বন্ধুত্ব নাকি প্রেম

Spread the love

 2,144 total views,  1 views today

হ্যাঁ রে বল !

  • শোন না! একটা দারুন জায়গার খোঁজ পেয়েছি। যাবি ?
  • কোথায়  রে?
  • সাইন্স সিটি থেকে 30 km দুরে। একটা বেশ সাজানো গ্রাম।
  • তোর হটাৎ গ্রামে যাওয়ার জন্য মন কেমন করছে? কি ব্যাপার ?
  • আরে নামেই গ্রাম, কি দারুন সাজানো । এই জাস্ট দেখলাম Youtube এ।
  • ওহ্ !
  • যাবি ! যাবি ?
  • হ্যাঁ যাওয়া যেতেই পারে।
  • এই সত্যিই ?
  • হ্যাঁ রে বাবা। উফ্ফ !
  • কাকিমা বকবে না ?
  • না না । মা কে একটু ম্যানেজ করিস ।
  • আচ্ছা বেশ ।
  • কবে যাবি ?
  • তুই বল !
  • চল তবে রবিবার । কলেজ ও নেই ।
  • হ্যাঁ ! একদম ।
  • Ok bye রে । বাবা ডাকছে।
  • হ্যাঁ! সাবধানে থাকিস।
  • হ্যাঁ! তুই ও।
  • পরে কথা হবে , bye ।
  • Bye

দুজনে ঠিক করে ফেলে ঘুরতে যাওয়ার দিন এবং জায়গা দুটোই। ঘুরতে প্রচন্ড ভালোবাসে দীপ আর একেবারেই উল্টো প্রীতি । প্রীতি বই প্রেমী আর দীপের নেশা ঘুরতে যাওয়া। তবে সেটা শুধু প্রীতির সাথেই। Youtube, facebook দেখে ঘুরতে যাওয়ার ডেস্টিনেশন খুঁজে বেড়ায় দীপ আর তারপর রাজি করায় প্রীতি কে। এবারে দীপের প্রথম চেষ্টাতেই রাজি হয়ে যায় প্রীতি। ব্যাপারটা বেশ অবাক করে দীপ কে।

আবারও রাজি করিয়ে নেয় কাকিমা কে। কাকিমাও খুব ভালোবাসে দীপ কে। ক্লাস 12 থেকে ওরা বেস্ট ফ্রেন্ড । তাই বাড়ি থেকে ওদের মেলামেশা টা সবারই পছন্দ। যদিও সম্পর্কের ব্যপারে কেবল প্রীতির দিদি ই শুধু জানে।

রবিবার সকাল সকাল বেড়িয়ে পরে দুজনে। আটটা নাগাদ রওনা দেয় নিজেদের গাড়ি তে।

  • কি রে! Adress জানিস তো ঠিক থাক?
  • হ্যাঁ জানি ।আর না জানলেই বা ক্ষতি কি ? তোর সাথে হারিয়ে যাব না হয় ।
  • হ্যাঁ! থাক অনেক প্রেম হয়েছে।
  • আজ ও এরম করবি? একটু বেশিই প্রেম হোক না।
  • হ্যাঁ ! সব হবে।
    এই গান টা চেঞ্জ কর তো !
  • হুম ! চালা না পছন্দ মত ! রবীন্দ্র সঙ্গীত তো!
  • হ্যাঁ ! পেন ড্রাইভ টা আনিস নি ?
  • আনবো না আবার ! ওই দেখ না ড্যাসবোর্ডে আছে।
  • হ্যাঁ ! পেয়েছি ।

হ্যাঁ ! পেয়েছি ।

  • এই এই প্রীতি?
    –  বল !
  • আইসক্রিম খাবি ?
  • হ্যাঁ ! অবশ্যই । কোথায় ?
  • চল দেখি সামনে ঠিক কোনো দোকান পেয়ে যাবো!
  • বাটার স্কচ কিন্তু খাবো না এবার!
  • হ্যাঁ জানি । চকলেট ই খাবি।
  • তুই ?
  • তুই জেটা খাবি সেটাই খাবো ।
  • আচ্ছা ।
  • তুই দেখ একটু কোনো দোকান চোখে পরে কিনা?
  • হুম দেখছি।

ঘন্টাখানেক ধরে একনাগাড়ে চলছে গাড়ি । সাইন্স সিটি পেড়িয়ে ঘটকপুকুরের দিকে ছুটছে গাড়ি। আশে পাশের গাড়ির চাপ এখন বেশ অনেকটাই কম । রোদ ও উঠেছে বেশ । রাস্তার দুই ধারে ঘন গাছের ছায়ায় রৌদ্রের তাপটা সেই অর্থে অনুভুত হচ্ছে না।

  • দাড়া দাঁড়া!
  • কি রে কি হলো ?
  • আরে ধুর আইসক্রিমের দোকানটা পেছনে ফেলে এলাম ।
  • তুই না সত্যিই ! আগে বলবি তো ! গাড়ি পিক আপে আছে । এরম ভাবে ব্রেক চাঁপা যায় ? অ্যাক্সিডেন্ট হয়ে যাবে তো।
  • বকছিস কেনো ?
  • আচ্ছা বাবা sorry! আমি ব্যাক করছি তুই লক্ষ রাখ।
  • এই তো! থামা !
  • চল নাম। আমি পার্ক করে আসছি।
  • হুম okay ।

বেশ বড়ো একটা গাছের নিচে গাড়ি টা পার্ক করলো দীপ। প্রীতির ছেলেমানুষি স্বভাব বেশ প্রিয় তার। আইসক্রিম এর নাম শুনলেই সব ছেড়ে সে আইসক্রিম ই খাবে । কান্ড দেখে মাঝে সাঝে হেসে ফেলে দীপ, দীপ কে হাসতে দেখে রেগে যায় প্রীতি। এই রাগটাও খুব পছন্দ দীপের। রাগ কমানোর জন্য প্রীতি কে জড়িয়ে ধরে বলে ” আমি না থাকলে কে এমন ভাবে তোকে রগাবে ?” দীপের কথায় প্রীতি মন খরাপ করে বলে ” না তুই থাকবি আমার সাথেই । কোথাও যাবি না ।”
দুজনের সম্পর্ক বেশ মিষ্টি।মজা , আনন্দ, ঘুরতে যাওয়া, ইয়ার্কি করা, মন খারাপ সব কিছুরই সঙ্গি দুজন দুজনের। 
এতক্ষণে ডাক পড়েছে দীপের।

  • দীপ! দীপ ! তোর পার্ক করতে এতো সময় লাগে ?
  • আরে যাচ্ছি দাড়া ।
    এই তো এসে গেছি বল!
  • এই নে !
  • এতো গুলো ! কে খাবে ?
  • কেনো ! যেতে যেতে একটা একটা করে খাবো ।
  • পাগল রে এতো গরমে গলে যাবে রে।
  • এরম করছিস তো ? কথা বলবো না যা ।
  • আহ্ ! রাগ করছিস কেনো ?
  • তাতে তোর কি ?
  • আচ্ছা বাবা রাগ করিস না। ঘুরতে এসেও রাগ করবি ?
  • তাহলে দে আইসক্রিম গুলো।
  • আচ্ছা বাবা ঠিকাছে।
  • বৌদি ! এই আইসক্রিম গুলো দিন তো!
    কতো হলো !
    এই নিন ।  ( দীপ )
  • দীপ !
  • বলো  ?
  • কি সুন্দর রে জায়গাটা !
  • আর কি সুন্দর দেখলি,  যেখানে যাব ঠিক করেছি
    মানে সুন্দর গ্রাম , অসাধারণ জায়গা
  • এর থেকেও সুন্দর ?
  • হ্যাঁ অবশ্যই
    –  দীপ !
  • বল !
  • একটা সত্যি কথা বলবো ?
  • আরে বল এত ইমোশনাল কেন !
  • জানিস তোর সাথে ঘুরতে যেতে খুব ভালো লাগে ।
    –  ওরে বাবা ভূতের মুখে রাম নাম !  কি ব্যাপার বলতো আজ হঠাৎ ?
  • ধুর ! কিছুই বলবো না তোকে আর একটুও বুঝিস না !
  • কি বুঝব ?
    –  এই যে তোকে কত ভালোবাসি আমি !
  • তাই কতটা ভালোবাসিস ?
  • সেটা বুঝি বোঝানো যায় ?
  • যায় তো !
    –  কিভাবে?
    –  এই যে আইসক্রিম নিয়ে বায়না আমার কাছেই ,মন খারাপ হলে সবার আগে আমাকে জানাস ,কোনো ভালো আনন্দের খবর পেলে সেটা সবার আগে আমাকেই বলিস ,
    সবকিছুতেই আমাকে যে আগে রাখিস  ।
  • হুম  ।
  • কি হয়েছে বলতো তোর আজ ?
    –  কই কিছু না তো  ।
  • না ! কিছুতো একটা হয়েছে ?
    –  আরে না  ।
  • আমাকে বলবি না ?
  • দ্বীপ ! তুই চলে যাবে নাতো আমাকে ছেড়ে ?
  • ধুর পাগলী!  এসব কেন বলছিস ?
  • সব সম্পর্ক দেখি ভেঙে যায় , তাই তোকে হারানোর ভয়টা আজকাল !

প্রীতি !

  • বল ?
  • তোর কি কখনো মনে হয়েছে আমি তোকে কষ্ট দিয়েছি ?
    –  না না বরং অনেকটা কষ্ট কমিয়েছিস  ।
  • তাহলে ?তোকে ছেড়ে কখনো যেতে পারি আমি ?
    –  ভালোবাসি তো ! তাই হারানোর ভয়টা ,

দীপ কাছে এসে জড়িয়ে ধরে প্রীতি কে

  • তোকে ছেড়ে কোনদিনও যাবো না প্রীতি ।

ওরা আবার রওনা দেয় সুন্দর গ্রামের উদ্দেশ্যে  । আরো প্রায় কুড়ি কিলোমিটার যেতে হবে , বেলা ক্রমশ বেড়ে চলেছে সূর্য তেজ ও চড়া  । দুপুর দেড়টা ছুঁইছুঁই , অনেকটা কাছাকাছি চলে এসেছে সুন্দর গ্রামের ।

  • আর কতদূর রে ?
  • এইতো এসে গেছি ।
    –  চিনতে পারবি ?
    –  না মনে হয়,  কাউকে জিজ্ঞাসা করতে হবে । রাস্তায় কোন লোক দেখলে বলিস তো জিজ্ঞাসা করে নেব একবার ।
  • হ্যাঁ হ্যাঁ ঠিক আছে
    এই দ্বীপ দেখ একটা লোক আসছে  ।
    –  কোথায় ?
    –  ওই তো ওই দিকে !
  • আচ্ছা দাঁড়া জিজ্ঞেস করি একবার ।

দাদা ও দাদা শুনছেন এই যে এদিকে দাদা ?
–  হ্যাঁ বলুন  ?

  • আচ্ছা আমরা সুন্দরী গ্রামের দিকে যাব, কোন দিক দিয়ে যেতে হবে ?
  • সোজা গিয়ে বাঁ দিকেযান , দেখবেন একটা চার মাথার মোড় আছে , সেখান থেকে বাম দিকে যাবেন  । রাস্তাটা যেখানে গিয়ে ধাক্কা মেরেছে !  সেটাই সুন্দর গ্রাম  ।
    –  আচ্ছা ধন্যবাদ দাদা  ।

লোকটার কথা অনুযায়ী ওদের গাড়ি আবার চলতে শুরু করলো  । চারমাথা মোড় থেকে বাম দিকে গিয়ে একটা রাস্তা পেল ।
শেষে এসে পৌছালো তারা সুন্দর গ্রামে । অভূতপূর্ব দৃশ্য চারিদিকে শুধু সবুজে সবুজ, যেন সবুজের কার্পেট বিছানো । মাটির প্রলেপ দিয়ে সুন্দর করে সাজানো সুন্দর গ্রামের গেট । ঘাসের উপরে কংক্রিটের স্ল্যাব বিছানো .ঢুকেই ডানদিকে রিসিপশন  ।প্রীতি আর দ্বীপ দুজনে গেল রিসিপশনে একটা ঘর বুক করার  ।

  • প্রীতি ! প্রীতি !  কিরে কোথায় গেলি ?
  • এই দেখ আকুরিয়াম টা দেখ দীপ! কি দারুন ।
  • তুই এদিকে আয় আগে ।
  • কেনো ?
  • লাঞ্চ এর অর্ডার টা দিতে হবে তো।
  • ও ! কি নিবি ?
  • ওই জন্যেই তো তোকে ডাকলাম।
  • এক কাজ কর । প্লেন মাংসের ঝোল , ডাল , আলু ভাঁজা, বেগুন ভাঁজা আর এক প্লেট ভাত নে। অনেক দিন বাঙালি খাবার খাওয়া হয় নি।
  • হ্যাঁ
  • হ্যাঁ ।
  • স্যার আপনাদের ঘর এই সোজা গিয়ে ডান দিকে ।
  • Okay ।
  • এই নিন ঘরের চাবি , ঘরের নাম বাতাস।
  • okay ।
  • প্রীতি! চল ।
  • হ্যাঁ চল, গরম লাগছে। ড্রেস চেঞ্জ করতে হবে।
  • হুম।

ঘরে ঢুকে বাথরুমে গিয়ে চেঞ্জ করতে চলে যায় প্রীতি। দীপ বারান্দায় এসে দাড়ায় । চারিদিকের সৌন্দর্য উপভোগ করে। বিকেল হয়ে আসছে। ঘর থেকে প্রীতির ডাকে ভিতরে ঢুকল দীপ। ঘরে ঢুকেই প্রীতি কে দেখে আবারও প্রেমে পড়ে যায় নতুণ করে। সে চোখ সরাতেই পারছে না ,খোলা ভিজে চুল মুছতে ব্যস্ত  , চুলগুলো প্রীতির চোখে ঠোঁটে এসে পড়ছে বার বার  আর জল ছিটে আসছে দীপের কাছে । ভিজে ঠোঁট, কাজল ছাড়াই যেন ঘন কালো চোখের আকর্ষন প্রীতির চোখে। আর সামান্য ফাঁক করা ঠোঁট, উপরের ঠোঁট থেকে নিচের ঠোঁটটা বেশি ভেজা যেন । হারিয়ে ফেলেছিল নিজেকে মূহুর্তের জন্যও ।
প্রীতির ডাকে দীপের নেশা কাটলো।

  • কি রে দীপ! আরে কি হলো তোর ?
  • হ্যাঁ ! হ্যাঁ ! কিছু বললি ?
  • তোকে দশ মিনিট ধরে ডাকছি । কোথায় হারিয়ে গেছিলি !
  • না ! না ! বল ?
  • চেইন টা আটকে দে, পিঠে হাত যাচ্ছে না।
  • আমি ?
  • হ্যাঁ ! কেনো ?
  • না মানে !
  • আটকে দে চেইন টা দীপ !
  • হ্যাঁ ! দাঁড়া।
    দীপ এগিয়ে আসে প্রীতির পিঠের চেইন টা আটকাতে। প্রীতির আধ খোলা পিঠে সে হাত দিতে একটু লজ্জা ই পায় তবে তার থেকেও বেশি তার স্পন্দন বেড়ে যায়। সামান্য চেন আটকাতে সে পাঁচ মিনিট লাগায়। চেন টা আটকানো মাত্রই দীপ প্রীতিকে জড়িয়ে ধরতে যাবে তখনই দরজায় কারোর নক করার শব্দ শুনে অপ্রস্তুতিতে পরে যায় দীপ। প্রীতি ব্যাপারটা আন্দাজ করতে পেরে মুচকি হেসে দীপের কানের কাছে এসে বলে
    ” রাতে দীপ । “
    দীপ নার্ভাস হয়ে যায় কিছুটা, সে ঘামছে এই এসি তেও। ঘন ঘন চোখের পলক পড়ছে। দীপ এর এই অবস্থা দেখে হেসে ফেলল প্রীতি।
    দরজা খুলে লাঞ্চটা রেসিভ করে বিল মিটিয়ে ওরা বারান্দায় এসে বসে লাঞ্চ করবে বলে।
  • কি রে দীপ ! তুই কি লাঞ্চ করবি না ?
  • হ্যাঁ ! করবো তো !
  • আয় তাহলে ।
  • হুম যাই। জল টা খেয়ে আসি ।
  • আমার জন্যেও নিয়ে আয় তো জলের বোতল টা ।
  • এই নে ধর।
  • কি খাবি বল আগে ?
  • ডাল টা খাই আগে।
  • এই লাঞ্চ করে কি ঘরে থাকবি?
  • না না বাইরে বসার জায়গা আছে । ওখানেই যাব। বেশ অন্ধকার ও নামবে তখন ।
  • তারপর ?
  • কি তারপর !
  • কিছু না । গাধা একটা।
  • শোন না তোর কোলে মাথা রেখে একটা কবিতা শোনাব তোকে আজ!
  • হ্যাঁ ! একদম।

লাঞ্চ সেরে ওরা ঘুরতে বেরোয় । কনক্রিটের স্লাব এর উপর দিয়ে হেটে যেতে যেতে এখন ওরা ভেজা ঘাসের উপর দিয়ে হেটে চলেছে । প্রীতির আঙ্গুলের ফাঁকে দীপ নিজের জায়গাটা করে নিয়েছে ইতিমধ্যে। হাটতে হাটতে এসে পৌছেছে ওরা একটা বসার জায়গায় । খড়ের ছাউনি র নিচে মাটির মেঝেতে বসে প্রীতি আর প্রীতির কোলে মাথা রেখে শুয়ে পরে দীপ।

  • এই!
  • বল ?
  • একটা গান শোনা না প্রীতি!
    (দীপের চুলে বিলি কাটতে কাটতে প্রীতি বলে )
  • কি গান শুনবি বল ?
  • ” যদি আরো কারে ভালোবাসো “
  • কেনো রে ? তোর আছি শুধু ভালো লাগছে না ?
  • আরে রাগ কেনো করছিস ? খালি গান ই তো বললাম!
  • না । অন্য গান বল ।
  • আচ্ছা ” সেদিন দুজনে “?
  • বেশ ।

দীপের আবদারে প্রীতি গান ধরে। প্রীতির গান শুনতে বড্ড ভালোবাসে দীপ।

  • এই এবার আমায় কবিতা শোনা !
  • হুম শোনাব তো ।
  • কি বিষয়ে ?
  • তুই ।
    প্রেমিকা তোমার অর্ধস্নাত কেশরাশি যেন বৃষ্টি ভেজা সিক্ত রাতের কোমল অন্ধকার।
    প্রেমিকা তোমার মুখখানি ঠিক শরতের ভেসে যাওয়া মেঘ ।
    যেখানে নেই কোনো অভিমানী বৃষ্টি, নেই স্থিরতার বিন্দুমাত্র রেশ।
    প্রেমিকা তুমি চঞ্চল বড্ড!
    যেনো উড়ে বেড়ানো প্রজাপতি।
    তোমার সরল মধুর হাসি,
    আমার হৃদ স্পন্দনের তিব্রতা

আমার হৃদ স্পন্দনের তিব্রতা বাড়ায় ।
যখন তোমার পায়ের শব্দ আসে,
মন মাতানো শিঞ্জিনী ধ্বনি!
ত্বাড়িত সুরে ভালোবাসা জানাও
আঙ্গুলের ফাঁকে আঙ্গুল রেখে,
খুব আদরে যখন বুকেতে জড়িয়ে নাও!
প্রেমিকা তোমার ঘামে ভেজা শরীরের গন্ধ লেগে থাকে আমার শরীরে ,
তোমার বুকের উষ্ণতায় নেশা লেগে যায় যখন আমায় খুব আদরে জড়িয়ে নাও হৃদয় আবরণে।

কবিতা শেষ হতেই প্রীতি আলতো ভাবে দীপের কপালে ঠোঁট ছোঁয়ায়। অন্ধকার নেমে এসেছে । অন্ধকারেই দীপ ,প্রীতির হাত বুকে রেখে চোখের দিকে তাকিয়ে থাকে অনেক্ষন।

  • প্রীতি !
  • বল !
  • আমাকে ছেড়ে চলে যাবি না তো?
  • না রে । কোনোদিন না।
  • আমি তোকে ছেড়ে থাকতে পরবো না রে ।
  • এরম কেনো বলছিস দীপ ! তোকে ভালোবাসি ।
  • আমরা কি কাছে আসতে পারি প্রীতি ?
  • দীপ ! আমি তো তোর কাছেই আছি।
  • না কিছু না ।
  • বল ?
  • এই যে আমি তোকে ফিজিক্যাল রিলেশন এর কথা বলি ? তুই এসব পছন্দ করিস না তাও।
  • আরে এটা নর্মাল ব্যাপার।
  • তাহলে আমি কাছে আসার কথা বললে এড়িয়ে যাস কেনো ?
  • দীপ ঘরে চল। অন্ধকার হয়ে এসেছে।
  • হুম! চল ।

দীপের হাতে হাত গলিয়ে কাঁধে মাথা রেখে ওরা হাটতে হাটতে ঘরে এসে পৌছায় ।

  • ডিনার কি করবি ?
  • জানি না ।
  • কি রে ?
  • কি ?
  • মূড অফ কেনো !
  • তোর জেনে কি ?
  • এরম করছিস আমার সাথে ?
  • ভালো লাগছে না ।
  • কি হয়েছে ?
  • কিছু না ।

ঘরের লাইট অফ করে পর্দা টেনে খাটে দীপের পাশে এসে বসে প্রীতি।

  • লাইট অফ করলি কেনো ?
  • কেনো ! তোর তো অন্ধকার ই ভালো লাগে।
  • হ্যাঁ ! অন্ধকারেই তো থাকতে হবে।
  • দীপ ! আমি আছি তো।

কাছে এসে দীপ কে জড়িয়ে ধরে প্রীতি। অভিমানে দীপ সরিয়ে দিতে চাইলে আরো কাছে বুকে জড়িয়ে নেয় দীপ কে। প্রীতির বুকে মাথা রেখে কেঁদে ফেলে দ্বীপ।

  • কি রে কাঁদছিস কেনো বাচ্চা দের মতো ?
  • আমাকে ছেড়ে চলে যাবি না তো ?
  • না রে গাধা।
  • আর আমি যদি কখনো তোকে !
  • কি ?
  • না না কিছু না
  • বল ?
  • না
  • বলবি না আমায় ?
  • প্রীতি ! তোকে আমার খুব কাছে পেতে ইচ্ছে করে।
  • হুম ।
    তোকে যখনই বলি তখন ই এড়িয়ে যাস।
  • কোথায় এড়িয়ে গেলাম?
  • এই তো ।
  • Love you Deep । তুই তো সবটাই জানিস।
  • হ্যাঁ জানি বলেই কখনো তোর কাছে যেতে চাইলেও পারিনি ।
  • হুম । কিন্তু কখনো নিজের অনুভুতি চেপে রাখবি না।
  • আমাকে যে রাখতেই হবে।
  • কেনো ?
  • তোর ইচ্ছের বিরুদ্ধে ! পারবো না রে।
    প্রীতি ?
  • বল !
  • তোর আমার কাছে আসতে ইচ্ছে করে না ?
  • না ! মানে সেই ভাবে ভাবিনি ।
  • হুম । তোকে তো ভালোবাসি প্রীতি ! তাও তোর কাছে যেতে পারবো না ? তাহলে কার ঠোঁটে ঠোঁট রাখবো ? কার বুকে মাথা রাখবো !
  • হুম !
  • আজ একবার !
  • কি ?
  • তোর ঠোঁটে !
  • Love you

প্রীতির ঠোঁটে আলতো ভাবে ঠোঁট ছোঁয়ায় দীপ। প্রীতির আঙ্গুলে আঙ্গুল রেখে শক্ত করে চেপে ধরে প্রীতির হাত। প্রীতির ঠোঁটে ঠোঁট ডুবিয়ে দেয় দীপ। দীপের শরীর কাঁপছে, ঘেমে যাচ্ছে শরীর তবুও সে আদর করতে ব্যস্ত । প্রীতির ঠোঁট পরে ঘাড় সিক্ত করে দীপ । ঠোঁটের আলতো স্পর্শে কেঁপে ওঠে প্রীতি ও। ঘাড় থেকে ধীরে ধীরে কাঁধে চুম্বন করে দীপ। চোখ বুজে হারিয়ে যেতে থাকে প্রীতি। কাঁধ থেকে ব্রা আলতো করে নামিয়ে দিতে প্রীতি লজ্জা পেয়ে সরে যায় খাটের এক পাশে। প্রীতির পিঠে আদর করতে থাকে দীপ।

প্রীতির পিঠে আদর করতে থাকে দীপ। পিঠের চেইন খুলে চুম্বন করতে থাকে সে । প্রীতির কন্ঠে “দীপ” নাম টা শুনে ভয় পেয়ে যায় দীপ। তাকায় চোখের দিকে। দীপের দৃষ্টি বদলিয়েছে। প্রীতির বুকের উপর থেকে জামা সরাতেই শক্ত করে জড়িয়ে নেয় সে দীপ কে। বুকে ঠোঁট ছোঁয়াতেই প্রীতি কেঁপে উঠতে থাকে। এভাবেই খুব কাছে ওদের প্রথম ঘনিষ্ট সম্পর্ক হয়।
আদর শেষে ক্লান্ত যখন দুজনেই । দীপ জড়িয়ে নেয় প্রীতি কে ওর বুকে । এলো মেলো চুল সরিয়ে দেয় । মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে থাকে।
দীপের মনে হতে থাকে যেন সে ভুল করেছে । আবেগের বশে হয়তো সে কষ্ট দিল প্রীতি কে।

  • প্রীতি ?
  • হুম ! বল ?
  • রাগ করেছিস ?
  • না তো ।
  • আমি আজ তোর ইচ্ছের বাইরে গিয়ে !
  • Love You Deep ।
  • আমাকে ছেড়ে চলে যাবি না তো প্রীতি ?
  • না রে।
  • আমি কি ভুল করলাম ?
  • না দীপ ।
  • প্রীতি !
  • বল ?
  • ভাবছি কাকু কাকিমা কে এবার জানাবো ।
  • এখন ই ?
  • তোকে ছেড়ে থাকতে ইচ্ছে করে না আর ।
  • আগে বাড়িতে কথা বল !
  • আমার মা তো জানে ।
  • হুম । ঠিকাছে

কথা বলতে বলতে ঘুমিয়ে পরেছে দুজনেই । সারা রাত দীপের বুকে মাথা রেখেই কাটলো প্রীতির।
গ্রাম্য পরিবেশ। সকালে মুরগির ডাকেই ঘুম ভঙলো দুজনের। প্রথমে প্রীতি উঠে একটু লজ্জা পেয়ে উঠতে যাবে কিন্তু দীপ আরো কাছে জড়িয়ে ধরল প্রীতিকে।

  • কিরে! ছাড় আমাকে ।
  • না
  • আরে পাগল সকাল হয়ে গেছে। বাড়ি ফিরতে হবে তো!
  • না আর দশ মিনিট প্লিজ?
  • স্নান করবো দীপ। টাইম লাগবে ।
  • না তাহলে হাম্পি দে !
  • কাল রাতে আদর করলাম হয় নি ?
  • না আজ ও চাই ।

দীপের কানের পাশে কিস করে উঠে পরে প্রীতি। রেডি হয় বাড়ি ফেরার জন্য। ঘন্টা দেড়েকের মধ্যে তারা বেড়িয়ে পরে বাড়ি ফেরার উদ্দেশে।

[ এই ছিল দীপ আর প্রীতির দুষ্টু মিষ্টি প্রেমের কিছু মুহুর্ত নিযে একটা ছোটো গল্প ।]

4 Replies to “বন্ধুত্ব নাকি প্রেম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *