চিঠি রহস্য

Spread the love

 689 total views,  1 views today

– কি রে কি ব্যাপার বলতো ? এই সন্ধ্যেতে ডাক পরলো ?

– আরে এসে গেছিস ? আয় বোস। 

– হুম! বসলাম। শরীর ঠিকাছে তোর ? মাথা ব্যাথা টা কমেছে কাল থেকে। 

– ধূর! ওসব ছাড়। কিছু খাবি ?

– না রে ! খেয়ে এসেছি। 

– ঠিকাছে চল ! 

– কোথায় ? 

– আমাদের চিলে কোঠায়। 

– কেনো ? প্রেমে টেমে পড়লি নাকি আমার ? 

– তোর প্রেমে ? ভবলি কি করে ! বড্ডো বিরক্ত করিস তুই। 

– সেই ! আমি তো শুধু বিরক্ত করি। চললাম আমি। 

– এই এই ঈশান ! শোন না রাগ করিস না ! 

– হ্যাঁ ! রাগ করা তো যাবে না আবার। বেস্ট ফ্রেন্ড বলে কথা। 

– চল না চিলে কোঠায়। একটা জিনিস দেখাবো।

– আচ্ছা ! চল। 

দুজনে কথা বলতে বলতে উঠতে থাকলো সিঁড়ি দিয়ে।

– সায়নি ! 

– হ্যাঁ ! বল ?

– চিলে কোঠায় এমন কি আছে ? যে তোকে এতো উত্তেজিত দেখাচ্ছে। 

– আগে চল না! 

– বেশ। চল। 

টর্চ জ্বালিয়ে চিলে কোঠার দরজা খুলে দুজনে ঢুকলো ঘরে। মাকড়সার জালে আর জানলা দরজা বহু দিন আটকে থাকায় বেশ গুমোট পরিবেশ। ধুলো দিয়ে পুরো মেঝে ঢেকে আছে। চিলে কোঠার এক কোনে থাকা একটা পুরোনো প্রায় ভাঙা একটা আলমারি থেকে ,একটা চিঠি বেড় করে আনলো সায়নি। 

– এই দেখ। 

– এটা কি ? 

– একটা চিঠি।

– হ্যাঁ ! সেটা তো বুঝতেই পারছি। কিন্তু এতে তো না হলেও এক ইঞ্চি ধুলো জমে। 

– হ্যাঁ ! কাল আমার পুরোনো আঁকা গুলো খুঁজতে গিয়ে এই চিঠি টা পেয়েছি। কিন্ত চিঠিটা দেখ পুরোনো অনেক। 

– হ্যাঁ! আর খাম টা তো বন্ধও। কেউ খোলে নি। আমাদের চিঠিটা পড়া কি ঠিক হবে ?

– এটা আমার মামার চিঠি। মামার সাথে বাড়ির কারোর সম্পর্ক নেই। তাই হয়তো চিঠিটা এখানে রেখে দিয়েছে। আমি পড়তাম না। কিন্তু দেখ চিঠির উপরে আমার নাম লেখা। 

– কই দেখি ! 

হ্যাঁ ! তাই তো। তোকেই তো পাঠিয়েছেন মনে হয়। 

– হ্যাঁ ! আর তারিখ টা দেখ ! 

– 17th জুলাই, 2009 ! প্রায় এগারো বছর আগের চিঠি ! 

– হ্যাঁ ! সেটাই তো। চিঠি টা খোল না! 

– এখানে ? খুব ধুলো।  

– ও! তোর তো আবার ডাস্ট এলার্জি আছে। চল নিচে। 

– না নিচে না ! 

– কেনো ?

– কাকু! কাকিমা ! দেখলে বকবে না ?

– হ্যাঁ! তাও তো। তাহলে ?

– চল আমার বাড়ি! 

– ঠিকাছে। তুই নীচে থাক! আমি রেডি হয়ে আসছি। 

– ঠিকাছে। 

মিনিট দশেকের মধ্যেই সায়নি রেডি হয়ে বেড়িয়ে পরলো ঈশানের সাথে। চিঠিটা পড়ার আগ্রহ দুজনেরই মনে চঞ্চলতার সৃষ্টি করছে। প্রায় এগারো বছর আগের একটা চিঠি! কি লেখা থাকতে পারে ! এই নিয়ে অনেক রকম কল্পনা ওদের মনে।  আধ ঘন্টার মধ্যে ঈশানের বাড়ি পৌছে গেলো ওরা। 

– মা ! মা ! ( ঈশান ) 

– কি রে বল ! আমি রান্নাঘরে। ( রুমেলা দেবী ,ঈশানের মা ) 

– মা ! সায়নি এসেছে। ( ঈশান)

– সায়নি কে বোসতে বল । আমি আসছি। ( রুমেলা দেবী ) 

– আমরা উপরে যাচ্ছি । ঘরে। ( ঈশান ) 

– আচ্ছা ! ঠিকাছে। ( রুমেলা দেবী ) 

[ দুজনে তাড়াহুড়ো করে ঘরে এসে বসল।] 

– কি রে ! এবার চিঠি টা পড়। 

– ঈশান! তুই খাম টা খোল। 

– তোর চিঠি আমি পড়বো নাকি?

– হ্যাঁ ! পড় । এক ই ব্যপার আমি আর তুই। 

– আচ্ছা বেশ। 

প্রায় এক ইঞ্চি জমা ধুলো সরিয়ে, ভালো করে পরিস্কার করে খাম টা ধীরে ধীরে খুললো ঈশান। অনেক পুরোনো চিঠি তাই কাগজ টা হলদে হয়ে গেছে । লেখা গুলো ও বেশ আবছা। কয়েকটা লাইন ছাড়া সব লেখা পড়া সম্ভব হলো না ওদের।

” আদরের সায়নি , 

                 জানি না কেমন আছিস ! আশা রাখি ভালো আছিস। অনেক দিন তোকে দেখিনি। তোর মামা হয়েও তোর সাথে সময় কাটানোর ইচ্ছে মুছে দিয়েছে সবাই। দিদি , মানে তোর মা ও আজকাল আমাকে মনে করে না। তুই তো এখন অনেক ছোটো তাই সংসারের মরপ্যাচ তুই বুঝবিনা। বড়ো হলে বুঝতে পারবি কেনো আর তোদের বাড়ি যাই না। আর কেনোই বা তুই তোর মামা বাড়ি তে এলেও আমাকে খুঁজে পাস না। সব জানতে পারবি একদিন। আচ্ছা শোন তোকে একটা বলি। শুধু তোকেই জানাতে চাই, তাই চিঠিতে তোর নাম লিখ্লাম। 

আমার একটা কবিতার খাতা আছে। লুকনো। তোর মামাবাড়ি তে। চাই না সেই লেখা গুলো অন্য কারোর নামে হোক। তাই জত্নে রেখেছি। কিন্তু পাবলিশার্স এর কাছে যাওয়ার মতন সামর্থ্য আমার আর নেই। তাই তুই বড়ো হলে যদি আমায় ভুলে না যাস। তাহলে সেই লেখা গুলো কোনো পাবলিশার্স র কাছে  নিয়ে যাস। পারলে আসিস আমার বাড়িতে। তোর আঠেরো বছর হলে। ততদিন বেঁচে থাকলে ” 

এর বেশি আর একটা লাইন ও ওদের পড়ে ওঠা সম্ভব হলো না। দুজনের দুজনের দিকে বিস্মিত চোখে তাকিয়ে কিছুক্ষন।

– সায়নি ?

– ঈশান ? 

– তুই কি ভেবেছিলি চিঠি টা নিয়ে ?

– আমি তো ভেবেছিলাম যে কেমন আছি সেই খোঁজে কিংবা অন্য কিছু । এটা তো একদম ই ভাবিনি রে। 

– তোর মামা লেখক ছিলেন ?

– হ্যাঁ ! শুনেছিলাম লেখা লেখি করে আর কি। 

– এতো দারুন ব্যাপার। 

– হ্যাঁ ! কিন্তু। 

– কি ! আবার কিন্তু কেনো ?

– কি করবো ভাবছি। 

– কেনো ? চল তোর মামার বাড়ি। 

– বাবা, মা ? 

– বলতে হবে না ! বলবি আমার সাথে ঘুরতে যাচ্ছিস। 

– দাড়া আজ ভাবি একটু। 

– ঠিকাছে। কিন্তু! 

– কি ? 

– বলছি যে তোর মামা লেখা গুলো লুকিয়ে রেখেছেন কেনো? ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রাম এ পোস্ট করতে পারতেন। 

– আরে পাগল! সেই সময়ে ফেসবুকে পোস্ট করবে ? তোর মাথা খারাপ ? মামার বয়স জানিস ! এখন হলে পঞ্চাশের কাছা কাছি হবে। 

– ও! হ্যাঁ ! sorry sorry ।

– পাগল একটা সত্যি। 

– হ্যাঁ! তোর কাছেই। ভালোবেসে। 

– কি ? কিছু বললি ?

– না ! না তো। 

– আচ্ছা আমি এখন যাই । রাতে কথা হবে। 

– এই দাড়া! 

– কেনো ? 

– মা বললো ডিনার করে যেতে ।

– ঠিকাছে। নীচে চল! 

– না , একটু থাক না। 

– না , কাকিমা র কাছে চল। 

– আচ্ছা চল। 

– কি রে তোরা এসেই তরিঘড়ি করে ছুটলি কেনো ? ( রুমেলা দেবী)

– মা আসলে একটা কাজ ছিল। ( ঈশান )

– আচ্ছা। কেমন আছিস সায়নি ? ( রুমেলা দেবী ) 

– হ্যাঁ ! ভালো আছি। তুমি ভালো আছো ? ( সায়নি ) 

– হ্যাঁ ! রে। বাড়িতে সবাই ভালো তো ? ( রুমেলা দেবী ) 

– হ্যাঁ ! কাকিমা। 

ডিনার টেবিলে তিন জনে একসাথে ডিনার করে বেশ জমিয়ে মজা করে বাড়ি ফিরল সায়নি। ঈশান গাড়িতে করে ছেড়ে আসে সায়নি কে। গাড়ি থেকে নামার সময় সায়নির হাত চেপে ধরে ঈশান। 

– সায়নি ? 

– বল ? 

– ( কিছু ক্ষণ চুপ থেকে) রাতে ফোন করিস। 

– হ্যাঁ ! পৌছে ফোন করিস। 

– ঠিকাছে। সাবধানে থাকিস। 

– তুই ও। Bye 

– Bye 

বাড়ি ফিরে ঈশান ফোনে জানিয়ে দেয় তার বাড়ি ফেরার কথা। বেশ রাত পর্যন্ত ওরা কথা বলে। আজকে ওদের কথার মাঝে বেশিরভাগ সময়তেই কথা হয়েছে সেই চিঠি টা নিয়ে। শেষে দুজনে ঠিক করে ওরা সায়নির মামার বাড়ি যাবে। 

– মা ! শোনো! ( সায়নি ) 

– বল রে । একটু ব্যস্ত আছি এখন। 

– মা ! এই রবিবার আমি আর ঈশান একটু বেরোবো। 

– কোথায় যাবি ?

– সেটা ও জানে । কাল বলবে বলেছে। 

– ঠিকাছে যাস। আর শোন! 

– বলো! 

– এবার ওকেই বলে দে ।

– কি ?

– যে তুই ওকে ভালোবাসিস। 

– না এখন না। ধূর যাও তো। 

– আচ্ছা আচ্ছা বুঝেছি। 

– হুম।  

ঈশানের সাথে কথা বলে ওরা বেড়িয়ে পরে সায়নির মামা র বাড়ির উদ্দেশ্যে। বাড়িতে জানায় যে ওরা ঈশানের কাকুর বাড়ি যাচ্ছে। 

[ কি অপেক্ষা করে আছে সায়নি আর ঈশানের জন্য ! আসুন দেখা যাক। ]

রবিবার দুপুর , সায়নির মামা অর্থাৎ হিমাংশু দেব বর্মন এর পাঠানো চিঠিতে একটা আলাদা ছোটো কাগজে বাড়ির ঠিকানা লেখা ছিল। শুধু সেই ঠিকানার উপরেই ভরসা করে ওদের গাড়ি ছুটছে। ঠিকানায় লেখা কেবল গুপ্তিপাড়া, বর্ধমান। রাজেন্দ্র নিবাস। 

– ঈশান ! 

– বল ?

– আর কতোদুর ?

– এই তো কাছা কাছি। এবার বাড়ি টা কোথায় জিজ্ঞেস করে নিতে হবে।

– এখন আমরা কোথায় ?

– বর্ধমান এ ঢুকে গেছি। গুপ্তিপাড়ায় জাস্ট ঢুকলাম। 

– খিদে পেয়েছে। 

– কি ? এক-দেড় ঘন্টা আগেই তো লাঞ্চ করলি। 

– তাতে কি ? 

– আচ্ছা দাড়া দেখি ধাবা কোথায় পাই। তাহলে খেয়ে নেবো কিছু আর বাড়ি টাও জেনে নেবো। 

– ঠিকাছে। 

দুজনে একটা ধাবা দেখে নামলো কিছু খাওয়ার জন্য। সায়নির বায়নায় এই অবেলায় লুচি, ছোলাবাটোরা অর্ডার দিল ঈশান। 

– ঈশান ! কি ঠিক করলি ?

– ভাবছি এখানেই কাউকে জিজ্ঞেস করবো।

– হ্যাঁ ! কর তাই। 

– দাড়া। কাউকে তো সেরম দেখছি না। 

– ওই তো ছেলে টা আসছে। 

– হুম! দেখি। 

– ভাই ! ও ভাই ! এদিকে শোনো একবার! ( ঈশান) 

– হ্যাঁ ! বলেন দাদা ! 

– বলছি রাজেন্দ্র নিবাস টা কোনদিকে বলতে পারবে ?

– হ্যাঁ ! এই তো । সোজা যাবেন , প্রথম বায়ে মুড়বেন, রাস্তাটা যেখেনে ধাক্কা খাবে সেই খেন থেকে আবার বায়ে গিয়ে একটা ভাঙা মন্দির পাবেন । সেই মন্দিরের একেবারে গায়ে লেগে এই বাড়ি টা।

– আচ্ছা ধন্যবাদ। ( ঈশান) 

– কি রে  ! বুঝলি ? ( সায়নি)

– হ্যাঁ ! চল ! (ঈশান)

– কি ! খাবি না ? ( সায়নি) 

– ও ! হ্যাঁ। উত্তেজনায় ভুলে গেছিলাম ( ঈশান) 

– বুঝলাম। 

দুজনে তড়িঘড়ি খাওয়া শেষ করে আবার রওনা দেয়। ছেলেটার বলে দেওয়া রাস্তা ধরে এগিয়ে যেতে থাকে ওরা।  ভাঙ্গা মন্দিরের সামনে এসে দাঁড়ায়। খুব একটা অসুবিধা হয়নি ওদের।  মন্দিরের সামনে একটা পুরনো বট গাছের আড়ালে রাজেন্দ্র নিবাস। শেষ পর্যন্ত খুব একটা অসুবিধা ছাড়াই ওরে এসে পৌঁছায় ওদের গন্তব্য স্থানে। বেশ পুরোনো বাড়ি, অধিকাংশই অশ্বত্থ গাছের অধিকরে। কয়েকটা ইট খসে পরেছে। জানালার পাল্লা গুলো কোনোরকমে যেন আটকে আছে পেরেকে। ওদের পৌছাতে পৌছাতে প্রায় সন্ধ্যে হয়ে গেছে। বিদ্যুতের কোনো বন্দবস্ত নেই এই গ্রামে। গ্রামের সবাই সন্ধ্যে হলে পিদিম জ্বালায়। 

[ কি হতে চলেছে এরপর ? আসুন দেখি। ] 

– ঈশান ! 

– বল ! 

– গাড়ি থেকে আমার ব্যাগটা নামাস। 

– আচ্ছা। তুই এগো আমি বাগ দুটো নিয়ে আসছি।

– আচ্ছা। 

– সাবধানে যাস । উঁচু নিচু জায়গা। টর্চটা জ্বালিয়ে নিস। 

– আচ্ছা রে বাবা। 

সায়নি টর্চ নিয়ে এগিয়ে যায় বাড়ির মুল ফটকের দিকে। 

– কেউ আছেন ? ,,,, মামা ? ,,,, কেউ শুনতে পারছেন ? ( সায়নি) 

– কি রে ? ( ঈশান) 

– কেউ তো নেই মনে হয়। ( সায়নি) 

– তোর মামা ? ( ঈশান )

– কেউ তো কোনো সাড়া দিচ্ছে না।( সায়নি) কি করি ?

– চল ভিতরে। ( ঈশান ) 

– আরেকবার ডাকি ? ( সায়নি) 

– হুম ! ডাক। ( ঈশান) 

– কেউ আছেন ? আমরা কলকাতা থেকে এসেছি। কেউ আছেন ? 

বার কয়েক ডাকা ডাকি র শেষে , মুল ফটকের দরজা খুলে ধুসর চাদরে আপদমস্তক ঢাকা এক ব্যক্তি। হাতে লণ্ঠন নিয়ে এগিয়ে এলো ওদের দিকে। চেহারা ছবি বেশ গা ছম ছমে। বেশ গম্ভীর স্বরে বললেন, 

– কারা তোমরা ? 

– আজ্ঞে ! আমি ইশান , ও সায়নি। 

– কি চাই ?

– আমরা হিমাংশু বাবু র সাথে দেখা করতে চাই। 

– কার সাথে ?

– হিমাংশু বাবু। 

– কেনো ? তোমরা জানো না উনি মারা গেছেন দু-বছর আগে। 

– কি ? মামা ! মারা গেছে ? ( সায়নি ) 

– হ্যাঁ ! 

– আপনি এই চিঠিটা দেখুন। ওকে ডেকেছিলেন হিমাংশু বাবু। ওর মামা হন। 

– আমি দেখে কি করবো ? 

– আমাদের এই বাড়িতে থাকার একটু ব্যাবস্থা করে দিলে খুব ভালো হয়। 

– এখানে ? এই বাড়িতে কেউ থাকে না। আলো নেই, খাবার নেই।

– ঠিকাছে আপাতত একটা ঘর খুলে পরিস্কার করে দিন ?

– তোমরা আসো ভিতরে। আমি দেখছি। 

– ধন্যবাদ। 

সায়নি চল ! 

– হ্যাঁ ! চল। 

ঈশান কথা বলে আপাতত রাতের জন্য একটা ঘরের ব্যাবস্থা করে নিল। আজকের রাতটা কোনোরকমে তারা সেই ঘরেই থাকবে। খাওয়ার কোনো ব্যাবস্থা নেই, অগত্যা তাদের ব্যাগে যা বিস্কুট আছে সেই দিয়েই ডিনার করতে হবে। 

ঘরে খুলে মোটা মুটি রকম পরিস্কার করে দিল লোকটি। ঘরে ঢুকে মোমবাতি বেড় করে জ্বালালো ঈশান। সায়নির আবার অন্ধকারে ভুত দেখাঢ় মতো ভয়। 

– ঈশান ? 

– বল ? কি হলো ? 

– এরম অন্ধকারে থাকতে হবে ? 

– হ্যাঁ ! আলো কোথা থেকে পাবো ?

– জানি না ! ভয় করছে। ঈশান ? 

– এই এতো চিৎকার করিস না ভুত থাকলেও সে পালাবে। 

– ঈশান! ভালো হবে না কিন্তু।

সায়নি ভয়ে জড়িয়ে ধরে ঈশানকে ।অন্ধকার মেখে ওদের ঘর। কেবল দুরে ধীমি ছন্দে খানিক আলোর উৎস মোমবাতি। 

– যাক ভগ্গিস লাইট নেই। 

– কেনো ? 

– এই যে জড়িয়ে ধরে আছিস।

– ভয় করছে । চুপ করবি! 

– আমি আছি তো। জড়িয়ে ধরে থাক আর ভুত আসবে না। 

– ঈশান ! 

– হুম ! আচ্ছা দাড়া আমি সব মোমবাতি জ্বালিয়ে দিই। আর জানি অন্ধকারে তোর ভয় লাগবে তাই পোর্টেবল এমার্জেন্সি লাইট এনেছি। 

– এতোক্ষন বললে কি হতো ?

– এমনি তে তো জড়িয়ে ধরবি না আমাকে। তুই তো 

– কি ?

– কিছু না। 

– হুম। 

ইশান ভালোবাসে সায়নি কে , বলতে পারেনি এখনো। কিন্তু সায়নি বুঝেও ওদের সম্পর্কটা কেবল বেস্ট ফ্রেন্ডেই বেঁধে রেখেছে। আর ঈশান! প্রিয় বন্ধু কে হারাবার ভয়ে ,লুকিয়ে ভালোবাসে সায়নি কে । 

এমার্জেন্সি লাইট টা অন করে, ওরা শুয়ে পরলো খাটে। দুজনেই ক্লান্ত খুব এতো টা রাস্তা ড্রাইভ করে এসে। তার উপর আবার ডিনারে শুধু বিস্কুট। ঘুমিয়ে পড়েছিল দুজনই। মাঝ রাতে গরমে ঘুম ভেঙে যায় ঈশানের। পাশ ফিরে দেখে সায়নি ঘুমাচ্ছে। জানলা দিয়ে মাঝে সাঝে বেশ ঠান্ডা হাওয়া এসে ঘরের গুমোট পরিবেশে কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছিল । সেই হাওয়ায় সায়নির চুল এসে পড়ছিল ওর মুখে, বিরক্ত করছিলো ঘুমের। ঈশান আলতো আঙুলে সায়নি র চুল কানের পাশে সরিয়ে দিতেই সায়নির ঘুম ভেঙে আধো আধো চোখে তাকায় ঈশান এর দিকে। সঙ্গে সঙ্গে ঘুমানোর অভিনয়ে শুয়ে পরে ঈশান। 

– ঈশান ! 

– জেগে ? ঘুমাস নি ? 

– তুই তো ঘুমাস নি! 

– না ! তুই তো ডাকলি ! 

– আমার চুল তাহলে কানের পাশে কে গুঁজে দিল ? 

– জেগে ছিলি ?

– হুম ! 

– আচ্ছা ঘুমিয়ে পর। 

– ঈশান ! 

– হুম  বল ? 

– ভালোবাসিস আমায় ? 

– হটাৎ ? 

– (ঈশানের হাতে হাত রেখে ) বল না !

– বুঝিস না ?

– হুম ! বুঝি। কিন্তু! 

– কি ? বল ! 

– সম্পর্কে জড়ালে যদি তোকে হারিয়ে ফেলি ? ভালোবসি তোকে আমিও , কিন্তু তুই হারিয়ে গেলে যে আমার প্রিয় বন্ধু ও হারিয়ে যাবে । 

– আমি কেনো হারাবো সায়নি ? 

– জানি না। 

– তোকে 11 থেকে চিনি। কলেজ আলাদা হলেও আমাদের বন্ধুত্বে কি কোনো ফাঁক ছিল! বল ?

– না ! তাই তো তোকে হারাতে চাই না। 

– আরে পাগলি। আচ্ছা ! যেদিন আমাকে হারানোর ভয় পাবি না সেদিন ই ভালোবাসি বলিস।

– হারানোর ভয় না থাকলে ভালোবাসি বলা যায় না ঈশান। 

– জানি! আমিও তো তাই তোকে কখনো মুখে বলিনি। 

– আজ বলবি একবার ঈশান ?

– সায়নি ! 

– শুনতে চেয়েছি আগেও। 

– কি হয়েছে বলতো আজ তোর ?

– তখন যখন তোকে জড়িয়ে ধরলাম ভয়ে। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যে ভয় টা কেটে গেলেও তোকে ছাড়তে ইচ্ছে করছিলো না। 

– হুম বুঝেছি। আয়। ( সায়নি কে দীর্ঘশ্বাসে জড়িয়ে ধরে ঈশান।) 

– একবার বল ! 

– ( আলতো করে সায়নি র কপালে ঠোঁট ছোঁয়ায় ঈশান) ভালোবাসি তোকে সায়নি। 

– আমিও ঈশান। 

– এবার ঘুমা। কাল সকালে তোর মামার লেখা গুলো খুঁজতে হবে। 

– হুম ! Good night

– Good night 

অবশেষে ওদের সম্পর্কে একটা নতুন মোড় আসলো। দুজনেই এই অপেক্ষায় থাকলেও সাহস করে দুজন দুজন কে বলে উঠতে পারেনি। আজ হয়তো পরোক্ষ ভাবে সায়নি র মামা র দৌলতেই ওদের সুযোগ হয়েছে এক হওয়ার। 

সকাল হতেই দরজার ধাক্কাতে ওদের ঘুম ভেঙে গেলো। এতোক্ষণে কলকে রাতের চাদর মুড়ি দেওয়া লোকটার গড়ন দেখতে পেলো দুজনে। নাম জিজ্ঞেস করায় বলল ” নরেন “। নরেনের সাথে আরও একজন । পরিচয় করানোর পর বোঝা গেলো সে রান্না র জন্য এসেছে। ব্রেকফাস্টএ লুচি তরকারি র ব্যাবস্থা করতে বলে সায়নি স্নানে গেল। আর ঈশান হিমাংশু বাবুর পড়ার ঘরে। 

হিমাংশু বাবুর বই এর সম্ভার দেখে বেশ অবাক পাশাপশি খুশি ও হলো ঈশান। পড়ার টেবিলের উপরে একটা ডায়েরি। খুলে পড়তে বসল চেয়ারে ঈশান। ডায়েরিটা খুলতেই একটা চিঠি পরে গেল টেবিলের নিচে। কৌতূহল ভরে চিঠিটা তুলে নিয়ে দেখে এই চিঠিটাতেও সায়নি র নাম লেখা। অবাক হয়ে ভাবতে লাগলো। চিঠিটা নিয়ে দৌড়ে ঘরে ঢুকল ঈশান। কিন্তু এদিকে সায়নি সবে স্নান সেড়ে বেরিয়েছে ঘরে। অপ্রস্তুত হয়ে পরে দুজনে। ঈশান ঘাবড়ে গিয়ে বেরিয়ে যেতে চাইলে সায়নি আটকে দেয়। খানিক ধীরে লজ্জার সুরে বলে,

– ওদিক ঘুরে দাড়া । যেতে হবে না, আমার হয়ে এসেছে। 

ঈশান ঘাড় নাড়িয়ে সম্মতি জানায়। কিছুক্ষণ পর সায়নির ডাকায় পেছনে ফেরে ঈশান। খোলা ভিজে চুল আর কুর্তিতে, কাজল পরতে ব্যাস্ত সায়নি কে দেখে সে ক্ষণিকের জন্য ভুলেই গেছে তার উত্তেজিত হয়ে ঘরে ছুটে আসার কারণ। সামনে এসে দাঁড়ায় সায়নী।

– কি রে ? বল ! 

– কি বলবো ?

– খুব সুন্দর লাগছে তোকে। 

– এইটা বলতে এসেছিলি ?

– ভুলে গেছি। 

– কি অবস্থা তোর। হাতে কি ওটা ?

– কোথায়?

– তোর হাতে ! ওটা কি ?

– ও ! চিঠি। হ্যাঁ এটা দেখানোর জন্যই তো এসেছিলাম।

– কিসের চিঠি ?

– তোর মামার লেখা তোকে ।

– আমাকে ! 

–  হ্যাঁ , তোর নামে তো লেখা আছে দেখ।

–  হ্যাঁ তাইতো। পড়েছিস চিঠিটা ? 

– না তোর নামে চিঠি আমি পড়বো ! 

– আচ্ছা এখন তাহলে খামটা খোল। 

– হুম দাড়া ।

   ” আদরের সায়নি , 

    আগের চিঠির কোনো উত্তর পেলাম না। দু-বছর ধরে অপেক্ষা করে আছি তোর আসার। আসলি না। তাই চিঠিতেই লিখে রেখে যাচ্ছি। কিন্তু এবার আর পাঠাবো না, হয়তো তোর কাছে পৌছায়নি চিঠিটা। যদি আসিস তাহলে ঠিক পাবি এই চিঠিটা। আর কদিন বাঁচব জানি না, বেঁচে থাকতে লেখা গুলো দেখে যেতে পারলাম না তাই আর চাহিদা টাও আর নেই। যাইহোক। যদি এই চিঠিটা তুই পরিস। তাহলে চিঠির খামে রাখা আরেকটা কাগজ আছে। সেই কাগজে লেখা আছে আমার লেখার খাতার ঠিকানা। খুঁজে বার করিস। 

ভালো থাকিস। আমার আশীর্বাদ সব সময় তোর জন্য থাকবে।

                                                            ইতি, তোর প্রিয় মামা ” 

চিঠিটা পড়ে দুজনেই বেশ উত্তেজিত। চিঠিতে উল্লেখ করা কাগজটা খাম থেকে বের করে অনলো সায়নি। 

– ঈশান ! 

– দে কাগজ টা ।

– হুম । 

– কি লেখা ?

– এতো ধাধা কয়েকটা ।

– ধাধা?

– হ্যাঁ রে । পুরো অ্যাডভেঞ্চর। 

– সেই রে তোর এই মোটা মাথায় ধাধা ঢুকবে।

– চেষ্টা তো করি। 

– আচ্ছা প্রথম ধাধা টা পর আগে। 

– হুম। শোন।

” ঈশান কোণের খানিক বামে, 

যে ব্যক্তি দাড়িয়ে আছে।

খুঁজে নাও মিত্র তার ,

যে নাকি ঘোড় শোয়ার।” 

– এটা আবার কি ? ( সায়নি)

– এটা তো খুব সোজা। ( ঈশান) 

– কি করে ? ( সায়নি ) 

– দেখ। ঈশান কোণ! মানে আমাদের ঘরের দিকটাই কিন্তু। 

– কিন্তু কোন তলায় কি ভাবে বুঝবো। 

– এখানে লেখা “যে ব্যক্তি দাড়িয়ে” খুব সম্ভবত কোনো মূর্তি থাকবে। চল গিয়ে দেখি। 

– হ্যাঁ! চল। 

দুজনে ধাধা র সন্ধানে ভুলেই গেলো ব্রেকফাস্ট এর কথা। খাওয়া ভুলে ওরা এখন ধাধা সমাধানে ব্যাস্ত। আপাতত ধাধা পড়ে ওদের মনে হয়েছে, ধাধায় ইশারা করা জায়গাটা খুব সম্ভবত ওদের ঘরের আশেপাশেই হবে। 

দেখা যাক তাহলে এখন । ওরা কি খুঁজে পায়। 

– এই সায়নি! এখানে তো সেরকম কিছু নেই। কোনো মূর্তি তো নেই। 

– এটাই ঈশান কোণ তো?

– হ্যাঁ ! উত্তর আর পুর্ব , হ্যাঁ ! এটাই তো ঈশান কোণ। 

– তাহলে অন্য তলা গুলো দেখা যাক ?

– হ্যাঁ ! চল। 

– নিচে একবার দেখে এলে হয় না?

– হুম চল। 

ওরা দুজনে নীচে নেমে এলো, ধাধা র সন্ধানে ওরা তিন তলা থেকে এক তলা এমন কি ছাদে ঘুরেও শেষ মেষ আবার ওদের ঘরের সামনেই এসে দাড়ালো। 

– কোথাও তো কিছূ পেলাম না রে ঈশান। 

– দাড়া ভাবতে হবে। এতো সোজা জিনিস ও বুঝতে পারছি না! 

– “ঈশান কোণের খানিক বামে , যে ব্যক্তি দাড়িয়ে আছে ” ! 

– এক সেকেন্ড। 

একটা ফটোর দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে ঈশান। 

– সায়নি ?

– কি রে ? কি দেখছিস ?

– ফোটো টা দেখ। 

– কি দেখব! 

– ভালো করে দেখ। 

এই ফোটো টা বাড়ির ঈশান কোনের কিছু টা বাম দিকে আর একটা লোক পাশে ঘোড়ায়। ধাধা র শেষ দু-লাইনে কি লেখা ছিল? 

“খুঁজে নাও মিত্র তার ,

যে নাকি ঘোড় শোয়ার।” 

– তার মানে ?

– হুম ! যেটা ভাবছিস। ভুল না ও হতে পারে। চল ফোটোটা নামাই। 

– ok 

ধাধার লাইনের সাথে এই ফোটো ফ্রেমের এতো মিল দেখে সন্দেহ হয় ওদের। তাই সন্দেহের বশেই ওরা ফোটো ফ্রেম টা নামায়। 

আদৌ কি উত্তর মিলবে ধাধার ? 

– দাড়া আস্তে নামা। বড্ডো ভারী। লেগে যাবে তোর।

– না না! এই ঈশান ! তুই ওই দিক টা ধর। 

– হ্যাঁ! হ্যাঁ ! এখানে রাখ। 

এবার এটার পেছন দিক টা দেখ তো। কিছু আছে ? 

– হ্যাঁ ! হ্যাঁ ! 

– কি ?

– একটা কাগজ। 

– কাগজ! ওটা হাতে নিয়ে এটা দেওয়ালে হেলান দিয়ে রাখ। 

– আচ্ছা। 

– কি লেখা আছে ?

– ” সায়নি ! তোর সামনে আরেকটি ধাধা। আশা রাখি খুব একটা অসুবিধে হয়নি এই কাগজ টা খুঁজে পেতে। এবারের টাও সহজ ই। 

সুর্যাস্তের খানিক আগে,

যে রং খানি আকাশ মাতে,

সেই রং এর চাবি খানিই 

আমার শব্দের বাঁধন খোলে। ” 

– এবার কি তাহলে চাবি খুঁজতে হবে ?

– হ্যাঁ ! তাই তো মনে হচ্ছে। 

– তাহলে চল ! দেখি।

– সায়নি ! আমরা চাবি কি করে পাবো ?

– চেয়ে নেবো। 

– দেবে আমাদের ? 

– দেখা যাক। 

– কিন্তু চাবি আবার রঙিন ! 

– হুম ! সেটা যে ভাবছি না। তাও নয়। 

এতোক্ষণে ওদের খাওয়ার টেবিলে ডাক পড়েছে। 

– ঈশান ? চল আগে খেয়ে আসি।

– হুম! চল।

– খেয়ে পরে ভাববো। 

– হুম। চল। 

দুজনে ব্রেকফাস্ট করার পর এই ধাধা নিয়ে আবার ভববে ঠিক করে। কিন্তু ইশানের মাথায় ধাধার লাইন গুলোই বার বার ঘুরছে। খাওয়ার সময় সে নরেন কে জিজ্ঞেস করে,

– আচ্ছা নরেন তোমার দাদাবাবু মানে হিমাংশু বাবু কোন ঘরে বেশি থাকতেন ?

– আজ্ঞে ! পড়ার ঘরে। দো-তলায়। বই নিয়েই থাকতেন।

– আচ্ছা । ঠিকাছে তুমি এখন যাও। 

– এই ঈশান ! কি ব্যাপার ?

– দরকার আছে। চাবি গুলো দেখতে হবে।

– হ্যাঁ ! চল। আমার খাওয়া শেষ। 

ব্রেকফাস্ট শেষ করে নরেনের কাছ থেকে চাবির গোছা গুলো নিয়ে দুজনে ঘরে গিয়ে গুছিয়ে বসল। 

– ঈশান ! 

– হুম বল ?

– এখানে তো এমন কোনো চাবি নেই রঙিন।

– দেখ সুর্যাস্তের আগে আকাশের রং হয় লাল বা কমলা। 

– হুম! তো ?

– এই একবার তোর মামার পড়ার ঘরে চল তো।

– কেনো ?

– চল আগে। 

– আচ্ছা চল। 

সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠে ওরা পৌছালো হিমাংশু বাবুর পড়ার ঘরে। চেয়ারে বসে পরলো ঈশান। চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বই গুলো দেখতে থকলো ঈশান। কি যেন একটা খুঁজছে। 

হটাৎই চোখ পরে বই এর তাকে একটা লাল মলাটে মোড়ানো একটা বই এর দিকে। কৌতূহলী হয়ে ছুটে গিয়ে বই টা নিয়ে আসলো টেবিলে। বই এর উপরে লেখা ” চাবি”। আনন্দে চিৎকার করে উঠলো পেয়েছী বলে। 

– সায়নি! পেয়েছি! 

– কি ! 

– এই যে । চাবি। 

– মানে ?

– লাল বই , উপরে লেখা চাবি। মেলাতে পারছিস ?

– হ্যাঁ ! হ্যাঁ ! উফ্ফ ঈশান তুই কবে থেকে এতো চালাক হলি বলতো ! 

– যেদিন থেকে হাত ধরেছিলিস। 

– হুম ! এবার দেখ তো কিছু পাস কিনা! 

– হুম ! দাড়া। 

এই একটা কেমন যেন লেখা পেলাম। কিছুই তো এটা বুঝতে পারছি না।

– কি দেখি ?

– এই দেখ ! 

– কতো গুলো নম্বর ! 

” 2, 14, 4 , 6 , 12 , 15 , 15 , 18 

1, 19 , 20 18, 15 , 15 , 13 , 

3, 15, 18 , 14 , 5 , 18 , 20 , 1 , 2 , 12 , 5 , “

– হুম ! 

– কি ভাবছিস ? 

– নম্বর গুলো। চল একটু ঘুরে আসি বাইরে। 

– 2, 14, 4, 6 ! হ্যাঁ চল ।

– সায়নি ! দাড়া! 

– বল ?

– তোর ইংলিশ এলফাবেট মুখস্ত ?

– হ্যাঁ ! কেনো ?

– লেখ তো একটা কাগজে। আর নিচে নম্বর লেখ। বুঝেছিস?

– হ্যাঁ ! wait! 

– ok! 

– এই নে ধর। কি করবি বলতো ! 

– দে কাগজ টা ।

কাগজ কলম নিয়ে কাটা কুটি করতে ব্যাস্ত হলো ঈশান। আসলে নম্বর গুলো কি শুধুই নম্বর ! নাকি কোনো তথ্য! 

– সায়নি ?

– হ্যাঁ রে ! বল ! 

– তোর মামা একজন জিনিয়াস !

– মানে কেনো ?

– এটা একটা তথ্য। এই দেখ। এলফাবেট অনুযায়ি সাজা। 

” 2 nd floor

1st room 

corner table ” 

– OMG ! 

– হুম ! চল ! 

ভীষণ উত্তেজনা হচ্ছে না ! এবার মনে হয় মামার লেখা গুলো ওর পেয়েই যাবে ! ওরাও বেশ উত্তেজিত। 

ধাধার উত্তর খুঁজে পাওয়া তথ্য অনুযায়ি ওরা দো-তলার প্রথম ঘর খুলে কর্নার এ রাখা একটা টেবিলের দিকে এগিয়ে গেল। টেবিল টা ফাঁকা। কিন্তু ধারালো কিছু দিয়ে কিছু একটা লেখা। 

– ঈশান দেখ! কিছু একটা লেখা ! 

– কই দেখি ! 

হ্যাঁ! তাই তো। 

” মনের আকাশে মেঘ জমেছে ,

বসন্তে তাই আকাল বৃষ্টি ।

শূন্য মনে একা লাগলে ,

ভরসা কেবল জীবনানন্দের সৃষ্টি। ” 

– আবার একটা ধাধা?

– হুম ! কটা বাজে রে ? 

– কেনো ?

– আজ ই তো ফিরতে হবে।

– এগারোটা বাজে। 

– ও ! দাড়া একটা সিগারেট খেয়ে আসি। মাথাটা ধরেছে।

– ঈশান?

– বল ! 

– সিগারেট খাবি না ।

– কেনো ?

– আমি না করেছি তাই।

– প্লিজ ! মাথা ব্যথা করছে।

– ঈশান! না । 

– একটা ! 

– না ! এদিকে আয়! 

– কি হলো ?

ঈশান কে কাছে ডেকে জড়িয়ে ধরে ঠোঁটে ঠোঁট ডুবিয়ে দিল সায়নি। 

– সিগারেট খাস না ঈশান ! 

– হুম ! ঠিকাছে। আর খাবো না । কথা দিলাম।

– হুম।

– কিন্তু ! এটা চাই।

– আচ্ছা! দেখা যাবে।

– না চাই! 

– তুই ধাধা টা নিয়ে ভাব।

– হ্যাঁ! আচ্ছা একবার আবার পড়ার ঘরে চল তো।

– হুম ! চল।

আবার পড়ার ঘরে কেনো বলতো ?

– জীবনানন্দ এর সব বই গুলো নামা তো। 

– দাড়া এক মিনিট।

– হুম! 

– ধর একটু। 

– দে ! 

আর কটা আছে?

– আর তো নেই! 

– ঠিকাছে নেমে আয়। 

– একটাই বই?

– হ্যাঁ ! তাই তো পেলাম।

– ধাধার মানে হলো মন খারাপে তার সঙ্গি জীবনানন্দ।

– হুম! তো ?

– ওই জন্য ! এই বই টা নামালাম ।

– খুলে দেখ বইটা ।

– দাঁড়া দেখছি ! 

কিন্তু বইটাতে তো কিছু নেই ! মানে নরমাল বই 

– তাহলে ! 

– আচ্ছা তুই যেখান থেকে বইটা নামালি সেখানে আর কিছু ছিল ?

– না খেয়াল করিনি তো।

– আচ্ছা ঠিক আছে আমি দেখছি দাঁড়া ।

বইটা যেখানে রাখা ছিল ঈশান সেখানে চিরুনি তল্লাশির মতো খুঁজতে লাগলো। অবশেষে একটা ডায়েরি খুঁজে পেলো ঈশান। 

– কি পেলি ? 

– ডায়েরি। 

– খোল ডায়রি টা ।

ডায়েরির উপরে লেখা ,

” অবশেষে খুঁজে পেলি আমার কিছু লেখা।” 

– ঈশান ?

– Yes! we did it

– Thank you ঈশান! 

– Thank you ? আমাকে ?

– না না ! একদম না। 

– হুম ! thanks তো আমার , তোর মামা কে বলা উচিত।

– কেনো ?

– এই চিঠির রহস্য সন্ধানে না এলে তো আমি তোকে পেতাম না। 

– আমি তো তোর ই ছিলাম।

– হ্যাঁ! তবে স্বীকার করে না ! 

– হুম ! 

– সায়নি ! 

– বল ? 

– I love you 

– I love you more Ishan 

অবশেষে চিঠি রহস্য সমাধান হলো। আর ওরা ওদের মনের কথা এবার দুজন দুজনকে বলতে পারলো। বলা বাহুল্য এই চিঠি রহস্য ওদের অনেকটা কাছে এনে দিল। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *