক্তা তো বরাবর ই দুর্বল ।

ঐশীকে বাঁধা দিতে সপাটে দরজা বন্ধ করে দরজায় ঐশীর হাত চেপে ধরে সংযুক্তা।

– আবার যখন চলেই যাবি! এসেছিস কেনো ?
– আমি তো আজ যাব বলে আসিনি।
– মানে ?
– অনেক কথা বলার আছে তোকে।

সংযুক্তার হাত আলগা হয়ে যায়। ঐশী কে আচমকা শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ।

– আবার চলে যাবি ঐশী ?
– না !

এতোক্ষণ অভিমানে দু জন দুজন কে দায়ী করলেও আজ ও ভালোবাসা ওদের আলাদা করতে পারেনি। দুরত্ব বেড়েছে, যোগযোগ কমেছে , কিন্তু ভালোবাসা ? আজ ও একই আছে ।

– চল আগে ভিতরে।
– হুম।
ভিতরে এসে ঐশীর চোখে পরে টেবিলের সিগারেটের প্যাকেট
– সংযুক্তা ?
– হুম ?
– তুই সিগারেট খাস এখন?
আর এই ঘুমের ওষুধ ?
– না । তুই চল না ঘরে। এসব দেখতে হবে না।
– চুপ করে দাড়া এখানে।
– কেনো?
– কেনো ? কি অবস্থা তোর ঘরের ?
– আর আমার ?
– বারাবারি র একটা সীমা থাকে।
– ভুলতে পরিনি আজ ও।
– এই ভাবে ভোলা যায়?
– হ্যাঁ হয়ত।
– ও তাহলে তুই আমার অতীত কিভাবে ভুলিয়ে ছিলি? আমিও তো তোর ই মতো ।
– তোর জন্য আমি ছিলাম। আমার জন্য কেউ নেই ঐশী।
– আমি নেই?
– শুধু মনে।
– না ! আজ থেকে বাস্তবেও।
– কেনো আবার মিথ্যে আশ্বাস দিচ্ছিস ?
– মিথ্যে না ।

সংযুক্তাকে জড়িয়ে ধরে ঠোঁটে ঠোঁট রেখে এতদিনের জমানো অভিমান ,কাছে না পাওয়ার কষ্ট সব কিছু বুঝিয়ে দেয় । বৃষ্টি পড়ছে ঝিরিঝিরি।নিশির ঠান্ডা হাওয়ায় দক্ষিণা জানলায় পর্দা নড়ছে নিজের আনন্দে। ঘরের হলুদ আলো ঐশীর কানের দুলে প্রতিফলিত হয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করছে সংযুক্তার।কানের কাছের চুল সরিয়ে আবেগ ঘন ভাষায় অভিমান জানিয়ে সংযুক্তার ঠোঁট ঐশীর ঠোঁট ছুঁল। লজ্জায় ঠোঁট চাপা হাসিতে ঐশীর কুর্তির কোন সরিয়ে আলতো হাতে কোমর ছুঁয়ে কাছে টেনে নিলো সংযুক্তা ঠোঁটের কাছাকাছি।কুর্তির পিঠের হুকে আটকে যাওয়া চুলগুলোকে মুক্তি দিয়ে হুকটা আলতো হাতে খুলে ফেললো চুপিসারে। এতোদিনের জমানো কথা যেন দুজনের ঠোঁটে আবেগ খুঁজতে ব্যস্ত। সংযুক্তাকে সরানোর চেষ্টাও করলেও তবে সেটা যে ঐশীর আবেগের প্রতিফলন বুঝতে খুব বেশি সময় লাগলো না।আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে সংযুক্তা ঐশী কে ।
– কেনো চলে গেছিলি ঐশী ?
– যেতে যে আমি বাধ্য হয়ে ছিলাম।
– ভালো নেই তুই ।
– তোকে ছেড়ে কিভাবে ভালো থাকা যায়? জানা নেই আমার।
– আমিও ভালো নেই ঐশী তোকে ছেড়ে।
– জানি তো।
– কিভাবে ?
– কেনো ? ঈণ্স্টা তে রাজন্যা868 নামে যে অকাউন্ট টা!
– ওটা তুই ?
– হ্যাঁ ।
– বলিস নি কেনো ?
– জানলে হয়ত মন চাইলেও অভিমানে কথা বলতি না । আর আমিও পারি না তোকে ছেড়ে থাকতে। তাই ই তো আজ!
– কি ?
– আমি অভীক কে ডিভর্স দিচ্ছি ঐশী ।
– কেনো? অভীক তো ভালো ছেলে।
– হ্যাঁ ও সত্যিই ভালো। কিন্তু আমার ভালোবাসার মানুষ হয়ে উঠবে না ও কোনো দিন । ওকে আমি ঠকাচ্ছি।
– Love you ঐশী।
– Love you more সংযুক্তা।

কানের কাছে Love you বলে ঘাড় সিক্ত হলো ঐশীর, সংযুক্তার উষ্ণ ঠোঁটে। বাঁধা দিতে চায়নি আজ একবার ও

– আজ ইচ্ছে করছে না তোকে ছাড়তে ঐশী।
– কাছে থাকবো বলেই তো এসেছি ।
– ঐশী আমাদের ঠোঁটে-ঠোঁট ছুঁতে পারে না!
– আয় কাছে ।
– আজ বাঁধা দিলি না তো।
– আজ চাই তোকে খুঁব কাছে ।
অনেক মন খারাপ জমে আছে, তুই না ছুঁলে আজ ।

ঐশী কে আর কিছু বলার সুযোগই না দিয়ে এক নিশ্বাসে ঠোঁটের কোমলে হরিয়ে গেলো কিছুক্ষণ,উষ্ণ হতে থাকলো ওদের শরীর,সিক্ত হলো ঠোঁট। ঠোঁট থেকে ঠোঁট সরিয়ে ঐশীর কপাল ছুঁল সংযুক্তার ঠোঁট। বুকের মাঝে জড়িয়ে নিল ঐশী কে। সংযুক্তার বেড়ে যাওয়া হৃদস্পন্দনে ঐশীর ভালোবাসা খুঁজে পেলো । হয়ত প্রথম বার ওরা এত কাছা কাছি।

– সংযুক্তা ?
– হ্যাঁ ?
– আমায় কাছে নিবি আজ রাতে?
– ঐশী ?
– এখন বুঝি তোর আর আমাকে ভালোবাসতে ইচ্ছে করে না ?
– ঐশী ! প্লিজ । I love you ঐশী।
– তাহলে আজ । প্লিজ!

সংযুক্তার বুকে মাথা রেখে শুয়ে পরে ঐশী। সংযুক্তা ব্যস্ত ঐশীর এলো চুলে আদর করতে । খানিকটা মাথা তুলে এক হাতে সংযুক্তার গালে হাত রেখে কপাল ছুঁয়ে গালে চুম্বন করে ঐশী। সংযুক্তা ঐশীর একটা হাত চেপে ধরে চোখে চোখ রাখে।

– ঐশী?
– বল !
– পরে তোর আপশোস হবে না তো ?
– না সংযুক্তা। এই দিনের অপেক্ষা তেই তো ছিলাম ।
– তুই sure?
– I love you সংযুক্তা ।

ঐশী উঠে বসে কুর্তি খুলতে চাইলে বাঁধা দেয় সংযুক্তা। ঐশী কোনো কথা শোনে না। ঠোঁটে ঠোঁট রেখে হারিয়ে যায় দুজনে। সংযুক্তার ঠোঁট ঐশীর ঠোঁট চেপে ধরে । হাল্কা হাল্কা চাঁপে টান টান উত্তেজনা দুজনের শরীরে। ঐশীর কপালের ঘাম মুছে ঘাড়ে কাছে আদর করে সংযুক্তা। শীত্কারে আকড়ে ধরে ঐশী। ঐশীর চোখে চোখ রেখে অনুমতি নিয়ে ব্রা স্ট্রাপ নামিয়ে আনে সংযুক্তা। এলো চুলের মিছিল সরিয়ে শান্ত দৃষ্টি এনে চোখ রাখে ঐশীর চোখে , ঐশী আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে সংযুক্তাকে। ঐশী এখন সংযুক্তার বাহুবন্ধনে। প্রথম ভালোবাসা, কাছে পাওয়ার অনুভুতি দুজনেরই। সঙ্কোচ কাটিয়ে ঐশী বুকে জড়িয়ে ধরে সংযুক্তাকে। সংযুক্তা আদর করে ঠোঁট ছোঁয়ায় ঐশির কপালে। অনেক জলছবি আঁকে তারা আদরের। এতো দিনের দুরত্ব যেন নিমিসেই গায়েব। তাদের যেন কোনো দুরত্ব ই হয়নি। যদিও দুরত্ব না হলে আজকের এই ভালোবাসার অনুভুতি এতোটাও আবেগী হতো না।

– I love you সংযুক্তা । love you so much । I will never leave you again ।
– I love you too ঐশী। please dont leave me ।

চরম উত্তেজনার শেষে ক্লান্ততায় ঐশী মাথা রাখে সংযুক্তার বুকে। ঐশী কে খুব শক্ত করে জড়িয়ে ধরে সংযুক্তা। রাত কখন শেষের পথে ওরা বুঝতেও পারেনি।

রাত বেড়েছে প্রায় পৌনে চারটে,

– আজ চলে যাবি ঐশী ?
– না রে । আমরা আবার নতুন করে শুরু করতে পারি না ?
– কিন্তু ! অভীক।
– আমাদের সেপারেশন চলছে। নেক্সট মাসে ডিভর্স।
– অভীক কষ্ট পায়নি?
– না আসলে ও নিজেও পরিস্থিতি র শিকার । ওর মনে অন্য কেউ আছে ।
– ও তোর সাথে খারাপ ব্যবহার করেনি তো ?
– না রে ও জানে আমাদের ব্যাপারটা আর ও ই বলল fake id te অকাউন্ট খুলে তোর সাথে কথা বলতে।
– আর কাকু , কাকিমা ?
– জানি না ।
– তাহলে ?
– যাই হয়ে যাক। আমি আর তোর হাত ছাড়ব না সংযুক্তা। পথ ভুল করে একলা নাবিক আমি হারিয়ে গেছিলাম মাঝ সমুদ্রে ।কিন্তু খোলা আকাশের দিকে চেয়ে আবার আমি খুঁজে পেয়েছি আমার জীবনের ধ্রুবতারাকে, আর পথ ভুল হবেনা।
– সত্যি তো ?
– হ্যাঁ রে। ভালোবাসি রে খুব ।
– আমিও।

[ হয়ত হারিয়েও ফিরে পাওয়া যায়। সম্পর্কে না থেকেও ভালোবাসা যায়। কিম্তু বাস্তব খুব কঠিন। কটা প্রেম ই বা এমন হয় ? নতুন জীবনের ব্যস্ততায় পুরাতন জায়গা পায় না। আবার হয়ত পায় দুজনের ইচ্ছেতে। ]

আরো একটা দিন শেষ হতে চলল। ঘড়ির কাটা ন-টা ছুইঁ ছুইঁ । রোজের অভ্যেসে আজও তালা লাগাতে পারেনি সংযুক্তা। বাড়ি ফিরেই গলা পর্যন্ত মদ আর সিগারেট। বন্ধু, ডাক্তার সবার না বলা সত্বেও নিজের বদ অভ্যেস ছাড়তে নারাজ সে।
খুব বেশি নয় , ওই মাস সাতেক হবে । বাড়ি ছেড়ে ফ্ল্যাটে থাকে একা। খুব বেশি কোথাও যায়ও না, বন্ধু বান্ধব ও হাতে গোনা কয়েকজন। নার্সিংহোম থেকে বাড়ি এটুকুই তার ঘর থেকে বেরনো। পরিচিতি তে যদিও সে একজন ডায়েটিশিয়ান। রোজের ব্যস্ত রুটিনে বেঁধে রেখেছে নিজেকে, ইচ্ছে করেই। সারাদিনের শেষে আজ ফিরে যেন অন্য ছবি, অনেক দিন পর বই এর টেবিলে বসে গল্পের বই খুলেছে। কিন্তু পড়ার জন্য না, কি যেন খুঁজছে বই এর পাতা উল্টে পাল্টে । মিনিট পাঁচেক পর হটাৎ যেন উত্তেজিত হয়ে পাশে থাকা কাঁচের গ্লাসটায় চাপ দিতেই হাত রক্তাক্ত হয়ে ওঠে তার, তবুও ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে আছে বই এর ভাঁজে খুঁজে পাওয়া ঐশীর ফোটোটায়।
হাতের ব্যথা অনুভব হতেই পকেট থেকে রুমাল বেড় করে জড়িয়ে নেয় কোনো রকমে, টেবিল হাতড়ে সিগারেটের প্যাকেট হাতে নিয়ে বেড়িয়ে আসে বারান্দায়। রোজেরই মত আজও তার ঠোঁট পুড়ছে নিকোটিনে। প্রতিরাতই কাটে তার এই ভাবেই। আবার সকাল হয়, যান্ত্রিক ব্যস্ততা। আবার বিকেলে বাড়ি ফেরা। নিজেকে প্রশ্ন করে প্রতি রাত ” আর কতদিন কাটবে এইভাবে , তোকে মনে রেখে ? জানি ফিরবি না আর। ভালোই আছিস তাই ভুলেছিস আমায়।” ঘুমিয়ে পরে কখন সে নিজেও বোঝে না।
আবার একটা সকাল আজ। রেডি হচ্ছে নার্সিং হোমে যাওয়ার জন্য। সকাল দশটা নাগাদ বেড়িয়ে পরলো। বাড়ি ফাঁকা এখন । শুধু যিনি রান্না করেন সে থাকেন বিকেল পর্যন্ত।
বেলা গড়িয়ে দুপুর , একটা ছুইঁ ছুইঁ । কলিং বেলের শব্দে একটু অপ্রস্তুত হয়ে পড়েন কাজের মেয়েটি। দরজায় এগিয়ে এসে দরজা খানিকটা খুলে দাড়ায সে।
দরজার ওপার থেকে প্রশ্ন আসে “সংযুক্তা আছে ?”
কাজের মেয়েটি উত্তর দেয় ” না , উনি তো নার্সিংহোমে, আপনি ?”
উত্তর আসে ” আমি ঐশী, ও আসলে বলবেন আমি এসেছিলাম। “
– ” আচ্ছা!”
– ” সংযুক্তা কখন ফিরবে ? বলতে পারবেন ?”
– ” না উনার আসলে ঠিক নেই , নিজেকে নিয়ে যা করেন উনি।”
– ” মানে?”
– ” আপনি পরে জেনে নেবেন, আমার এখন কাজ আছে অনেক।”
– ” হুম, আপনি বলে দেবেন সংযুক্তাকে।”

দিনটা ছিল 29th August। শেষ দেখা তাদের। দুজনেরই জীবন বদলিয়েছে, ঐশী আর সংযুক্তা র সম্পর্কের মেয়াদ সেদিনই শেষ । সংযুক্তার বর্তমান এর অবস্থার জন্য কিছুটা হলেও ওদের দুরত্ব দায়ি।

ফ্ল্যাটে ফিরে ব্যাগ সোফায় রাখতেই কাজের মেয়েটি তাঁকে জানিয়ে দেয় আজ দুপুরে ঐশীর আসার কথা, বলে বেড়িয়ে যায়। তাই তাঁকে জিজ্ঞেস করতে পারে না আর কিছু বলে গেছে কি না।

আজ আর সংযুক্তার কোনো কিছুতে মন বসছে না। চঞ্চলতায়  একবার বেডরূম আরেকবার বারান্দায় যাচ্ছে  আসছে। বার বার খোঁজার চেষ্টা করছে আজ এতো দিন পর ঐশীর আসার কারণ। খুব সহজেই জানা যায় যদি সে ঐশী কে ফোন করে। কিন্তু বার বার ডায়াল করেও সে চেষ্টা বিফলে যায়। ঐশী হয়ত খুব ব্যস্ত এখন। এই ভেবে তার চঞ্চলতা আরো বেড়ে যায়। ঘুমের ওষুধেও ঘুম নেই আজ তার চোখে। খাট হাতড়ে ফোনটা হাতে নিয়ে গ্যালারীতে হারিয়ে যায় ধীরে ধীরে পুরোনো সময় গুলোতে। রাত প্রায় নয়টা । হটাৎ কলিং বেল বেজে ওঠে। বার কয়েক বাজার পর সেই শব্দ কানে আসে সংযুক্তার। আচমকা উঠে দৌড়ে দরজা খোলে।
জমানো বিষণ্ণতার ঘন কুয়াশা যেন ঘর ঢেকে ফেলল নিমিষে। দমিয়ে রাখা অভিমান যেন ক্ষণিকের মধ্যেই গাল ভিজিয়ে দিল তাদের নোনতা জলে। দুজনের অভিমানি মনে জমে আছে অনেক প্রশ্ন। সামলে নিয়ে নিজেদের দুজনে দুজনের দিকে তাকিয়ে ।
– ভিতরে আসতে বলবি না ?
– হ্যাঁ ! হ্যাঁ ! আয়!
– কেমন আছিস ?
– এই ধরা বাধা প্রশ্নের কি খুব প্রয়োজন ?
– না ! তবে
– কি ?
– কিছু না , থাক।
– ভালো আছিস ! ঐশী ?
– এখন কে প্রশ্ন করলো ?
– জানতে ইচ্ছে করে। ভালো লাগে শুনতে !
– হ্যাঁ ভালোই আছি ।
– হ্যাঁ ! অভীক তো ভালো রাখবেই তোকে। আমার থেকেও ও তোকে বেশি ভালোবাসে ।
– এতো আগছলো কেনো ঘর টা তোর ?
– জীবন টাই আগছলো ।
– কি ?
– কিছু না ।
– দায়ী কি আমি ?
– ছেড়ে আমি গেছিলাম ?
– কেনো ছেড়ে গেছিলাম জানিস না ?
– ভালোবাসার থেকে তোর অন্য কিছু আগে হয়েছিল সেদিন ?
– আজ ও ভালোবাসা ই আগে।
– হ্যাঁ অভিকের ভালোবাসা ।
– সংযুক্তা ?
– ভুল বলেছি কিছু ? মনে পড়েছিল তোর এতো দিন আমাকে ?
– না পড়েনি।
– জানি তো। অভীক আছে, আমাকে আর কিসের প্রয়োজন !
– আমার আসাটাই ভুল হয়েছে।
– এসেছিস কেনো ? আমি বলেছিলাম ! না ফোন করেছিলাম !
– আমি আসছি।

আজ তাদের দেখা প্রায় কয়েক মাস পর। একা থাকতে পারে না সংযুক্তা ঐশী কে ছেড়ে। তবুও তাঁকে বাস্তবটা মেনে নিতে হয়েছে। প্রতি রাত সে নেশায় ভুলে থাকে । কিছু বছর আগে তাদের কথা শেষ হতো না, সারা রাত তারা জাগত দুজনে ফোন কলে। আজ তাদের কথা বন্ধ। বড়ো একা লাগলেও, মন খারাপ হলেও ঐশী কে জানাতে পারে না সংযুক্তা। ঐশীও চেপে রাখে , বলতে পারে না সংযুক্তাকে। যদিও বরাবরের চাপা সভাবের মেয়ে ঐশী। কিন্তু সংযুক্তা তো বরাবর ই দুর্বল ।

ঐশীকে বাঁধা দিতে সপাটে দরজা বন্ধ করে দরজায় ঐশীর হাত চেপে ধরে সংযুক্তা।

– আবার যখন চলেই যাবি! এসেছিস কেনো ?
– আমি তো আজ যাব বলে আসিনি।
– মানে ?
– অনেক কথা বলার আছে তোকে।

সংযুক্তার হাত আলগা হয়ে যায়। ঐশী কে আচমকা শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ।

– আবার চলে যাবি ঐশী ?
– না !

এতোক্ষণ অভিমানে দু জন দুজন কে দায়ী করলেও আজ ও ভালোবাসা ওদের আলাদা করতে পারেনি। দুরত্ব বেড়েছে, যোগযোগ কমেছে , কিন্তু ভালোবাসা ? আজ ও একই আছে ।

– চল আগে ভিতরে।
– হুম।
ভিতরে এসে ঐশীর চোখে পরে টেবিলের সিগারেটের প্যাকেট
– সংযুক্তা ?
– হুম ?
– তুই সিগারেট খাস এখন?
আর এই ঘুমের ওষুধ ?
– না । তুই চল না ঘরে। এসব দেখতে হবে না।
– চুপ করে দাড়া এখানে।
– কেনো?
– কেনো ? কি অবস্থা তোর ঘরের ?
– আর আমার ?
– বারাবারি র একটা সীমা থাকে।
– ভুলতে পরিনি আজ ও।
– এই ভাবে ভোলা যায়?
– হ্যাঁ হয়ত।
– ও তাহলে তুই আমার অতীত কিভাবে ভুলিয়ে ছিলি? আমিও তো তোর ই মতো ।
– তোর জন্য আমি ছিলাম। আমার জন্য কেউ নেই ঐশী।
– আমি নেই?
– শুধু মনে।
– না ! আজ থেকে বাস্তবেও।
– কেনো আবার মিথ্যে আশ্বাস দিচ্ছিস ?
– মিথ্যে না ।

সংযুক্তাকে জড়িয়ে ধরে ঠোঁটে ঠোঁট রেখে এতদিনের জমানো অভিমান ,কাছে না পাওয়ার কষ্ট সব কিছু বুঝিয়ে দেয় । বৃষ্টি পড়ছে ঝিরিঝিরি।নিশির ঠান্ডা হাওয়ায় দক্ষিণা জানলায় পর্দা নড়ছে নিজের আনন্দে। ঘরের হলুদ আলো ঐশীর কানের দুলে প্রতিফলিত হয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করছে সংযুক্তার।কানের কাছের চুল সরিয়ে আবেগ ঘন ভাষায় অভিমান জানিয়ে সংযুক্তার ঠোঁট ঐশীর ঠোঁট ছুঁল। লজ্জায় ঠোঁট চাপা হাসিতে ঐশীর কুর্তির কোন সরিয়ে আলতো হাতে কোমর ছুঁয়ে কাছে টেনে নিলো সংযুক্তা ঠোঁটের কাছাকাছি।কুর্তির পিঠের হুকে আটকে যাওয়া চুলগুলোকে মুক্তি দিয়ে হুকটা আলতো হাতে খুলে ফেললো চুপিসারে। এতোদিনের জমানো কথা যেন দুজনের ঠোঁটে আবেগ খুঁজতে ব্যস্ত। সংযুক্তাকে সরানোর চেষ্টাও করলেও তবে সেটা যে ঐশীর আবেগের প্রতিফলন বুঝতে খুব বেশি সময় লাগলো না।আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে সংযুক্তা ঐশী কে ।
– কেনো চলে গেছিলি ঐশী ?
– যেতে যে আমি বাধ্য হয়ে ছিলাম।
– ভালো নেই তুই ।
– তোকে ছেড়ে কিভাবে ভালো থাকা যায়? জানা নেই আমার।
– আমিও ভালো নেই ঐশী তোকে ছেড়ে।
– জানি তো।
– কিভাবে ?
– কেনো ? ঈণ্স্টা তে রাজন্যা868 নামে যে অকাউন্ট টা!
– ওটা তুই ?
– হ্যাঁ ।
– বলিস নি কেনো ?
– জানলে হয়ত মন চাইলেও অভিমানে কথা বলতি না । আর আমিও পারি না তোকে ছেড়ে থাকতে। তাই ই তো আজ!
– কি ?
– আমি অভীক কে ডিভর্স দিচ্ছি ঐশী ।
– কেনো? অভীক তো ভালো ছেলে।
– হ্যাঁ ও সত্যিই ভালো। কিন্তু আমার ভালোবাসার মানুষ হয়ে উঠবে না ও কোনো দিন । ওকে আমি ঠকাচ্ছি।
– Love you ঐশী।
– Love you more সংযুক্তা।

কানের কাছে Love you বলে ঘাড় সিক্ত হলো ঐশীর, সংযুক্তার উষ্ণ ঠোঁটে। বাঁধা দিতে চায়নি আজ একবার ও

– আজ ইচ্ছে করছে না তোকে ছাড়তে ঐশী।
– কাছে থাকবো বলেই তো এসেছি ।
– ঐশী আমাদের ঠোঁটে-ঠোঁট ছুঁতে পারে না!
– আয় কাছে ।
– আজ বাঁধা দিলি না তো।
– আজ চাই তোকে খুঁব কাছে ।
অনেক মন খারাপ জমে আছে, তুই না ছুঁলে আজ ।

ঐশী কে আর কিছু বলার সুযোগই না দিয়ে এক নিশ্বাসে ঠোঁটের কোমলে হরিয়ে গেলো কিছুক্ষণ,উষ্ণ হতে থাকলো ওদের শরীর,সিক্ত হলো ঠোঁট। ঠোঁট থেকে ঠোঁট সরিয়ে ঐশীর কপাল ছুঁল সংযুক্তার ঠোঁট। বুকের মাঝে জড়িয়ে নিল ঐশী কে। সংযুক্তার বেড়ে যাওয়া হৃদস্পন্দনে ঐশীর ভালোবাসা খুঁজে পেলো । হয়ত প্রথম বার ওরা এত কাছা কাছি।

– সংযুক্তা ?
– হ্যাঁ ?
– আমায় কাছে নিবি আজ রাতে?
– ঐশী ?
– এখন বুঝি তোর আর আমাকে ভালোবাসতে ইচ্ছে করে না ?
– ঐশী ! প্লিজ । I love you ঐশী।
– তাহলে আজ । প্লিজ!

সংযুক্তার বুকে মাথা রেখে শুয়ে পরে ঐশী। সংযুক্তা ব্যস্ত ঐশীর এলো চুলে আদর করতে । খানিকটা মাথা তুলে এক হাতে সংযুক্তার গালে হাত রেখে কপাল ছুঁয়ে গালে চুম্বন করে ঐশী। সংযুক্তা ঐশীর একটা হাত চেপে ধরে চোখে চোখ রাখে।

– ঐশী?
– বল !
– পরে তোর আপশোস হবে না তো ?
– না সংযুক্তা। এই দিনের অপেক্ষা তেই তো ছিলাম ।
– তুই sure?
– I love you সংযুক্তা ।

ঐশী উঠে বসে কুর্তি খুলতে চাইলে বাঁধা দেয় সংযুক্তা। ঐশী কোনো কথা শোনে না। ঠোঁটে ঠোঁট রেখে হারিয়ে যায় দুজনে। সংযুক্তার ঠোঁট ঐশীর ঠোঁট চেপে ধরে । হাল্কা হাল্কা চাঁপে টান টান উত্তেজনা দুজনের শরীরে। ঐশীর কপালের ঘাম মুছে ঘাড়ে কাছে আদর করে সংযুক্তা। শীত্কারে আকড়ে ধরে ঐশী। ঐশীর চোখে চোখ রেখে অনুমতি নিয়ে ব্রা স্ট্রাপ নামিয়ে আনে সংযুক্তা। এলো চুলের মিছিল সরিয়ে শান্ত দৃষ্টি এনে চোখ রাখে ঐশীর চোখে , ঐশী আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে সংযুক্তাকে। ঐশী এখন সংযুক্তার বাহুবন্ধনে। প্রথম ভালোবাসা, কাছে পাওয়ার অনুভুতি দুজনেরই। সঙ্কোচ কাটিয়ে ঐশী বুকে জড়িয়ে ধরে সংযুক্তাকে। সংযুক্তা আদর করে ঠোঁট ছোঁয়ায় ঐশির কপালে। অনেক জলছবি আঁকে তারা আদরের। এতো দিনের দুরত্ব যেন নিমিসেই গায়েব। তাদের যেন কোনো দুরত্ব ই হয়নি। যদিও দুরত্ব না হলে আজকের এই ভালোবাসার অনুভুতি এতোটাও আবেগী হতো না।

– I love you সংযুক্তা । love you so much । I will never leave you again ।
– I love you too ঐশী। please dont leave me ।

চরম উত্তেজনার শেষে ক্লান্ততায় ঐশী মাথা রাখে সংযুক্তার বুকে। ঐশী কে খুব শক্ত করে জড়িয়ে ধরে সংযুক্তা। রাত কখন শেষের পথে ওরা বুঝতেও পারেনি।

রাত বেড়েছে প্রায় পৌনে চারটে,

– আজ চলে যাবি ঐশী ?
– না রে । আমরা আবার নতুন করে শুরু করতে পারি না ?
– কিন্তু ! অভীক।
– আমাদের সেপারেশন চলছে। নেক্সট মাসে ডিভর্স।
– অভীক কষ্ট পায়নি?
– না আসলে ও নিজেও পরিস্থিতি র শিকার । ওর মনে অন্য কেউ আছে ।
– ও তোর সাথে খারাপ ব্যবহার করেনি তো ?
– না রে ও জানে আমাদের ব্যাপারটা আর ও ই বলল fake id te অকাউন্ট খুলে তোর সাথে কথা বলতে।
– আর কাকু , কাকিমা ?
– জানি না ।
– তাহলে ?
– যাই হয়ে যাক। আমি আর তোর হাত ছাড়ব না সংযুক্তা। পথ ভুল করে একলা নাবিক আমি হারিয়ে গেছিলাম মাঝ সমুদ্রে ।কিন্তু খোলা আকাশের দিকে চেয়ে আবার আমি খুঁজে পেয়েছি আমার জীবনের ধ্রুবতারাকে, আর পথ ভুল হবেনা।
– সত্যি তো ?
– হ্যাঁ রে। ভালোবাসি রে খুব ।
– আমিও।

[ হয়ত হারিয়েও ফিরে পাওয়া যায়। সম্পর্কে না থেকেও ভালোবাসা যায়। কিম্তু বাস্তব খুব কঠিন। কটা প্রেম ই বা এমন হয় ? নতুন জীবনের ব্যস্ততায় পুরাতন জায়গা পায় না। আবার হয়ত পায় দুজনের ইচ্ছেতে। ]

আরো একটা দিন শেষ হতে চলল। ঘড়ির কাটা ন-টা ছুইঁ ছুইঁ । রোজের অভ্যেসে আজও তালা লাগাতে পারেনি সংযুক্তা। বাড়ি ফিরেই গলা পর্যন্ত মদ আর সিগারেট। বন্ধু, ডাক্তার সবার না বলা সত্বেও নিজের বদ অভ্যেস ছাড়তে নারাজ সে।
খুব বেশি নয় , ওই মাস সাতেক হবে । বাড়ি ছেড়ে ফ্ল্যাটে থাকে একা। খুব বেশি কোথাও যায়ও না, বন্ধু বান্ধব ও হাতে গোনা কয়েকজন। নার্সিংহোম থেকে বাড়ি এটুকুই তার ঘর থেকে বেরনো। পরিচিতি তে যদিও সে একজন ডায়েটিশিয়ান। রোজের ব্যস্ত রুটিনে বেঁধে রেখেছে নিজেকে, ইচ্ছে করেই। সারাদিনের শেষে আজ ফিরে যেন অন্য ছবি, অনেক দিন পর বই এর টেবিলে বসে গল্পের বই খুলেছে। কিন্তু পড়ার জন্য না, কি যেন খুঁজছে বই এর পাতা উল্টে পাল্টে । মিনিট পাঁচেক পর হটাৎ যেন উত্তেজিত হয়ে পাশে থাকা কাঁচের গ্লাসটায় চাপ দিতেই হাত রক্তাক্ত হয়ে ওঠে তার, তবুও ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে আছে বই এর ভাঁজে খুঁজে পাওয়া ঐশীর ফোটোটায়।
হাতের ব্যথা অনুভব হতেই পকেট থেকে রুমাল বেড় করে জড়িয়ে নেয় কোনো রকমে, টেবিল হাতড়ে সিগারেটের প্যাকেট হাতে নিয়ে বেড়িয়ে আসে বারান্দায়। রোজেরই মত আজও তার ঠোঁট পুড়ছে নিকোটিনে। প্রতিরাতই কাটে তার এই ভাবেই। আবার সকাল হয়, যান্ত্রিক ব্যস্ততা। আবার বিকেলে বাড়ি ফেরা। নিজেকে প্রশ্ন করে প্রতি রাত ” আর কতদিন কাটবে এইভাবে , তোকে মনে রেখে ? জানি ফিরবি না আর। ভালোই আছিস তাই ভুলেছিস আমায়।” ঘুমিয়ে পরে কখন সে নিজেও বোঝে না।
আবার একটা সকাল আজ। রেডি হচ্ছে নার্সিং হোমে যাওয়ার জন্য। সকাল দশটা নাগাদ বেড়িয়ে পরলো। বাড়ি ফাঁকা এখন । শুধু যিনি রান্না করেন সে থাকেন বিকেল পর্যন্ত।
বেলা গড়িয়ে দুপুর , একটা ছুইঁ ছুইঁ । কলিং বেলের শব্দে একটু অপ্রস্তুত হয়ে পড়েন কাজের মেয়েটি। দরজায় এগিয়ে এসে দরজা খানিকটা খুলে দাড়ায সে।
দরজার ওপার থেকে প্রশ্ন আসে “সংযুক্তা আছে ?”
কাজের মেয়েটি উত্তর দেয় ” না , উনি তো নার্সিংহোমে, আপনি ?”
উত্তর আসে ” আমি ঐশী, ও আসলে বলবেন আমি এসেছিলাম। “
– ” আচ্ছা!”
– ” সংযুক্তা কখন ফিরবে ? বলতে পারবেন ?”
– ” না উনার আসলে ঠিক নেই , নিজেকে নিয়ে যা করেন উনি।”
– ” মানে?”
– ” আপনি পরে জেনে নেবেন, আমার এখন কাজ আছে অনেক।”
– ” হুম, আপনি বলে দেবেন সংযুক্তাকে।”

দিনটা ছিল 29th August। শেষ দেখা তাদের। দুজনেরই জীবন বদলিয়েছে, ঐশী আর সংযুক্তা র সম্পর্কের মেয়াদ সেদিনই শেষ । সংযুক্তার বর্তমান এর অবস্থার জন্য কিছুটা হলেও ওদের দুরত্ব দায়ি।

ফ্ল্যাটে ফিরে ব্যাগ সোফায় রাখতেই কাজের মেয়েটি তাঁকে জানিয়ে দেয় আজ দুপুরে ঐশীর আসার কথা, বলে বেড়িয়ে যায়। তাই তাঁকে জিজ্ঞেস করতে পারে না আর কিছু বলে গেছে কি না।

আজ আর সংযুক্তার কোনো কিছুতে মন বসছে না। চঞ্চলতায়  একবার বেডরূম আরেকবার বারান্দায় যাচ্ছে  আসছে। বার বার খোঁজার চেষ্টা করছে আজ এতো দিন পর ঐশীর আসার কারণ। খুব সহজেই জানা যায় যদি সে ঐশী কে ফোন করে। কিন্তু বার বার ডায়াল করেও সে চেষ্টা বিফলে যায়। ঐশী হয়ত খুব ব্যস্ত এখন। এই ভেবে তার চঞ্চলতা আরো বেড়ে যায়। ঘুমের ওষুধেও ঘুম নেই আজ তার চোখে। খাট হাতড়ে ফোনটা হাতে নিয়ে গ্যালারীতে হারিয়ে যায় ধীরে ধীরে পুরোনো সময় গুলোতে। রাত প্রায় নয়টা । হটাৎ কলিং বেল বেজে ওঠে। বার কয়েক বাজার পর সেই শব্দ কানে আসে সংযুক্তার। আচমকা উঠে দৌড়ে দরজা খোলে।
জমানো বিষণ্ণতার ঘন কুয়াশা যেন ঘর ঢেকে ফেলল নিমিষে। দমিয়ে রাখা অভিমান যেন ক্ষণিকের মধ্যেই গাল ভিজিয়ে দিল তাদের নোনতা জলে। দুজনের অভিমানি মনে জমে আছে অনেক প্রশ্ন। সামলে নিয়ে নিজেদের দুজনে দুজনের দিকে তাকিয়ে ।
– ভিতরে আসতে বলবি না ?
– হ্যাঁ ! হ্যাঁ ! আয়!
– কেমন আছিস ?
– এই ধরা বাধা প্রশ্নের কি খুব প্রয়োজন ?
– না ! তবে
– কি ?
– কিছু না , থাক।
– ভালো আছিস ! ঐশী ?
– এখন কে প্রশ্ন করলো ?
– জানতে ইচ্ছে করে। ভালো লাগে শুনতে !
– হ্যাঁ ভালোই আছি ।
– হ্যাঁ ! অভীক তো ভালো রাখবেই তোকে। আমার থেকেও ও তোকে বেশি ভালোবাসে ।
– এতো আগছলো কেনো ঘর টা তোর ?
– জীবন টাই আগছলো ।
– কি ?
– কিছু না ।
– দায়ী কি আমি ?
– ছেড়ে আমি গেছিলাম ?
– কেনো ছেড়ে গেছিলাম জানিস না ?
– ভালোবাসার থেকে তোর অন্য কিছু আগে হয়েছিল সেদিন ?
– আজ ও ভালোবাসা ই আগে।
– হ্যাঁ অভিকের ভালোবাসা ।
– সংযুক্তা ?
– ভুল বলেছি কিছু ? মনে পড়েছিল তোর এতো দিন আমাকে ?
– না পড়েনি।
– জানি তো। অভীক আছে, আমাকে আর কিসের প্রয়োজন !
– আমার আসাটাই ভুল হয়েছে।
– এসেছিস কেনো ? আমি বলেছিলাম ! না ফোন করেছিলাম !
– আমি আসছি।

আজ তাদের দেখা প্রায় কয়েক মাস পর। একা থাকতে পারে না সংযুক্তা ঐশী কে ছেড়ে। তবুও তাঁকে বাস্তবটা মেনে নিতে হয়েছে। প্রতি রাত সে নেশায় ভুলে থাকে । কিছু বছর আগে তাদের কথা শেষ হতো না, সারা রাত তারা জাগত দুজনে ফোন কলে। আজ তাদের কথা বন্ধ। বড়ো একা লাগলেও, মন খারাপ হলেও ঐশী কে জানাতে পারে না সংযুক্তা। ঐশীও চেপে রাখে , বলতে পারে না সংযুক্তাকে। যদিও বরাবরের চাপা সভাবের মেয়ে ঐশী। কিন্তু সংযুক্তা তো বরাবর ই দুর্বল ।

ঐশীকে বাঁধা দিতে সপাটে দরজা বন্ধ করে দরজায় ঐশীর হাত চেপে ধরে সংযুক্তা।

– আবার যখন চলেই যাবি! এসেছিস কেনো ?
– আমি তো আজ যাব বলে আসিনি।
– মানে ?
– অনেক কথা বলার আছে তোকে।

সংযুক্তার হাত আলগা হয়ে যায়। ঐশী কে আচমকা শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ।

– আবার চলে যাবি ঐশী ?
– না !

এতোক্ষণ অভিমানে দু জন দুজন কে দায়ী করলেও আজ ও ভালোবাসা ওদের আলাদা করতে পারেনি। দুরত্ব বেড়েছে, যোগযোগ কমেছে , কিন্তু ভালোবাসা ? আজ ও একই আছে ।

– চল আগে ভিতরে।
– হুম।
ভিতরে এসে ঐশীর চোখে পরে টেবিলের সিগারেটের প্যাকেট
– সংযুক্তা ?
– হুম ?
– তুই সিগারেট খাস এখন?
আর এই ঘুমের ওষুধ ?
– না । তুই চল না ঘরে। এসব দেখতে হবে না।
– চুপ করে দাড়া এখানে।
– কেনো?
– কেনো ? কি অবস্থা তোর ঘরের ?
– আর আমার ?
– বারাবারি র একটা সীমা থাকে।
– ভুলতে পরিনি আজ ও।
– এই ভাবে ভোলা যায়?
– হ্যাঁ হয়ত।
– ও তাহলে তুই আমার অতীত কিভাবে ভুলিয়ে ছিলি? আমিও তো তোর ই মতো ।
– তোর জন্য আমি ছিলাম। আমার জন্য কেউ নেই ঐশী।
– আমি নেই?
– শুধু মনে।
– না ! আজ থেকে বাস্তবেও।
– কেনো আবার মিথ্যে আশ্বাস দিচ্ছিস ?
– মিথ্যে না ।

সংযুক্তাকে জড়িয়ে ধরে ঠোঁটে ঠোঁট রেখে এতদিনের জমানো অভিমান ,কাছে না পাওয়ার কষ্ট সব কিছু বুঝিয়ে দেয় । বৃষ্টি পড়ছে ঝিরিঝিরি।নিশির ঠান্ডা হাওয়ায় দক্ষিণা জানলায় পর্দা নড়ছে নিজের আনন্দে। ঘরের হলুদ আলো ঐশীর কানের দুলে প্রতিফলিত হয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করছে সংযুক্তার।কানের কাছের চুল সরিয়ে আবেগ ঘন ভাষায় অভিমান জানিয়ে সংযুক্তার ঠোঁট ঐশীর ঠোঁট ছুঁল। লজ্জায় ঠোঁট চাপা হাসিতে ঐশীর কুর্তির কোন সরিয়ে আলতো হাতে কোমর ছুঁয়ে কাছে টেনে নিলো সংযুক্তা ঠোঁটের কাছাকাছি।কুর্তির পিঠের হুকে আটকে যাওয়া চুলগুলোকে মুক্তি দিয়ে হুকটা আলতো হাতে খুলে ফেললো চুপিসারে। এতোদিনের জমানো কথা যেন দুজনের ঠোঁটে আবেগ খুঁজতে ব্যস্ত। সংযুক্তাকে সরানোর চেষ্টাও করলেও তবে সেটা যে ঐশীর আবেগের প্রতিফলন বুঝতে খুব বেশি সময় লাগলো না।আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে সংযুক্তা ঐশী কে ।
– কেনো চলে গেছিলি ঐশী ?
– যেতে যে আমি বাধ্য হয়ে ছিলাম।
– ভালো নেই তুই ।
– তোকে ছেড়ে কিভাবে ভালো থাকা যায়? জানা নেই আমার।
– আমিও ভালো নেই ঐশী তোকে ছেড়ে।
– জানি তো।
– কিভাবে ?
– কেনো ? ঈণ্স্টা তে রাজন্যা868 নামে যে অকাউন্ট টা!
– ওটা তুই ?
– হ্যাঁ ।
– বলিস নি কেনো ?
– জানলে হয়ত মন চাইলেও অভিমানে কথা বলতি না । আর আমিও পারি না তোকে ছেড়ে থাকতে। তাই ই তো আজ!
– কি ?
– আমি অভীক কে ডিভর্স দিচ্ছি ঐশী ।
– কেনো? অভীক তো ভালো ছেলে।
– হ্যাঁ ও সত্যিই ভালো। কিন্তু আমার ভালোবাসার মানুষ হয়ে উঠবে না ও কোনো দিন । ওকে আমি ঠকাচ্ছি।
– Love you ঐশী।
– Love you more সংযুক্তা।

কানের কাছে Love you বলে ঘাড় সিক্ত হলো ঐশীর, সংযুক্তার উষ্ণ ঠোঁটে। বাঁধা দিতে চায়নি আজ একবার ও

– আজ ইচ্ছে করছে না তোকে ছাড়তে ঐশী।
– কাছে থাকবো বলেই তো এসেছি ।
– ঐশী আমাদের ঠোঁটে-ঠোঁট ছুঁতে পারে না!
– আয় কাছে ।
– আজ বাঁধা দিলি না তো।
– আজ চাই তোকে খুঁব কাছে ।
অনেক মন খারাপ জমে আছে, তুই না ছুঁলে আজ ।

ঐশী কে আর কিছু বলার সুযোগই না দিয়ে এক নিশ্বাসে ঠোঁটের কোমলে হরিয়ে গেলো কিছুক্ষণ,উষ্ণ হতে থাকলো ওদের শরীর,সিক্ত হলো ঠোঁট। ঠোঁট থেকে ঠোঁট সরিয়ে ঐশীর কপাল ছুঁল সংযুক্তার ঠোঁট। বুকের মাঝে জড়িয়ে নিল ঐশী কে। সংযুক্তার বেড়ে যাওয়া হৃদস্পন্দনে ঐশীর ভালোবাসা খুঁজে পেলো । হয়ত প্রথম বার ওরা এত কাছা কাছি।

– সংযুক্তা ?
– হ্যাঁ ?
– আমায় কাছে নিবি আজ রাতে?
– ঐশী ?
– এখন বুঝি তোর আর আমাকে ভালোবাসতে ইচ্ছে করে না ?
– ঐশী ! প্লিজ । I love you ঐশী।
– তাহলে আজ । প্লিজ!

সংযুক্তার বুকে মাথা রেখে শুয়ে পরে ঐশী। সংযুক্তা ব্যস্ত ঐশীর এলো চুলে আদর করতে । খানিকটা মাথা তুলে এক হাতে সংযুক্তার গালে হাত রেখে কপাল ছুঁয়ে গালে চুম্বন করে ঐশী। সংযুক্তা ঐশীর একটা হাত চেপে ধরে চোখে চোখ রাখে।

– ঐশী?
– বল !
– পরে তোর আপশোস হবে না তো ?
– না সংযুক্তা। এই দিনের অপেক্ষা তেই তো ছিলাম ।
– তুই sure?
– I love you সংযুক্তা ।

ঐশী উঠে বসে কুর্তি খুলতে চাইলে বাঁধা দেয় সংযুক্তা। ঐশী কোনো কথা শোনে না। ঠোঁটে ঠোঁট রেখে হারিয়ে যায় দুজনে। সংযুক্তার ঠোঁট ঐশীর ঠোঁট চেপে ধরে । হাল্কা হাল্কা চাঁপে টান টান উত্তেজনা দুজনের শরীরে। ঐশীর কপালের ঘাম মুছে ঘাড়ে কাছে আদর করে সংযুক্তা। শীত্কারে আকড়ে ধরে ঐশী। ঐশীর চোখে চোখ রেখে অনুমতি নিয়ে ব্রা স্ট্রাপ নামিয়ে আনে সংযুক্তা। এলো চুলের মিছিল সরিয়ে শান্ত দৃষ্টি এনে চোখ রাখে ঐশীর চোখে , ঐশী আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে সংযুক্তাকে। ঐশী এখন সংযুক্তার বাহুবন্ধনে। প্রথম ভালোবাসা, কাছে পাওয়ার অনুভুতি দুজনেরই। সঙ্কোচ কাটিয়ে ঐশী বুকে জড়িয়ে ধরে সংযুক্তাকে। সংযুক্তা আদর করে ঠোঁট ছোঁয়ায় ঐশির কপালে। অনেক জলছবি আঁকে তারা আদরের। এতো দিনের দুরত্ব যেন নিমিসেই গায়েব। তাদের যেন কোনো দুরত্ব ই হয়নি। যদিও দুরত্ব না হলে আজকের এই ভালোবাসার অনুভুতি এতোটাও আবেগী হতো না।

– I love you সংযুক্তা । love you so much । I will never leave you again ।
– I love you too ঐশী। please dont leave me ।

চরম উত্তেজনার শেষে ক্লান্ততায় ঐশী মাথা রাখে সংযুক্তার বুকে। ঐশী কে খুব শক্ত করে জড়িয়ে ধরে সংযুক্তা। রাত কখন শেষের পথে ওরা বুঝতেও পারেনি।

রাত বেড়েছে প্রায় পৌনে চারটে,

– আজ চলে যাবি ঐশী ?
– না রে । আমরা আবার নতুন করে শুরু করতে পারি না ?
– কিন্তু ! অভীক।
– আমাদের সেপারেশন চলছে। নেক্সট মাসে ডিভর্স।
– অভীক কষ্ট পায়নি?
– না আসলে ও নিজেও পরিস্থিতি র শিকার । ওর মনে অন্য কেউ আছে ।
– ও তোর সাথে খারাপ ব্যবহার করেনি তো ?
– না রে ও জানে আমাদের ব্যাপারটা আর ও ই বলল fake id te অকাউন্ট খুলে তোর সাথে কথা বলতে।
– আর কাকু , কাকিমা ?
– জানি না ।
– তাহলে ?
– যাই হয়ে যাক। আমি আর তোর হাত ছাড়ব না সংযুক্তা। পথ ভুল করে একলা নাবিক আমি হারিয়ে গেছিলাম মাঝ সমুদ্রে ।কিন্তু খোলা আকাশের দিকে চেয়ে আবার আমি খুঁজে পেয়েছি আমার জীবনের ধ্রুবতারাকে, আর পথ ভুল হবেনা।
– সত্যি তো ?
– হ্যাঁ রে। ভালোবাসি রে খুব ।
– আমিও।

[ হয়ত হারিয়েও ফিরে পাওয়া যায়। সম্পর্কে না থেকেও ভালোবাসা যায়। কিম্তু বাস্তব খুব কঠিন। কটা প্রেম ই বা এমন হয় ? নতুন জীবনের ব্যস্ততায় পুরাতন জায়গা পায় না। আবার হয়ত পায় দুজনের ইচ্ছেতে। ] [ হয়ত হারিয়েও ফিরে পাওয়া যায়। সম্পর্কে না থেকেও ভালোবাসা যায়। কিম্তু বাস্তব খুব কঠিন। কটা প্রেম ই বা এমন হয় ? নতুন জীবনের ব্যস্ততায় পুরাতন জায়গা পায় না। আবার হয়ত পায় দুজনের ইচ্ছেতে। ]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *